ধানের শীষ নিয়েও বেকায়দায় আজাদ, তিনবারের সাবেক এমপি আঙ্গুর ফুরফুরে!
সান নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ-২(আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়েও বেশ বেকায়দায় রয়েছেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। কারন এ আসনে তার প্রতিদ্বন্ধি তিনবারের সাবেক এমপি এম আতাউর রহমান খান আঙ্গুর কলস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। ভোটের বিরাট অংশের সমর্থন রয়েছে আঙ্গুরের দিকে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আজাদ ও তার অনুগামীদের বেপরোয়া বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অতিষ্ট আড়াইহাজার উপজেলাবাসী। যেখানে আঙ্গুর তিনবারের পরীক্ষিত সাবেক এমপি।
জানাগেছে, এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ ও কলস প্রতীকে আতাউর রহমান খান আঙ্গুর ছাড়াও এখানে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্ধিতায় আছেন জামায়াতে ইসলামের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লা, সিপিবির কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী হাফিজুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী কামরুল মিয়া, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির হাতি প্রতীকের প্রার্থী আবু হানিফ হৃদয় ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ মিয়া।
গত ৩ নভেম্বর আজাদকে প্রাথমিকভাবে বিএনপি মনোনিত ঘোষণার পর থেকেই আড়াইহাজারের অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশিরা বিরোধীতা করে আসছিলেন। যাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুরসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহামুদুর রহমান সুমন, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার ও যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম নুরু মিয়া। আজাদের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে ৪জন মনোনয়ন প্রত্যাশি একজোট হয়ে যে কাউকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি তুলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে। কিন্তু ২৪ ডিসেম্বর চূড়ান্ত্র প্রার্থীর তালিকায় আজাদের নাম বহাল রাখা হয়।
আড়াইহাজারে তিনবারের সাবেক এমপি আঙ্গুর প্রার্থী হলেও অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশিদের সমর্থন ভেতরে ভেতরে রয়েছে সেটা ভোটের মাঠে বিএনপির প্রার্থী আজাদের প্রচারণায় স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। কারন আজাদ ভোটের আর মাত্র দুইদিন বাকি, কিন্তু এরি মাঝে তিনি আড়াইহাজারে ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি করতে পারেননি। এমনকি বিএনপির মাঝে বিরোধ মিটিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোটে নামাতেও ব্যর্থ হয়েছেন আজাদ। আজাদের পক্ষে সুমন ও পারভীনকে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে ভোটের মাঠে দেখা যায়নি। ফলে এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজাদের জয় নিয়ে বিরাট শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেখানে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সারা ফেলেছেন কলস প্রতীকের প্রার্থী আঙ্গুর।
অন্যদিকে এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লার জনপ্রিয়তাও কম নয়। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আশানুরুপ ভোট টানতে পারলে আজাদ ও আঙ্গুরের সঙ্গে লড়াইয়ে চলে আসতে পারেন জামাতের ইলিয়াস মোল্লা। এ ছাড়াও অন্যান্য প্রার্থীরা আড়াইহাজারের ভোটারদের মাঝে তেমন একটা সারা ফেলতে পারেননি। এখন দেখার বিষয় ১২ই ফেব্রুয়ারী ভোটের লড়াইয়ে ঘটতে যাচ্ছে, কার ভাগ্যে ঝুটবে বিজয়ের মালা।
