সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটি স্থগিত: বহিষ্কার হতে যাচ্ছে ২ ডজন নেতা!

সান নারায়ণগঞ্জ

বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বিরোধীতা করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার কারনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্যপদসহ দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীনকে গত ৩০ ডিসেম্বর বহিষ্কার ঘোষণা করা হয়। সেই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার দায়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির বর্তমান কমিটি স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। তবে এই স্থগিতেই সীমাবদ্ধ থাকছেনা। কমিটির অন্তত দুই ডজন নেতাকে বহিষ্কারের পথে হাটছে বিএনপি, যারা গিয়াসের পক্ষে প্রচার প্রচারণায় চালিয়ে আসছেন। এর বাহিরেও কমিটিতে বিভিন্ন পদে থাকা নেতারা সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন, যারা মুখে ধানের শীষের পক্ষে থাকার কথা বললেও কার্যক্রমে তাদের ধানের শীষের বিরুদ্ধে দেখা যাচ্ছে।

জানাগেছে, ২২ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। ​বিজ্ঞপ্তিটি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. মামুন মাহমুদ এবং ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া বরাবর পাঠানো হয়েছে। অবিলম্বে এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর কারণে এই কমিটিকে স্থগিত করা হয়েছে। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির দায়িত্ব পালন করবে। কেন্দ্র থেকে আমাকে মোবাইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে পরবর্তীতে লিখিত আকারে পাঠানো হয়েছে।’

অন্যদিকে জানাগেছে, ২০২৪ সালের ৪ জানুয়ারি মাজেদুল ইসলামকে আহ্বায়ক ও ইকবাল হোসেনকে সদস্য সচিব করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৪ মে মাজেদুল ইসলামকে সভাপতি ও ইকবাল হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৯৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন তৎকালীন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও সদস্য সচিব গোলাম ফারুক।

এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় ইকবাল হোসেনকে বহিষ্কার করা হলে তার স্থলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান আবুল হোসেন। সম্প্রতি ইকবাল হোসেনের বহিষ্কার প্রত্যাহার হলেও তাকে স্বপদে বহাল করেনি বিএনপি। সেই মাজেদুল ইসলাম ও আবুল হোসেন গিয়াসের হয়ে নির্বাচন করছেন। যদিও ইকবাল হোসেন ইতিমধ্যে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে চলেছেন।

একটি সূত্র বলছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হলেও যারা দলের প্রার্থীর বিরোধীতা করে বহিষ্কৃত নেতার পক্ষে কাজ করছেন তাদেরকে বহিষ্কারের আওতায় আনবে বিএনপি। বহিষ্কার হতে পারেন স্থগিত হওয়া কমিটির সভাপতি মো. মাজেদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, সহ-সভাপতি মো. মোস্তফা কামাল, সহ-সভাপতি জি.এম সাদরিল, সহ-সভাপতি এ্যাড. মাসুদুজ্জামান মন্টু, সহ-সভাপতি সেলিম মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক মো. কামরুল হাসান শরীফ, সাংগাঠনিক সম্পাদক মো. আকবর হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ডা. মো. মাসুদ করিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মো. সাগর, বিষয়ক সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. আনিস শিকদার, প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক মো. আমির হোসেন প্রধান, ক্ষুদ্র ঋণ ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মো.শরিফুল হাসান, মানবধিকার বিষয়ক সম্পাদক মো.জামান মির্জা, গণ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. আহসান উল্লাহ মুন্সি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো.আইয়ুব আলী মুন্সি, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো.মোস্তাক আহম্মেদ মুন্সি, সহ-সম্পাদক মো. শরীফ হোসেন, শ্রম বিষয়ক মো. কামরুল হাসান সেন্টু, সদস্য এ.কে.এম সামসুল হক, জি.এম. কায়সার রিফাত, হাজী মো. মোস্তফা, মো. তৈয়ম হোসেনসহ আরো বেশকজন।

এদের ছাড়াও বেশকজন নেতা নিজেদের পদ বাঁচাতে কৌশলে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন মুখে মুখে ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু ধানের শীষের পক্ষে নয়, বিরুদ্ধেই কাজ করছেন এমন সন্দেহভাজন নেতাদেরও তালিকা তৈরি করা হচ্ছেন তারাও বহিষ্কারের মুখে পড়তে পারেন কোনো ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেলে। এমন সন্দেহজনকের তালিকায় আছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. এস.এম আসলাম, সহ-সভাপতি মো. ডি.এইচ বাবুল, সহ-সভাপতি মো. রওশন আলী, যুগ্ম সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাধীন, কোষাধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম ছাদু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নূর হোসেন মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মো.ডালিম প্রধান, তাতী/ মংস্য জীবি/ উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক মীর আলমঙ্গীর, সহ-প্রচার সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন শিকদার, সহ-সম্পাদক স্বেচ্ছা সেবক বিষয়ক মো. মোক্তার হোসেন, সহ-সম্পাদক ছাত্র বিষয়ক মো. সাদ্দাম হোসেন মুন্না, সদস্য পদের মো. আব্দুল হাই রাজু, মো. ইসরাফিল প্রধান, মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. শ্যামল আনোয়ার সহ আরো বেশকজন।