জটিল হয়ে ওঠছে আবুল কালামের জয়

সান নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ-৫(সদর-বন্দর) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মনোনিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সহজ জয় জটিল হয়ে ওঠছে পিতা পুত্রের অহমিকা ও দাম্ভিকতার ফলে। বিএনপির যেসব নেতাদের ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংক রয়েছে তাদেরকে অবজ্ঞা করে জনশূণ্য কর্মীশূণ্য ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিয়ে জনপ্রিয় নেতাদের অবমুল্যায়ন করছেন আবুল কালাম ও তার পুত্র আবুল কাউসার আশা। এমনকি নিচের জনপ্রিয় চাচাকেও দূরে সরিয়ে রেখেছেন আশা। কালামের জয় যেখানে জটিল হয়ে আসছে সেখানে স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মাকসুদের পরিধি বাড়তে শুরু করেছে।

স্থানীয়রা জানান, বন্দর উপজেলা পরিষদের একাধিকবারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিকের ৪বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিকের ৪বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু। এসব নেতাদের প্রয়োজনই মনে করছেনা আবুল কালাম ও আশা। এসব নেতারা যার যার অবস্থান থেকে যার যার সামর্থ অনুযায়ী দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে চলেছেন। কিন্তু প্রার্থীর পক্ষ থেকে কোনো ধরণের উৎসাহ দেয়া হচ্ছেনা।

এ ছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের যেসব বিএনপি পন্থী কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন সেইসব বিএনপি নেতাদের কাছে টানতে পারছেন না আবুল কালাম। এমনকি মনোনয়ন পাওয়ার পর কোনো নেতার বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা বিএনপির জনপ্রিয় নেতদের কাছেও ডাকছেন না তারা। অথচ এদের মধ্যে মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

আবুল কালাম ও আশা এমন দুজন ব্যক্তিকে নিয়ে মাতামাতি করছেন যাদের স্থায়ী ঠিকানাও নারায়ণগঞ্জে নাই, নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দাও নন। আবুল কালাম ও আশার ভুমিকা দেখে নেতাকর্মীরা মনে করছেন, কালাম ও আশা মুন্সীগঞ্জ ও চাঁদপুরের ভোটের উপর জোর দিয়েছেন বেশি। নারায়ণগঞ্জে যাদের জনপ্রিয়তা বলতে কিছুই নাই, কর্মীশূণ্য জনশূণ্য ব্যক্তি তাদেরকে নিয়ে প্রার্থীর মাতামাতি বেশি, কিন্তু যাদের ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংক রয়েছে তাদেরকে নিয়ে আগ্রহী নন কালাম ও আশা।

অন্যদিকে আশার চাচা আতাউর রহমান মুকুলকে প্রয়োজনই মনে করছেন না। অথচ সবচেয়ে বেশি ভোট বন্দরে। যেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদের নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। এ ছাড়াও মাকসুদ ছিলেন জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে। জাতীয় পার্টির বিশাল ভোট মাকসুদের বাক্সে পড়লেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। একই সঙ্গে মাকসুদ জাতীয় পার্টির রাজনীতি করলেও ওসমান পরিবারের ঘটিষ্ঠজনই ছিলেন। যদিও গেল কয়েক বছর মাকসুদের সঙ্গে ওসমান পরিবারের সম্পর্ক খারাপ হয়ে ওঠেছিল। কিন্তু নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির ভোট টানতে মাকসুদ সক্ষম হতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির যেসব নেতার নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে তাদেরকে অবজ্ঞা করে নিজের জয়কে কঠিন করে তুলেছেন আবুল কালাম।