ডন বজলুকে বিএনপি কর্মী: ‘নির্বাচনের জন্য আমাদের আরও দুটি অস্ত্র দরকার’

ডেস্ক রিপোর্ট

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে অবৈধ অস্ত্র মজুত নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

২১ জানুয়ারী বুধবার দুপুর থেকে ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়। তবে ভিডিওটি কখনকার, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয় সহ জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলু দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কর্মীদের মধ্যে একজনকে বলতে শোনা যায়, নির্বাচন সামনে রেখে সোনারগাঁ এলাকায় প্রচুর অবৈধ অস্ত্র মজুত করা হচ্ছে। পাশে বসা আরেক কর্মী বজলুকে বলছেন, ‌‘নির্বাচনের জন্য আমাদের আরও দুটি অস্ত্র দরকার।’ তাদের কথোপকথনে অবৈধ অস্ত্র মজুতের বিষয়টি উঠে এসেছে।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে নেমেছেন ডন বজলু ও তার সহযোগীরা। গিয়াস উদ্দিন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য। অবৈধ অস্ত্র মজুত নিয়ে আলোচনা করা প্রত্যেকে এই প্রার্থীর হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিএনপি নেতা ডন বজলু অনুসারীদের নিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে খেতে অবৈধ অস্ত্র মজুতের কথা বলেন

এ বিষয়ে জানতে বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলুর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কেউ যদি অবৈধ অস্ত্র মজুত বা অস্ত্র ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে। আর দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনি প্রচারণা করলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান আহম্মেদ বলেন, ‘ওই ভিডিওটি দেখেছি। যাচাই-বাছাই করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গত বছরের ২৯ জুন বন্দরের হরিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলুর উপস্থিতিতে তার লোকজন বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুলকে প্রকাশ্যে হেনস্তা করেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনায় ডন বজলুকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামলা আছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মদতের কারণে তাকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন