বিএনপি জনগণের দল, মহামারিতে আছি জনগণের পাশে: সাখাওয়াত

সান নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত আইনজীবী নেতা ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর কোন গরীব দুস্থ অসহায় দিনমজুর খেটে খাওয়া পরিবারের কোন সদস্য না খেয়ে থাকবে না ইনশাহআল্লাহ। বিএনপি জনগণের দল। আমরা এই করোনা মহামারিতে আছি জনগণের পাশে। অসহায় মানুষ না খেয়ে থাকবে আর আমরা ঘরে বসে থাকবো সেই রাজনীতি আমরা অন্তত করি না।

১৮ মে সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বন্দরের ২৪নং ওয়ার্ডের ৩ হাজার গরীব অসহায় দুস্থ দিনমজুর খেটে খাওয়া পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ শেষে এসব কথা বলেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত এই আইনজীবী নেতা।

তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সচেতন থাকুন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম মেনে চলুন। মনে রাখতে হবে সবার আগে আমাদের জীবন। জরুরী প্রয়োজনে বাহিরে বের হলে হ্যান্ড গ্লাভস ও মাস্ক অবশ্যই পড়বেন। বাসায় প্রবেশ করলে অবশ্যই ভালভাবে হাত ধুয়ে নিবেন।

অসহায় মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা ঘুরে থাকুন। নিরাপদ থাকুন। ভয় পাবেন না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল আপনাদের পাশে আছে। বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা আপনাদের সুখে দুঃখে পাশে আছি। আমরা এক বেলা খেলে আপনাদেরও এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা করবো। আমরা তিন বেলা খেলে আপনাদেরও তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করবো।

ঈদ উল ফিতরকে সামনে রেখে করোনা পরিস্থিতিতে সরকার যে ৫০ লাখ দুস্থ অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন সেই টাকা দুস্থ অসহায় মানুষের মাঝে সম্পূর্ণ যাচ্ছেনা বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, সেই অনুদানের টাকা ৯০ ভাগ যাচ্ছে সরকারি দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পকেটে। প্রকৃতপক্ষে সম্পূর্ণ অনুদানের টাকা একেবারে গরীব দুস্থ অসহায় দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষের কাছে যাচ্ছেনা।

তিনি আরও বলেছেন, লকডাউনে কর্মহীন অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রী আওয়ামীলীগের নেতারা লুটেপুটে খাচ্ছে। সরকার দেশের ৫০ লক্ষ দুস্থ মানুষকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে অথচ এখানেও দূর্নীতি হচ্ছে। সরকারের এই টাকা হাতিয়ে নিতে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নাম ও মোবাইল নাম্বার জমা দেওয়া হয়েছে, সেসব তালিকায় খেটে খাওয়া অসহায় মানুষের নাম স্থান পায়নি।

নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর বন্দর থানা তাঁতীদলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই ঈদ সামগ্রী-আতপচাল, পোলাও চাল, ডাল, সেমাই ও চিনি বিতরণ করা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি মনির হোসেন খান, মহানগর বিএনপি নেতা মহিউদ্দীন শিশির, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধান, মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর প্রধান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মুছা, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি পারভেজ মল্লিক, মহানগর যুবদলের কার্যকরী সদস্য স¤্রাট হোসেন সুজন, মহানগর তাঁতী দলের আহ্বায়ক মীর আলমগীর, সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক অপু রহমান, মহানগর শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান মন্টু প্রমূখ।

এখানে উল্লেখ্যযে, নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে এক সাহসি নেতার নাম অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। সাহসিকতায় সাত খুনের ঘটনায় বাদী পক্ষের আইনজীবী এবং আইনজীবীদের নিয়ে আন্দোলন করে দেশব্যাপী যার পরিচিতি ছড়িয়ে যায়। বিএনপির আন্দোলন করতে গিয়ে মামলার শিকার শত শত নেতাকর্মীর আইনি সহায়তায় যিনি কাজ করেন তিনি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত। মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের আস্থা ভরসাও তিনি। রাজপথেও রয়েছে তার সমান তালে ভুমিকা। রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে হামলা মামলা নির্যাতন সহ বেশকবার কারাভোগের শিকার হয়েছেন তিনি। এবার মহামারি করোনা পরিস্থিতিতেও অসহায় জনগণের পাশে সেই সাখাওয়াত। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জে যেসব বিএনপি নেতারা অসহায় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের সবার আগে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

গত ২৪ মার্চ নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় তিনি জনগণকে সচেতন করতে মাস্ক ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত নারায়ণগঞ্জবাসীর পাশে রয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি সমস্যাগ্রস্থ নেতাকর্মীদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন। জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সব বিষয়ে তিনি প্রচার করতেও চান না। নীরবে তিনি নেতাকর্মীদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন।

এর আগে ১৬ মে শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর বন্দরের লক্ষণখোলা এলাকায় ২ হাজার গরীব অসহায় দুস্থ দিনমজুর খেটে খাওয়া পরিবারের মাঝে চাল ডাল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছিলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

নারায়ণগঞ্জ মহানগরী এলাকায় বিএনপির মধ্যে একমাত্র নেতা যিনি স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে অসহায় মানুষের হাতে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এ ছাড়া আর কাউকে স্বশরীরে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতে দেখা যাচ্ছেনা।

সূত্রমতে, গত ১৫ মে শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর ১৭নং ওয়ার্ডের পাইকপাড়া এলাকায় দ্বিতীয় দফায় করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছিলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডলি আক্তারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এর আগে গত ৮ মে শুক্রবার মহানগরীর ১৭নং ওয়ার্ডের পাইকপাড়া ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় প্রথম দফায় মহানগর যুবদল নেতা হৃদয় ভূঁইয়া ও মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম আহমেদ বাবুর তত্ত্বাবধানে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছিলেন তিনি।

গত ১০ মে রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর বন্দরে ২৩নং ওয়ার্ডে কয়েকশত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছিলেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত এই আইনজীবী নেতা। নারায়ণগঞ্জ মহানগর তাঁতীদলের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বন্দরের কয়েকশত অসহায় পরিবারের মাঝে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছিলেন সাখাওয়াত

গত ৫ এপ্রিল রবিবার সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া রেললাইন সহ বিভিন্ন এলাকায় গরীব অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ ছাড়াও বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় গরীব অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ এসব খাদ্য সামগ্রী স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে পৌছে দেন। এসব খাদ্য সামগ্রী টিমওয়ার্কের মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীরা গরীব অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দেন।

এ ছাড়াও গত ২৪ মার্চ নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএনপির লিফলেট বিতরণ ও মাস্ক বিতরণ করেছিলেন সাখাওয়াত হোসেন খান। ২৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ডের মাসদাইর বাজার এলাকায় জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধানের উদ্যোগে ৫শতাধিক রিক্সাচালক ও পথচারী গরীব অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও মাস্ক বিতরণ করেছিলেন সাখাওয়াত হোসেন খান।