শাহআলম ও গিয়াসকে নির্বাচনের সুযোগ করে দিয়েছে বিএনপি!

সান নারায়ণগঞ্জ

সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীনকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে বিএনপি- এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। মনোনয়ন দাখিলের পরদিন কোনো ধরণের নোটিশ কিংবা নির্দেশনা ব্যতিরেকে তাদের দুজনকে সরাসরি বহিষ্কার করে দেয়ার অর্থই হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচনে তাদের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা। নির্বাচনে তাদের কেউ জয়ী হলে ভোটের পরদিনই দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত ফুল দিয়ে জয় উপহার দিবেন সেটার আভাস দিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।

ঘটনা সুত্রে, নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম। দুটি আসনে তারা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। যেখানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী না দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরীক দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।

কিন্তু গত ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ থাকছে আগামী ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু গিয়াস ও শাহআলম মনোনয়ন দাখিলের পর অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর গিয়াস ও শাহআলমকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার ঘোষণা করা হয়। এর আগে তাদেরকে কেন্দ্র থেকে বসে যাওয়ার নির্দেশ কিংবা কোনো ধরণের নোটিশ দেয়া হয়নি, এমনকি কেন্দ্রে তাদের তলব করাও হয়নি। সরাসরি এত দ্রুত তাদেরকে বহিষ্কার করে দেয়ায় তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরো ভালোভাবে ভোটের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, গিয়াস ও শাহআলমকে বসিয়ে দেয়ার জন্য বিএনপির কোনো পরিকল্পনা ছিলো বলে মনে হচ্ছেনা। গিয়াস ও শাহআলমকে দিয়ে দলের সমর্থিত ও ঘোষিত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করানোর কোনো পরিকল্পনাও বিএনপির নেই বলে মনে হচ্ছে। যদি থাকতো তাহলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের পরদিন ২১ জানুয়ারী তাদেরকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হতো। এর আগে তাদেরকে নোটিশ জারি করা কিংবা কেন্দ্রে তলব করে তাদেরকে বসে যেতে নির্দেশনা দেয়া হতো এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিতো। যা সেটাও ২১ জানুয়ারীর আগে। কারন ২০ জানুয়ারী প্রত্যাহারের শেষ দিন। তাদের বিরুদ্ধে কার্যত যদি এ্যাকশন নেয়া হতো সেটা হতো ২০ জানুয়ারীর পর। কিন্তু আগে কেন?

অর্থাৎ রাজনৈতিক বোদ্দারা মনে করছেন, মনোনয়ন দাখিলের সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে এভাবে বহিষ্কার করে বিএনপি কৌশলে তাদেরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে। এখন তাদেরকে কেন্দ্র থেকে তলব করা হলেও তারা কেন্দ্রে যাবেনা বা যেতে বাধ্যও নন। সুতরাং এখন এই দুই প্রার্থী বিএনপির নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। তারা এখন নির্বাচন করছেন এবং করবেন। তেমনটা এই দুই প্রার্থীও জানিয়েছেন।

আবার অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তাদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে হয়তোবা বিএনপি কৌশলে ভুল করেছে। তাদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় ভুল ছিল।

অনেকে মনে করছেন, জমিয়তের সঙ্গে জোট রক্ষার্থে বিএনপি কাসেমীকে প্রার্থী করেছে। কিন্তু কৌশলে গিয়াস ও শাহআলমকে ভোটের মাঠে নামিয়ে দিয়েছে বিএনপি। তাদের মধ্যে থেকে যিনি বিজয়ী হবেন তিনিই বিএনপির কাছে সমাদৃত হবেন। তাকেই বরণ করে নিবে বিএনপি।