গিয়াসের ড্যামী প্রার্থী রেজাউল করিম: মান্নানের ভোট নষ্ট করাই টার্গেট!

সান নারায়ণগঞ্জ

১২ই ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম ভোটারদের মাঝে কোনো ধরণের সারা ফেলতে পারেননি। দুটি থানা এলাকা নিয়ে এই আসনটি গঠিত হলেও সোনারগাঁও উপজেলার দু’একটি স্পটে নামকাওয়াস্তে রেজাউল করিমের পক্ষে গণসংযোগ করতে দেখা গেলেও সিদ্ধিরগঞ্জের কোথাও সেই চিত্রও দেখা যায়নি। মুলত রেজাউল করিম অপর স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীনের বি-টিম হিসেবে কাজ করছেন সোনারগাঁয়ে।

যেটাকে স্থানীয়রা বলছেন, রেজাউল করিম নির্বাচনে জয়ের আশা করে ভোটে দাঁড়াননি, মুলত গিয়াসউদ্দীনের প্রেসক্রিপশনে গিয়াসের ড্যামী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামকাওয়াস্তে ভোটে বহাল রয়েছেন। যদিও অনেক আগেই নির্বাচনী মাঠে প্রচার প্রচারণা থেকে নিজেকে নিয়েছেন রেজাউল করিম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, গিয়াসের ড্যামী প্রার্থী হয়ে রেজাউল করিম নির্বাচনে রয়েছেন শুধুমাত্র সোনারগাঁয়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের ভোট নষ্ট করার জন্য, যাতে করে গিয়াস উদ্দীন সিদ্ধিরগঞ্জের ভোট সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারেন।

স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনের শুরু থেকেই রেজাউল করিমকে নিয়ে নামেন সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহআলম মুকুল, বারদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বাবু, সোনারগাঁও পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রফিক, জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী এনামুল হক রবিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালাউদ্দীন সালু, সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে ইয়াসিন নোবেল, আশরাফ মোল্লা।

এদের মধ্যে ধানের শীষ প্রার্থী মান্নানের সঙ্গে চলে গেছেন বারদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বাবু, জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী এনামুল হক রবিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালাউদ্দীন সালু, সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে ইয়াসিন নোবেল, আশরাফ মোল্লা। তারা এখন ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন। তবে খন্দকার আবু জাফর ও রফিক রেজাউল করিমের সঙ্গে থাকায় তাদের দুজনকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে রেজাউল করিমকেও বহিষ্কার করে দেয় বিএনপি।

এই যখন অবস্থা যখন ভোটের মাঠে প্রচারণায় নামতে পারেননি রেজাউল করিম। রেজাউল করিম নির্বাচনী মাঠ চেড়েছেন গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের পর রেজাউল করিমের ভাই যিনি ২০১৮ সালে এই আসন থেকে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন সেই বজলুর রহমান ও হুমায়ুন কবির রফিক পৃথকবাবে দু তিনটি স্থানে নামকাওয়াস্তে গোড়া প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালান। এইটুকুতেই তাদের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষ। ওদিকে খন্দকার আবু জাফরের কোনো হদিশ পাওয়া যাচ্ছেনা। শাহআলম মুকুল নিজেকে অসুস্থ দাবি করে ভোটের মাঠের বাহিরে রয়েছেন। অনেকে বলছেন, গিয়াস ও রেজাউল করিমের পক্ষে ভোটের দিন তাদের দুজনের অনুগামীরা একত্রিত হয়ে পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেও পারেন।

এই যখন অবস্থা যখন রেজাউল করিম নামকাওয়াস্তে নির্বাচনে কেন বহাল রয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয়রা বলছেন, রেজাউল করিম সোনারগাঁয়ের মাঠে বহাল থাকলে তিনি সেখানে কিছু ভোট পাবেন। কিন্তু তিনি নির্বাচন থেকে সরে গেলে সেই ভোটগুলো মান্নানের বাক্সে পড়বে, যা কোনোভাবেই গিয়াসের বাক্সে যাবে না। সুতরাং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও তিনি বিএনপির নেতা রেজাউল করিম তিনবারের সাবেক এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন, সোনারগাঁয়ে তার কিছু ব্যক্তিগত অনুগামী আছেন, যারা তাকে ভোট দিবেন। এ কারনেই রেজাউল করিমকে নামকাওয়াস্তে ভোটের মাঠে রাখা হয়েছে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কারন সিদ্ধিরগঞ্জে একটি সভায় তারা দুজন উপস্থিত হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন একসাথে।

এদিকে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের এক ভোটার আব্দুর রহিম বলেন, রেজাউল করিমতো নির্বাচনে কোনো কার্যক্রমই করছেনা। আমরা তাকে ভোট দিয়ে ভোটটি নষ্ট করবো না। পিরোজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুর লতিফ মিয়া বলেন, আমরা বুঝে গেছি রেজাউল করিম অন্য প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন। তাই ঘোড়া মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের ভোট নষ্ট করবো না। সোনারগাঁও পৌরসভার বাসিন্দা খালেক মিয়া বলেন, ঘোড়া মার্কার কোনো প্রচার প্রচারণা দেখছি না। রেজাউল করিম শুধু শুধু নির্বাচনে খাড়াইছে, ধানের শীষের ভোট নষ্ট করার জন্য, আমরা এডা বুইঝা গেছে, আমরা ড্যামী প্রার্থীকে ভোট দিয়া ভোট নষ্ট করমু না।