মান্নানকে ধানের শীষে ভোট দেয়া উচিত নাকি অনুচিত?

সান নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মনোনিত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, যার বিএনপির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের রয়েছে ত্যাগ ও জেল জুলুম নির্যাতন। সেই ত্যাগের ফলে তাকে দল থেকে মনোনিত করেছে বিএনপি। একই কারনে সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার মত দুটি এলাকার মানুষ তাকে সহজভাবে গ্রহণ করেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জে মান্নানের নতুন এলাকা হলেও রাজনৈতিক আন্দোলনে সংগ্রামে রাজপথে কাধেকাধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছিলেন বিধায় মান্নানকে মেনে নিয়েছেন এই থানা এলাকার নেতাকর্মীরা।

একই সঙ্গে দলের প্রতি মান্নানের কমিটমেন্ট, ত্যাগ ও নেতাকর্মীদের অভিভাবকের মত আগলে রাখার মত যোগ্যতা দক্ষতা দেখানোয় সাধারণ জনগণের মাঝেও পরীক্ষিত হয়ে ওঠেছেন একজন এই মান্নান। একজন সহজ সরল নিরহংকারী মান্নানকে দুটি থানা এলাকার জনগণ ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবেও মেনে নিয়েছেন। তার সরলতা উদারতা ও নেতাকর্মীদের প্রতি, সাধারণ জনগণের প্রতি ভালোবাসার কারনে ধানের শীষ প্রতীকে মান্নানকেই ভোট দিবেন জনগণ। কারন তার ভেতরে ছলছাতুরি প্রতারণা মিথ্যাচার এসব গুণাক্ষরেও নাই। মান্নানের আরেকটি সবচেয়ে বড় গুণ মেহমানদারীত্ব। প্রতিটা নেতাকর্মী তার কাছে সমান। তার কাছে ধনী গরীব সকলে সমান। এসব কারনে এই আসনে ১১জন প্রতিদ্বন্ধি থাকলেও মান্নানকেই বাছাইয়ের প্রথম রাখছেন ভোটাররা।

তার সরলতার প্রমাণ মিলে প্রাথমিকভাবে দলের মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহামুদের কাছে ছুটে যান। দুইবারের মাথায় গিয়ে গিয়াসের সাক্ষাত পান মান্নান। গিয়াসের পা ছুয়ে সালাম করে ধানের শীষকে বিজয়ী করার সহযোগীতা কামনা করেছিলেন মান্নান। একইভাবে রেজাউল করিম ও মামুন মাহামুদের কাছেও যান। কিন্তু মামুন মাহামুদ সহযোগীতা করে গেলেও গিয়াস ও রেজাউল করিম উল্টো মান্নানের ধানের শীষকে পরাজিত করতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তারা। এত্তসব গুণাবলীর পরেও কি মান্নানকে ভোট না দেয়া উচিত? কিন্তু দুটি থানা এলাকার জনগণ এসব কারনেই মান্নানের ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছেন।

অন্যদিকে নেতাকর্মীরা মান্নান সম্পর্কে বলছেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর নেতাকর্মীদের নিয়ে গণতন্ত্র মুক্তির দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। সেই ১/১১ এর ফখরুদ্দিন মঈনউদ্দীনের আমলেও সোনারগাঁয়ে বিএনপির ঝাণ্ডা ধরেছিলেন তিনি। জেল জুলুম হামলা মামলা নির্যাতনের পরেও রাজপথের আন্দোলনে বহাল ছিলেন বিএনপির এই ত্যাগী নেতা। ২০১৪ সালে সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও চেয়ারে বসতে পারেননি এক বছরও। পুলিশের সাজানো মামলার আসামী চার্জসিটে অভিযুক্ত হয়ে বরখাস্ত থেকেছেন প্রায় ৪ বছরেরও বেশি সময়। বিএনপির প্রতি এতটাই কমিটেড তবুও সরকারি দল আওয়ামীলীগ কিংবা জাতীয় পার্টির এমপির সঙ্গে আতাত করে চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে থাকার চেষ্টাও করেননি।

নারায়ণগঞ্জ জেলার আরো দুটি উপজেলা পরিষদের বিএনপির দুই চেয়ারম্যান সরকারি দলের সঙ্গে মিশে চেয়ারম্যানশীপ উপভোগ করলেও মান্নানের কাছে চেয়ারম্যানির চেয়ারের চেয়েও বড় ছিল দল ও দেশ। গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে সেই চেয়ারকে তুচ্ছ ভেবে দলের নেতাকর্মীদের আগলে রেখে রাজপথে থেকেছেন তিনি। রাজপথে সক্রিয় থাকায় নিজে ও নিজের সন্তানদেরও জেল খাটতে হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে মান্নানের স্কুল পড়ুয়া ছোট ছেলে শাকিলকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। অথচ শাকিল রাজনীতিতে ছিলো না।

কঠিন পরিস্থিতিতে সোনারগাঁয়ে বিএনপির হাল ধরার মত নেতা কেউ ছিল না, একমাত্র মান্নান ছাড়া। নেতাকর্মীরা হামলা মামলা জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হলেও মান্নান ছাড়া তাদের কোনো খোঁজ খবরও রাখেননি কেউ। নেতাকর্মীদের জামিনের ব্যবস্থা করা, জেলখানায় খবর নেয়া, জেলখানার খরচ ব্যয় বহন, এমনকি জেলবন্ধি বা আহত নিহত নেতাকর্মীদের পরিবারের খোঁজখবরও রেখেছেন মান্নান। এভাবে সোনারগাঁয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠেন মান্নান। শুধু নেতাকর্মীদের পাশেই থেকেছেন তা নয়, নগরীর ডিআইটি বানিজ্যিক এলাকায় জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়টি সিটি করপোরেশন থেকে নেয়ার পেছনে মান্নানের বিপুল পরিমান অর্থের অনুদান রয়েছে। যে ভবনটি ভেঙ্গে সেখানে নতুন ভবন করেছে সিটি করপোরেশন।

এসবের মাঝে মান্নান ও তার সন্তানদের জেল খাটতে হয়েছে গ্রেপ্তার হয়ে। আন্দোলন সফল করতে বছরের পর বছর ছিলেন আত্মগোপনে। তার স্কুল পড়ুয়া ছোট সন্তান সাকিলকেও গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এ ছাড়াও মান্নান ও তার আরেক পুত্র জেলা ছাত্রদলের সাবেক সেক্রেটারি ও জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম সজীবও জেল খেটেছেন। পৃথকভাবে ছাড়াও পিতা-পুত্র একসাথে জেল খেটেছেন। মান্নান ও সজীব পিতা পুত্র মিলে ৬০টির বেশি রাজনৈতিক মামলায় আসামী হয়েছেন। এক হ্যান্ডকাপে পিতা পুত্রকে কোর্ট থেকে কারাগারে আসা যাওয়া করিয়েছিল পুলিশ।

২০২৩ সালের মে মাসের ১৫ তারিখেও মান্নান কারাগারে যান। তিনি সহ ১৬ নেতাকর্মীকে হাতে হাতকড়া পড়িয়ে কারাগারে নেয়ার সময় সেদিন তার অশ্রুসিক্ত চোখে যেনো বুকফাটা আর্তনাদ ভেসে ওঠেছিল। পরে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবরেও জেলে গিয়ে জেল খেটেছেন দীর্ঘদিন। এ ছাড়াও আরো বেশকবার গ্রেপ্তার হোন এবং কারাগারে যান।

২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ নগরীর ২নং রেলগেটের সামনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে গেলে পুলিশের বেদম লাঠিপেটার শিকার হোন মান্নান। মোট কথা গত সাড়ে ১৫ বছরে মান্নান কয়েক দফায় প্রায় বছর খানিকেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। মান্নান ও তার নেতাকর্মীরা আন্দোলন কর্মসূচি সফল করতে গ্রেপ্তার এড়াতে রাতবিরাতে বনবাদারে ঘুমিয়েছেন।