ধানের শীষের জয় নিয়ে শঙ্কা: আজাদের পাশে নেতাকর্মী, আঙ্গুরের পক্ষে ভোট!

সান নারায়ণগঞ্জ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের নজরুল ইসলাম আজাদ ও তার অনুগামী নেতাকর্মীদের বেপরোয়া আচরণে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, লুটৎরাজের ঘটনায় আজাদের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে আড়াইহাজার উপজেলার সাধারণ ভোটাররা। ১৭ মাস যাবত আড়াইহাজারের মানুষ আজাদের অনুগামীদের হাতে রীতিমত জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী অর্থাৎ স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আঙ্গুরের দিকে ঝুঁকছে সাধারণ ভোটারগণ। নির্বাচনী আনুষ্ঠানিক প্রচারণার আগে থেকেই এ আসনে ধানের শীষের জয় নিয়ে বিরাট শঙ্কা তৈরি হয়ে গেছে এখন থেকেই।

স্থানীয়রা জানান, ৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-২(আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের নাম ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। সেই থেকে এই মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে একজোট হোন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-অর্থনৈতিক সম্পাদক মাহামুদুর রহমান সুমন, সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার ও যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম মিয়া।

কিন্তু সর্বশেষ ২৪ ডিসেম্বর চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে দলটির মনোনয়ন পান নজরুল ইসলাম আজাদ। এই আসনে অনেক আগে থেকেই বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কমিটিগুলোর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক আজাদ। কমিটির বাহিরের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন সুমন আঙ্গুর পারভীনের সঙ্গে। আড়াইহাজারে আঞ্চলিকতার হিসেবেও বিএনপির ভোট ব্যাংকের বাহিরে রয়েছেন আজাদ। উপজেলার উত্তর পার্শে উপজেলার শেষ সীমানায় তার বসতবাড়ি। দক্ষিণ পাশের ৭টি ইউনিয়নে একচ্ছত্র প্রভাব রয়েছে সুমন আঙ্গুর পারভীনের। বৃহত্তর ভোটের অংশে এখন আজাদের বাহিরে।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, আঙ্গুর, সুমন, পারভীন ও নরুল ইসলাম একজোট হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আঙ্গুরের পক্ষে অটুট থাকলে এখানে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আজাদের জয়ের সম্ভাবনা একেবারেই কম। এ ছাড়াও এ আসন থেকে তিনবারের নির্বাচিত সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। সুমনের পিতা প্রয়াত নেতা বদরুজ্জামান খান খসরু ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। পারিবারিকভাবে প্রতি আঙ্গুর খসরুর বিরাট নেতাকর্মী সমর্থক আড়াইহাজারে রয়েছে। এমপি থাকাকালীন সময়ে আঙ্গুর বিপুল সংখ্যক মানুষের উপকারে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আজাদের পক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কমিটির নেতাকর্মীরাও থাকলেও ভোট ব্যাংক আছে সুমন আঙ্গুর পারভীনদের দিকে। ফলে এখানে ধানের শীষকে জয়ী করা কঠিন সমীকরণে উপনিত হয়েছে।