সরলেন দুলাল, নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারেন রেজাউল করিম!
সান নারায়ণগঞ্জ
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দুলাল হোসাইন। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল যুবদলের নেতা ছিলেন।
৪ ফেব্রুয়ারী বুধবার দুলাল হোসাইন সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে এই আসনের বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মনোনিত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুঁইয়ার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, দুলাল হোসাইন নির্বাচন বহাল থাকলেও দিপু ভুঁইয়ার সঙ্গে লড়াই করার মত নূন্যতম ভোট ব্যাংক তার ছিলো না। তার জামানত ঠেকানোই হয়ে ওঠতে বড় লড়াই। জাহাজ প্রতীকের এই প্রার্থী এমনটা আচ করতে পেরেই মুলত তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নেমেছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রেজাউল করিম। কিন্তু বিএনপির যেসব নেতাকর্মীরা তাকে ভোটের মাঠে নামিয়েছেন সেইসব নেতাকর্মীরা তাকে ছেড়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের সঙ্গে চলে গেছেন।
রেজাউল করিমের মুল শক্তি ছিলো- উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, সাবেক সাংগঠনিক শাহআলম মুকুল, বারদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বাবু, পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রফিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালাউদ্দীন সালু, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে ইয়াসিন নোবেল, আশরাফ মোল্লা, জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক রবিন, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা খোরশেদ আলম, জাতীয়পার্টিতে যোগদানকারী সাবেক কাউন্সিলর ফারুক আহমেদ তপনের মত বেশকজন নেতা।
কিন্তু এদের মধ্যে শাহআলম মুকুল অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে চলে গেছেন। আবু জাফর, রফিক বহিষ্কার হলেও রেজাউল করিমের সঙ্গে আছেন। বাকি সবাই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মান্নানের পক্ষে চলে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় নামার মত নেতাকর্মী পাচ্ছেনা রেজাউল করিম। যদিও অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দীন বলেছেন, রেজাউল করিমের ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১১জন নেতা তার পাশে নেই। দুইদিন পূর্বে রেজাউল করিমের পক্ষে প্রচারণায় নামেন তার ভাই বজলুর রহমান। এই বজলুর রহমান ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। যে কারনে বজলুর রহমানের প্রচারণায় সারা ফেলতে পারেনি ঘোড়া প্রতীক। ফলে নির্বাচনের কোনো গতি না পেয়ে যেকোনো সময় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতে পারেন বলে শঙ্কা দেখছেন স্থানীয়রা।
