অনলাইনে আইপিএল জুয়া: আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ থেকে জুুয়ার দুই এজেন্ট গ্রেপ্তার

সান নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:

র্যাব-১১ এর অভিযানে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ হতে অনলাইন জুয়ার দুই এজেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৭ মে শুক্রবার বিকেলে এ তথ্য জানান র্যাব-১১ এর কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুুপার জসিম উদ্দীন চৌধুুরী।

তিনি জানান, ৬ মে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় র্যাব-১১, সিপিএসসি, আদমজীনগর নারায়ণগঞ্জের অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধীন প্রভাকরদী বাজার এলাকায় অনলাইন জুয়ার এজেন্ট মোঃ শহীদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার দখল হতে অনলাইনে অবৈধ জুয়া খেলায় ব্যবহৃত বিভিন্ন মডেলের ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৭ মে রাত দেড়টায় নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন সাওঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া চক্রের অপর এজেন্ট মোঃ হোসেন গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার হেফাজত হতে অবৈধ জুয়া খেলায় ব্যবহৃত বিভিন্ন মডেলের ৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় ।

র্যাব আরও জানায়, চলমান জনপ্রিয় ক্রিকেট আসর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) এর ক্রিকেট ম্যাচকে কেন্দ্র করে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন জুয়ার সাইট ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ এলাকায় কিছু অনলাইন জুয়ার এজেন্ট উঠতি বয়সী তরুণদের জুয়া খেলায় প্রলুুব্ধ করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছে।

অনলাইন জুয়ার এই এজেন্টরা অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন জুয়ার সাইটে নামে-বেনামে আইডি খুলে এবং ক্রিকেটপ্রেমী তরুণদের ক্রিকেট ম্যাচ কেন্দ্রিক বাজিতে অংশগ্রহণে প্ররোচিত করে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করে।

কয়েকজন ভুক্তভোগীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব-১১ কর্তৃক ঘটনার গভীর অনুসন্ধান করে সত্যতা পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধীন প্রভাকরদী বাজার ও রূপগঞ্জ থানাধীন সাওঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে উক্ত চক্রের সক্রিয় ২জন জুয়ার এজেন্টদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের নিকট হতে জব্দকৃত মোবাইল পর্যালোচনা করে জানা যায়, তারা সরকারী অনুমোদনবিহীন বিভিন্ন ই-ট্রানজেকশনের সাইটে আইডি খুলে অবৈধভাবে আর্থিক লেনদেন করে। তারা অনলাইন জুয়ার সাইট এ এজেন্ট আইডি নিয়ে সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমী তরুণ ও যুবকদের আইডি খুলে দিয়ে অনলাইনে বাজির মাধ্যমে জুয়া খেলায় প্রলুব্ধ করে। ক্রিকেটপ্রেমী তরুণরা তাদের আইডি দিয়ে ক্রিকেট বাজিতে অংশগ্রহণ করে হেরে গেলে এই এজেন্টরা ১৫% হারে অর্থ কমিশন লাভ করে। কমিশন লব্ধ অর্থ তারা সরকারী অনুমোদনহীন ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে লেনদেন করে অনলাইন জুয়ার প্রসার ঘটিয়ে আসছে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই অনলাইন জুয়ার এজেন্টরা পরষ্পরের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ হয়ে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঘটিয়ে আসছে। অনলাইনে অবৈধ জুয়া খেলার এই ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।