আপিলে ঘুরপাক খাচ্ছে রেজাউল ও গিয়াসের সোনারগাঁয়ের অনুগামীরা!

সান নারায়ণগঞ্জ

৩ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করেছে জেলা রিটার্নি অফিসার। ওইদিন বিএনপির মনোনিত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু মান্নানের প্রতিদ্বন্ধি হিসেবে রেজাউল করিম ও গিয়াসউদ্দীন দুজনই আপিল করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর। যেখানে রেজাউল করিম তার মনোনয়ন ফিরে পেতে এবং মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আপিল করেছেন গিয়াসউদ্দীন। তাদের এমন আপিলে ঘুরপাক খাচ্ছে রেজাউল করিম ও গিয়াস অনুগামীরা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিকল্প হিসেবে অনেক আগে থেকেই রেজাউল করিম ও গিয়াসউদ্দীনকে নিয়ে এই আসনে রাজনীতি করে আসছেন সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার আবু জাফর। তিনি রেজাউল করিমের মনোনয়ন টিকিয়ে রাখার চেষ্টায় কাজ করেছেন। ১৩ জানুয়ারী রেজাউল করিমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

এসএম ওয়ালিউর রহমান আপেল, ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুলও জাফরের সঙ্গে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। অপর মনোনয়ন প্রত্যাশি সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক ধানের শীষের পক্ষেই থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। আপেল ও বকুলের সোনারগাঁয়ে তেমন কোনো জনপ্রিয়তা না থাকলেও তারা মান্নানের বিরোধীতা করছেন। তারা আশা দেখছেন রেজাউল করিম পুরোদমে ভোটের মাঠে ফিরবেন। তবে বকুলের অনুগামীরা বলছেন তিনি ধানের শীষের পক্ষে থাকবেন।

স্থানীয়দের সূত্রে, রেজাউল করিমের মনোনয়ন টিকিয়ে রাখতে কাজ করা রেজাউল করিমের ভাই বজলুর রহমান। তিনি ২০১৮ ও ২০২৪ সালে এই আসন থেকে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। মুলত অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস ও রেজাউল করিমের যে কোনো একজনের পক্ষে অবস্থান নিবেন তারা। রেজাউল করিম ও গিয়াস নির্বাচনে টিকতে না পারলে ভেতরে ভেতরে তাদের অনেকেই জামাত কিংবা ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে থেকেই সোনারগাঁয়ে রেজাউল করিম ও গিয়াসউদ্দীন অনুগামীরা একজোট হয়েছেন। তারা হলেন মনোনয়নবঞ্চিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এসএম ওয়ালিউর রহমান আপেল, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহআলম মুকুল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাদ্দাম হোসেন, জিয়াউল ইসলাম চয়ন, সহ-সভাপতি বজলুর রহমান, সোনারগাঁও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রফিক, বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম নয়ন, সোনারগাঁও পৌর সাবেক কাউন্সিলর ফারুক আহমেদ তপন, বারদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বাবু, সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুর রহমান স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে ইয়াসিন নোবেল, আশরাফ মোল্লা, পারভেজ সাজ্জাদ চপল, বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ প্রধান, কামাল হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালাউদ্দীন সালু, সোনারগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নাসির উদ্দীন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাকারিয়া ভুঁইয়া সহ আরো বেশকজন উল্লেখযোগ্য নেতা।

তবে এদের মধ্যে অনেকেই ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে আসতে শুরু করে দিয়েছেন বলে ধানের শীষের প্রার্থীর অনুগামীদের অনেকেই জানিয়েছেন। যাদের মধ্যে বজলুর রহমানকে সম্প্রতি ধানের শীষের পক্ষে দেখা গেছে, যদিও এর আগে গিয়াসের সঙ্গে দেখা যায় তাকে। জাকারিয়া ভুঁইয়াকেও মান্নানের পাশে দেখা গেছে সম্প্রতি। নেতাকর্মীরা বলছেন, ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল ধানের শীষের পক্ষেই কাজ করবেন।

এদিকে আগামী ১৯ জানুয়ারী গিয়াসের দায়ের করা মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ২০ জানুয়ারী মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২১ জানুয়ারী প্রতীক বরাদ্ধ। সে দিন থেকেই প্রচারণা শুরু হবে। সকল জল্পনা কল্পনা ধারণা ও সন্দেহের অবসান ঘটিয়ে সেদিনই দেখা যাবে কে কার পক্ষে আছেন, কিংবা কে কার বিপক্ষে কাজ করছেন। যদিও এর আগে মনোনয়ন প্রত্যাশি রেজাউল করিম, গিয়াসউদ্দীন, মামুন মাহামুদ, এসএম ওয়ালিউর রহমান আপেল, খন্দকার আবু জাফর, ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াব বকুল, আল মুজাহিদ মল্লিক একজোট হয়ে মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে কেন্দ্রে দরখাস্ত দাখিল ও মান্নানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, মশাল মিছিল করার পর উপরোক্ত ৭জন নেতাসহ তাদের অনুগামীদের নিয়ে সন্দেহ কাটছেনা ধানের শীষের প্রার্থীর বিষয়ে।