বিএনপির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতার কাছে বিএনপি নেতাদের অর্থলগ্নি!
সান নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জের বেশকজন পরিচ্ছন্ন বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যাচার, গুজব ও অপপ্রচার চালাতে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন বিএনপিরই বেশকজন নেতা। বি-বাড়িয়ার কসবা থানার বাদৈর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিভাগীয় সম্পাদক ও যুবলীগ সভাপতি প্রার্থী মেহেদী হাসান রাজীবের মাধ্যমে ফেসবুক ফেক আইডি দিয়ে ওইসব নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, গুজব ও অপপ্রচার চালানো হতো। ওই গুজব রটনাকারী রাজীবকে বিকাশে টাকা পাঠিয়ে এসব প্রচারণায় অর্থ বিনিয়োগ করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির বেশকজন নেতা। রাজীবকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই অর্থ বিনিয়োগকারী কজনের নাম ও বিনিয়োগের বিষয়টি ডিবি পুলিশকে জানিয়ে দেয়।
জানাগেছে, আসামী মেহেদী হাসান রাজীবকে ৩ দিনের পুলিশ রিমাণ্ডে নিয়েছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম আসামীর বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমাণ্ডের প্রার্থনা করেন। বৃহস্পতিবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধিরগঞ্জ আমলী আদালতের বিচারক মো: তামজিদ আহমেদ শুনানি শেষে আসামীকে ৩ দিনের রিমাণ্ড প্রার্থনা মঞ্জুর করেছেন। এই তিন দিনের রিমাণ্ডে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থ বিনিয়োগকারী সকলের নাম বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান রাজীবকে শনাক্ত করে ভোরে ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার কসবা থানাধীন বাদৈর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে চক্রের মূল হোতাকে তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি, মোবাইলসহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। রাজীব বি-বাড়িয়া জেলার কসবা থানার বাদৈর ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। এর আগে সে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট রাকিবুর রহমান সাগরসহ বেশকজনের নামে ফেসবুকে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ নামে আইডি খুলে ভিডিও কাটসাট ও এডিটিং করে গুজব ও অপপ্রচার করে এবং অপপ্রচারের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা সাগরের কাছে চাঁদা দাবী করেন। তার কাছ থেকে কিছু টাকা চাঁদা গ্রহণও করেন। পরে সাগর বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
আরো জানাগেছে, বি-বাড়িয়ার কসবা থানার বাদৈর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান রাজীবের মাধ্যমে ফেসবুক ফেক আইডি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের পুত্র ও রাজনৈতিক সচিব জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীব, এমপির রাজনৈতিক ব্যক্তিগত সহকারী সেলিম হোসেন দিপু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট রাকিবুর রহমান সাগর, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর আয়েশা আক্তার দিনা, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শাহআলম মানিক সহ বিএনপির বেশকজন নেতার বিরুদ্ধে ফেসবুকে মিথ্যা বানোয়াট অপপ্রচার ও কুৎসা রটাতে সহযোগীতা করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ৬নং ওয়ার্ডের ২জন বিএনপি নেতা সহ বেশকজন বিএনপি নেতা।
ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান রাজীব ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্বে সিদ্ধিরগঞ্জে বসবাস করতেন। সেই সুবাধে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে তার মোবাইলে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ নামক ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে উপরোক্ত রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্টজনদের বিরুদ্ধে নানা ধরণের গুজব অপপ্রচার ও মিথ্যা বানোয়াট কুৎসা রটানো শুরু করে দীর্ঘদিন যাবত। বিষয়টি নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হোন ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘ প্রচেষ্টা শেষে কুৎসা রটনাকারী রাজীবকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
তবে একটি বিশ্বস্থ সূত্র বলছে, এই অপপ্রচার গুজব রটানোর পেছনে কারা জড়িত তা রিমাণ্ডে নেয়ার আগেই পুলিশকে জানায় আসামী। ইতিমধ্যে আসামী রাজীবকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ৬নং ওয়ার্ডের দুজন বিএনপির নেতার সহযোগীতার বিষয়টির তথ্য পেয়েছে। যাদের একজন শ্রমিকদলের রাজনীতিতে জড়িত, অপরজন জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতার অনুগামী ঝুট ব্যবসায়ী কথিত বিএনপি নেতা। তারা রাজীবকে বিকাশে টাকা পাঠাতো অপপ্রচারের জন্য এবং কুৎসা রটনোর জন্য। সেই তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। আরো যারা যারা আসামীকে বিকাশে টাকা পাঠাতো অপপ্রচার ও কুৎসা রটানোর জন্য তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে সেলিম হোসেন দিপু সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ফেক আইডি খুলে মানুষের সম্মানহানি ও মিথ্যা অপপ্রচারকারীরা সাবধান। আজ হোক, কাল হোক—অপরাধীরা ধরা পড়বেই, ইনশাআল্লাহ। বেশ কিছুদিন ধরে এমপি সাহেব, এমপি সাহেবের সুযোগ্য সন্তান খাইরুল ইসলাম সজিব, আমাকে, আয়েশা আক্তার দিনা আপা, রাকিবুর রহমান সাগর, শাহ আলম মানিকসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। আজ একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। মনে রাখবেন, ফেক আইডির আড়ালে লুকিয়ে অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানলে অপরাধী শনাক্ত করা সম্ভব। তাই সাবধান হোন—মিথ্যা অপপ্রচার বন্ধ করুন।ইনশাআল্লাহ, সত্যের জয় হবেই। তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য প্রশাসনকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছি অক্লান্ত পরিশ্রম করার পর সফল হয়েছি।
