সান নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ-২(আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ বেশ বিপাকে রয়েছেন। এ আসনের তিনবারের সাবেক এমপি এম আতাউর রহমান খান আঙ্গুর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন ভোটের শেষঅবধি মাঠে লড়াই করবেন। যদিও আজাদ অনুগামীরা এলাকায় প্রচার করছেন আঙ্গুর নির্বাচন থেকে বসে পড়ছেন। কিন্তু এটা নিছক অপপ্রচার বলে জানিয়েছেন আঙ্গুর।
তবে সূত্র বলছে, এম আতাউর রহমান খান আঙ্গুরকে ১৩ জানুয়ারী মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু আঙ্গুর সেখানে যাননি। কারন তিনি ভোটে নামার আগেই দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন বলে জানিয়েছেন আঙ্গুর। সেই সাক্ষাতেই তারেক রহমানকে আঙ্গুর জানিয়ে এসেছেন তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন। দল তাকে বহিষ্কার করলেও তার কোনো আপত্তি নাই।
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহামুদুর রহমান সুমন, কেন্দ্রীয় মহিলাদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নুরু মিয়া। আজাদকে মনোনিত করা হলে তার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে উপরোক্ত ৪জন নেতা একেজোট হয়েছিলেন। আঙ্গুর স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও তার পেছনে উপরোক্ত সকল নেতাদের সমর্থন রয়েছে বলেও অনেকে মনে করছেন। তা ছাড়াও আড়াইহাজারে আঙ্গুরের ব্যক্তিগত ভোটেই আজাদের চেয়ে এগিয়ে থাকছেন আঙ্গুর।
১৪ জানুয়ারী বুধবার এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুর নেতাকর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “ মঙ্গলবার একটি ঝড়-তুফান গিয়েছে। বসাই দিছি, আর কিছুক্ষণ পর বসে যাবে। কিন্তু টাইম বলে নাই, কিছুক্ষন পরে মানে ২১ তারিখের পরে। এসব কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত ও হয়রানি করার পাশাপাশি আমাকেও হয়রানি করা হয়েছে। যাতে আমি কোন দিকে যেতে না পারি।”
তিনি আরও বলেন, “ওইযে আগে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, পাঁচটা নয়টা চেয়ারম্যান লইয়া গেছে গা, মেঘনা দিয়ে চরে নিয়ে গেছে। ঘটনা কালকে নিরব হয়ে গেছে। আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। অনেকে বলতাছে উনি বসে যাবে। আমি তো বসে যাবার জন্য দাঁড়াই নাই। যারাই বলছে এটা সঠিক বলে নাই। আমি আছি, থাকবো এবং নির্বাচন করবো ইনশাআল্লাহ।”
তিনি বলেন, “আপনারা নিরাশ হবেন না। এবং এমন ধারণা করবেন না যে, উনি বুঝায় আমাদের ছেড়ে যাবে। আপনারা যখন আমাকে দাঁড় করাইছেন, আমি থাকবো, নির্বাচন করবো। এবং আপনারা যদি সবাই আগ্রহ নিয়ে কাজ করেন তাহলে আমাদের জয় নিশ্চিত ইনশাআল্লাহ। আমি প্রত্যাশা করি আপনারা আমার পাশে থাকবেন, টেলিফোনে কথা বলে জানতে পেরেছি মার্কা ২১ তারিখে পাওয়া যাবে। এবং মার্কা পাওয়ার পরে আমরা ভালোভাবে নামবো ইনশাআল্লাহ।”
সাবেক এমপি আঙ্গুর বলেন, “আপনারা আসছেন যেহেতু তাই কথা বলছি। এখন মিটিং মিছিল করা নিষেধ। আমরা মিছিল মিটিং করলাম না। একটি ঘরোয়া মিটিং করলাম যে, আমরা আছি থাকবো এবং আপনারা ভালো থাকেন। সবাই দোয়া করবেন।”
তিনি বলেন, “এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে। কিন্তু আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। প্রয়োজনে আমাকে বা আমার লোকজনকে বলবেন। আর আমি চেষ্টা করছি যে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হয়। আমি যোগাযোগ রাখছি নির্বাচন অফিসারের সাথে, নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু হবে বলে আমাকে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে সন্ত্রাসীদের দমনে কর্যক্রম শুরু হয়েছে, এটি চলমান থাকবে। কাজেই যারা আজকে আটক হয়েছে তারা নির্বাচনের আগে আর আসতে পারবে না।”


