পল্লীবন্ধু এরশাদের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী ১৪ জুলাই বুুধবার

সান নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী ১৪ জুলাই বুধবার। ২০১৯ সালে এই দিনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫ দিন ব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে কেন্দ্রীয় জাতীয়পার্টি ও ঢাকা বিভাগীয় জাতীয়পার্টি।

গত ২৬ জুন শনিবার রাজধানীর কাকরাইলের জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সমন্বয় কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সমন্বয় কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দের সর্বসম্মতিক্রমে নানা কর্মসূচি সমূহ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের অনুমোদন সাপেক্ষে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

IMG 20210629 202910 2

কর্মসূচির মধ্যে ছিল-

১জুলাই সকাল থেকে কাকরাইল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত। বিকেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে দো’আ ও মিলাদ মাহফিল। উপস্থিত থাকবেন- চেয়ারম্যান, মহাসচিব সহ জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ (দেশের করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে)।

পল্লীবন্ধু এরশাদ স্মরণে ঢাকা বিভাগীয় কমিটির পক্ষ হতে একটি পোস্টার বের করে তা সংশ্লিষ্ট সকল জেলা-উপজেলায় বিতরণের ব্যবস্থা করা।

ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলায় পল্লীবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী পালনের নির্দেশ সম্বলিত চিঠি প্রেরণ ও প্রতিটি জেলায় তা তদারকির জন্য ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সমন্বয় কমিটির একজন করে প্রতিনিধি নিযুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের কোচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পরে তার পরিবার রংপুরে চলে আসে। রংপুরেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এরশাদ।

১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি পেয়ে ১৯৭১-৭২ সালে সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ওই বছরই আগস্ট মাসে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এরশাদকে সেনাবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৭৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। ১৯৯১ সালে এরশাদ গ্রেপ্তার হন। ১৯৯১ সালে জেলে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় এরশাদ রংপুরের পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও এরশাদ সংসদে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি জামিনে মুক্ত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি ১৪টি আসনে জয়ী হয়।

২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে মহাজোট গঠন করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তার দল ২৭টি আসনে বিজয়ী হয়। এরপর দশম ও চলতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি চলতি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন।