দৌড়াচ্ছে শাহআলমের হরিণ, খেজুর গাছের কাটায় আটকে আছে কাসেমী!

সান নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী দেয়নি বিএনপি। তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরীক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে এই আসনটি ছেড়ে দিলে এখানে জমিয়তের খেজুর গাছ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। এই কাসেমীকে জোট প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু এখানে হরিণ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত হয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ শাহআলম। কাসেমী বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হলেও এখানকার অধিকাংশ বিএনপির নেতাকর্মীরা আছেন শাহআলমের প্রচার প্রচারণায়। অনেকে বহিষ্কার হলেও শাহআলমের নির্বাচনী ঝাণ্ড ছাড়েননি তারা।

স্থানীয়রা বলছেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনেও এই আসন থেকে জোটের প্রার্থী করেছিল বিএনপি। ওই সময় চরম হতাশ হয়েছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এমনিতেই এই এলাকাটি বিএনপির ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত এলাকা। যে কারনে বিএনপি থেকে বহিষ্কার, জোর জুলুম হুমকি ধমকির পরেও শাহআলমের হরিণ মার্কার পক্ষে জোয়ার তুলে যাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। কিন্তু খেজুর গাছই ধানের শীষ এমন শ্লোগানের ধুয়া তুলে জনগণের মন জয় করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে মনির হোসাইন কাসেমী। খেজুর গাছই ধানের শীষ এই মিথ্যাকে ভোটারদের মাঝে খাওয়াতে পারছেন না তিনি। কারন বিএনপির বেশির ভাগ নেতারা আছেন হরিণ মার্কার পক্ষে।

অন্যদিকে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও বিএনপির সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী। তিনি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন, ওই নির্বাচনে সংসদ টিকেছিল মাত্র ১৭ দিন। তিনি এবার বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হওয়ার ঘোষণা দেন। তার মনোনয়ন ফরম ঘেটে দেখা যায় তিনি বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির হাতি মার্কায় মনোনয়ন ফরম দাখিল করেছেন। তিনি হাতি মার্কায় নির্বাচনে থাকলেও জনগণের মাঝে তিনি তেমন একটা আওয়াজ তুলতে পারেননি। বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও তার সঙ্গে নাই।

ওদিকে ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকাটি এই আসনের সঙ্গে যুক্ত না থাকায় বেশ বেকায়দায় গিয়াসউদ্দীন। কারন ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এক সময়কার আসনটি ভেঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জ চলে গেছে সোনারগাঁয়ের সাথে। এদিকে ফতুল্লার ভোট ব্যাংক এখন শাহআলমের হাতে। ফতুল্লায় যেসব নেতারা গিয়াসের পক্ষে কাজ করছিলেন তাদের অনেকেই বহিষ্কারের ভয়ে কাসেমীর পক্ষে চলে গেছেন। বাকি যারা গিয়াসের পক্ষে আছেন তারা বহিষ্কৃত হওয়ায় গিয়াসের পক্ষে জোরালো ভুমিকা রাখতে পারছেন না।