<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>মতামত Archives - Sun Narayanganj</title>
	<atom:link href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/category/%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%A4/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/category/মতামত</link>
	<description>News Narayanganj</description>
	<lastBuildDate>Tue, 10 Mar 2026 16:20:13 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.4</generator>

<image>
	<url>https://www.sunnarayanganj24.com/wp-content/uploads/2023/05/cropped-cropped-Untitled-design-32x32.png</url>
	<title>মতামত Archives - Sun Narayanganj</title>
	<link>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/category/মতামত</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>শূন্য থেকে শিখরে স্বপ্ন দেখার সাহস নিয়ে এক স্বপ্নবাজ সেলসম্যান</title>
		<link>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/64516</link>
					<comments>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/64516#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Majharul Rokon]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 10 Mar 2026 16:20:13 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মতামত]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.sunnarayanganj24.com/?p=64516</guid>

					<description><![CDATA[<p>সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং এমন একটি পেশা যেখানে আপনার আয়, পদোন্নতি...</p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/64516">শূন্য থেকে শিখরে স্বপ্ন দেখার সাহস নিয়ে এক স্বপ্নবাজ সেলসম্যান</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p>সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং এমন একটি পেশা যেখানে আপনার আয়, পদোন্নতি এবং সাফল্য নির্ভর করে আপনার দক্ষতা, মানসিকতা এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমের উপর। এখানে নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই—আপনি যত বড় স্বপ্ন দেখবেন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করবেন, তত বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবেন।</p>
<p>বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে শুধু ভালো পণ্য থাকলেই হয় না, সেটিকে সঠিকভাবে উপস্থাপন, প্রচার এবং বিক্রি করার দক্ষতা থাকতে হয়। আর এখানেই সেলস ও মার্কেটিং পেশার গুরুত্ব। মার্কেটিং হলো গ্রাহকের মনে চাহিদা তৈরি করা। সেলস হলো সেই চাহিদাকে বিক্রয়ে রূপান্তর করা। অর্থাৎ, ভালো মার্কেটিং সেলসকে সহজ করে এবং শক্তিশালী সেলস মার্কেটিংকে সফল করে। একজন কর্মীর সাফল্য কখনোই একার অর্জন নয়। তার পরিশ্রম, দক্ষতা ও মানসিকতার পাশাপাশি একজন ভালো বস বা লিডারের দিকনির্দেশনা বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় বসের সাপোর্ট সাফল্যের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে| একজন কর্মী যতই পরিশ্রমী হোক না কেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ছাড়া সে তার পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারে না।</p>
<p>সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় প্রতিদিন রিজেকশন আসে। কিন্তু একজন সঠিক বস বা লিডারের সঠিক দিকনির্দেশনা (Guidance) অনুপ্রেরণা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি ইতিবাচক কর্মপরিবেশ তৈরি করে কোম্পানিকে এবং একজন ভালো কর্মীকে সফল মানুষে পরিণত করেন একজন বস।</p>
<p>আলহামদুলিল্লাহ, আমি সাইফুল ইসলাম সূর্য এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এমনই এক বসকে পাশে পেয়েছি, পেয়েছি সঠিক দিকনির্দেশনা, অনুপ্রেরণা এবং আত্মবিশ্বাস ,উনার কাছ থেকে পেয়ছি জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সঠিক সিদ্ধান্তের সুপরামর্শ।</p>
<p>তিনি সর্বদাই আমার কাছে একজন সুপারম্যান, তিনি আর কেউ নয় আমার প্রিয় বস শ্রদ্ধেয় মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ফয়সাল।</p>
<p><strong>লেখক: মোঃ সাইফুল ইসলাম সূর্য,</strong><br />
<strong>হেড অব রিটেল, </strong><br />
<strong>সেলস এন্ড মার্কেটিং প্রিমিয়াম কানেক্টিভিটি লিমিটেড।</strong></p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/64516">শূন্য থেকে শিখরে স্বপ্ন দেখার সাহস নিয়ে এক স্বপ্নবাজ সেলসম্যান</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/64516/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নদীকে হত্যা করার অর্থ হলো বর্তমান ও ভবিষ্যতকে হত্যা করা: মোহাম্মদ হোসাইন</title>
		<link>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/60875</link>
					<comments>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/60875#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Majharul Rokon]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 14 Mar 2025 14:10:48 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মতামত]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.sunnarayanganj24.com/?p=60875</guid>

					<description><![CDATA[<p>২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট একটি রায়ে নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা...</p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/60875">নদীকে হত্যা করার অর্থ হলো বর্তমান ও ভবিষ্যতকে হত্যা করা: মোহাম্মদ হোসাইন</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p><span style="font-size: 18pt;">২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট একটি রায়ে নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা (লিভিং এনটিটি)’ বলে আদেশ জারি করেন। এর অর্থ মানুষের মতো নদীরও সুস্থ-সুন্দর থাকার অধিকার রয়েছে। রায়ে রাষ্ট্রকে এই অধিকার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। নদী দখল, দূষণ ও ভরাটের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশনা কার্যকর হয়নি।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">২০১৯ ও ২০২০ সালে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন প্রায় ৬৬ হাজার নদী দখলদারকে চিহ্নিত করে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলেও সেই উচ্ছেদ সফল হয়নি। ফলে জীবন্ত সত্তা নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোঃ হোসাইন বলেন, বাঙালির সভ্যতা-সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে নদীকেই কেন্দ্র করে। মিশরকে নীল নদের দান বলা হয়; তেমনি নদীমাতৃক বাংলাদেশকে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা নদ-নদীর দান বলা যায়। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে অভিন্ন ৫৭টি নদী।নদী বিধৌত এ&#8217;দেশে ছোট-বড় মোট ২৩০টি নদী আছে আর শাখা-প্রশাখাসহ নদীর সংখ্যা প্রায় ৮০০টি। এ নদীগুলো সারাদেশে রক্তের শিরা-উপশিরার মতো বহমান। মেঘনা ব্রহ্মপুত্র শীতলক্ষ্যা ধলেশ্বরী বুড়িগঙ্গা আর বালু নদী পরিবেষ্টিত নারায়ণগঞ্জ জেলা। এই নদীগুলো নারায়ণগঞ্জের পরিবেশের বিচিত্র অনুষঙ্গ। আমাদের দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠির জীবন ও জীবিকার সম্পর্ক রয়েছে নদীর সাথে। খরস্রোতা নদীগুলোতে জেলেরা মাছ ধরত, নৌকাবাইচ হতো, উৎসবের আমেজে মেতে উঠত নদীর পাড়ের মানুষগুলো। কৃষি, মৎস্য, জেলেদের পেশা এবং সংস্কৃতির পাশাপাশি মানুষের নিত্যদিনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক সম্পদ সবকিছুর একমাত্র উৎস ছিল এই নদীগুলো। বাংলাদেশের নদীগুলো মিঠা পানির প্রধান উৎস্য এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ কিন্তু আমাদের দায়িত্বহীনতায় নদীগুলো দখল ও দূষণের শিকার। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সর্বত্রই ময়লা আবর্জনা নদীতে ফেলছি। এ নদীকে হত্যা করার অর্থ হলো বর্তমান ও ভবিষ্যতকে হত্যা করা।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">কিন্তু সেই নদী আজ দখল, দূষণ আর ভরাটের প্রতিযোগিতায় বিপন্ন; অনেকাংশে বিলুপ্ত। নদীগুলোর নাব্যতা হারানোর নানাবিধ কারণের মধ্যে অবৈধ দখলদারিত্ব, অপরিকল্পিত নদীশাসন, দূষণ, ভরাট, অপরিকল্পিত ড্রেজিং, ইচ্ছামতো বাঁধ নির্মাণ ইত্যাদি অন্যতম। সব নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠছে বড় বড় কলকারখানা, শত শত বাঁধ। দূষণ-দখলের কবল থেকে কিছুতেই বাঁচানো যাচ্ছে না শীতলক্ষ্যা নদীকে। প্রতিদিনই বাড়ছে দূষণ; বাড়ছে দখলদারদের সংখ্যাও। প্রভাবশালীরা নদী ভরাট করে দখলের উৎসবে মেতেছে। খাল, নদ-নদী, নর্দমা হয়ে অপরিশোধিত অবস্থায় নদীগুলোতে জমা হচ্ছে। নদীগুলোকে গিলে খাচ্ছে পলিথিনসহ শিল্প-কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যাল ও বর্জ্য, হাসপাতাল-ক্লিনিকের পরিত্যক্ত কেমিক্যাল, লঞ্চ-জাহাজের পোড়া তেল, মবিল, ওয়াসার পয়ঃবর্জ্য, গৃহস্থালি বর্জ্য ও নদীর পাড়ে।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">তিনি আরো বলেন, মিঠা পানির মাছ বিলুপ্ত হয়েছে বহু আগে। জীব বৈচিত্রও নেই। এ নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন প্রায় শূন্যের কোঠায়। আদালতের রায় অনুযায়ী নদীগুলো এখন &#8216;জুরিসটিক পারসন&#8217; বা &#8216;লিগ্যাল পারসন&#8217;। এর মধ্য দিয়ে মানুষের মতো নদীরও মৌলিক অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। সুতরাং নদীকে হত্যা করার অর্থ হলো বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হত্যা করা। আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশের সব নদীই মূল্যবান এবং সংবিধান, বিধিবদ্ধ আইন ও পাবলিক ট্রাস্ট মতবাদ দ্বারা সংরক্ষিত। বাংলাদেশকে &#8216;নদীমাতৃক&#8217; বলা হয়। নদী মায়ের মতো; নদী মা হিসেবে স্বীকৃত। নদী দূষনও মাকে হত্যা করার সামিল।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">এই নদী দূষণ ও দখলে জারা জড়িত তাদের সহযোগিতা করছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গুলোর অসাধু কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এ সকল অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চিহ্নিত করে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান নদী দূষণে ওতপ্রোতভাবে জড়িত সেগুলো প্রয়োজনে বন্ধ করে দিতে হবে। ১৮ কোটি মানুষের জন্য উন্নয়ন। নদী দখল দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১৮ কোটি মানুষের জীবনের হুমকি। তাই উন্নয়নের নামে অসাধু ও শিল্প প্রতিষ্ঠান অপ্রয়োজনীয় বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন। যারা নদী দখল করে নদীর নাব্যতা ভিন্ন করছে তাদের কেউ শাস্তির আওতায় আনার জন্য উক্ত আলোচনা সভায় বক্তারা দাবি জানান। পরিশেষে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদ শীতলক্ষ্যা নদী দূষণমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষ গ্রহণ না করলে নদীপাড়ের লাখো মানুষের সমন্বয়ে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।</span></p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/60875">নদীকে হত্যা করার অর্থ হলো বর্তমান ও ভবিষ্যতকে হত্যা করা: মোহাম্মদ হোসাইন</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/60875/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>২১শে ফেব্রুয়ারী বনাম ৮ই ফাল্গুন: সংস্কারমূলক একটি প্রস্তাবনা</title>
		<link>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/60742</link>
					<comments>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/60742#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Majharul Rokon]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 06 Mar 2025 14:21:02 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মতামত]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.sunnarayanganj24.com/?p=60742</guid>

					<description><![CDATA[<p>প্রতি বৎসরের ন্যায় এবারও ঘটা করে পার হয়ে গেল ২০২৫...</p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/60742">২১শে ফেব্রুয়ারী বনাম ৮ই ফাল্গুন: সংস্কারমূলক একটি প্রস্তাবনা</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p><span style="font-size: 18pt;">প্রতি বৎসরের ন্যায় এবারও ঘটা করে পার হয়ে গেল ২০২৫ সনের ২১শে ফেব্রুয়ারী, যা বাঙ্গালী জাতির টানিং পয়েন্টের একটি মাইলফলক। ১৯৫৩ নং সন থেকেই দলমত ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে বির্তকহীন ভাবে দিনটি মাতৃভাষা দিবস হিসাবে প্রতিবৎসর যথাযথ মর্যাদার সাথে পালিত হয় যার কলেবরও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে শহীদ মিনার নির্মানে পাকিস্তান সরকার বাধা দিয়েছিল, ভেঙ্গে ফেলেছিল নির্মানাধীন মিনার, সেই মিনারই এখন নির্মিত হয়েছে জেলা, মহানগর, শহর, বন্দর ও গ্রামে-গঞ্জে। কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার সহযোগীতা না পেলেও নিজেদের অর্থায়নেই কোমলমতি ছাত্র/ছাত্রীরা নিজ দ্বায়িত্বে কায়িক পরিশ্রমে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভিত্তি স্থাপনের সূচনা করে ছিল শহীদ মিনারের। ১৯৫৩ ইং সাল থেকে বাঙ্গালী জাতি শ্রদ্ধার সাথে প্রতি বৎসর পালন করা দিবস উৎযাপন এখন শুরু হয় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতির শহীদ বেদীতে পুষ্প প্রদানের মাধ্যমে। প্রভাত ফেরীতে ছাত্র/ছাত্রীদের পাশাপাশি শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল স্তরের সকল পেশার মানুষের অংশগ্রহন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য &#8220;একুশে পদক” প্রবর্তন হয়েছে; যদিও পদক প্রদানে অগ্রাধিকার পাচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনা, অবদানের ভিত্তিতে নহে। বাংলা একাডেমীর উদ্দেগ্যে পুরো ফেব্রুয়ারী মাস জুড়েই পালিত হয়ে আসছে অমর একুশে বই মেলা, যার উদ্বোধন পরম্পরা ভাবে করে আসছেন সরকার প্রধান। বই মেলা উপলক্ষে লেখক পাঠকদের মিলন মেলায় পরিনত হয় বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গন সহ সরোওয়াদী উদ্দ্যান। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ব বিদ্যালয় পর্যন্ত আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ম্যাগাজিন/সরনীকা প্রকাশ প্রভৃতি ব্যাপক ভাবে পালিত হয় একুশে ফেব্রুয়ারীকে ঘিরে সর্বত্র।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">&#8220;একুশ মানে মাথা নত না করা&#8221; শ্লোকটিকে জাতি প্রতিপদ্য হিসাবে গ্রহন করেছে। তদুপরি আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর লেখা &#8220;আমার ভাইয়ের রক্ত রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলতে পারি?&#8221; গানটি দেশে বিদেশে বাঙ্গালী মাত্রই প্রানে স্পন্দন জোগায়। কৃষ্টি ও সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে একটি জাতি লালিত পালিত হয় যা সমৃদ্ধশালী হয় এর চর্চার মাধ্যমে। যুদ্ধ বা আন্দোলন-সংগ্রাম বা অভ্যুথান বা বিপ্লবের মাধ্যমে কোন এক বা একাধিক ভূ-খন্ড নিয়ে একটি রাষ্ট্রের জন্ম বা নাম পরিবর্তন এবং পরাধীনতা থেকে স্বাধীনতা লাভ করতে পারে, কিন্তু শত বৎসর বা যুগ যুগান্তর চর্চার পর প্রতিষ্ঠিত হয় একটি জাতির কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। ধর্মের প্রবক্তা আছে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা হয় এবং যে কোন প্রতিষ্ঠানের উদ্দোক্তাকেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে স্বীকৃত দেয়া হয়। কিন্তু কৃষ্টি ও সংস্কৃতির উৎপত্তি হয় কোন জনগোষ্ঠির অভ্যাসগত অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে যার কোন প্রতিষ্ঠাতা বা উদ্দ্যোক্তা বা ভূ-খন্ড ভিত্তিক সীমারেখা থাকে না। ইতিহাসবিদদের মতে বঙ্গোপসাগরে গজে উঠা একটি দ্বীপ থেকে বাংলাদেশের সৃষ্টি। এ দেশ বহুবার বিভিন্ন পন্থায় ভিনদেশীদের দ্বারা শাসিত হয়েছে। পাল রাজ থেকে পলাশী এবং বৃটিশ রাজ থেকে বঙ্গভবন ১৯৭১ইং সাল পর্যন্ত ভিন ভাষা-ভাষী ভিন-দেশীরা এ ভূখন্ডকে শুধু শাসন শোষন করে নাই, বরং তাদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি দিয়ে বাঙ্গালীদের ভিনদেশীদের রঙ্গে রঞ্জিত করার চেষ্টা করেছে; যদিও কোথাও কোথাও আংশিক সফল হয়েছে; যেমন কোলকাতারা উচ্চ বর্ণের বাবুরা ইংরেজী সংস্কৃতিকে অনুশীলন অনুকরন করলেও জাতি হিসাবে বাঙ্গালীর অন্তরে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">ভিনদেশী শাসকদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে বাঙ্গালীদের ভিতরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছে বটে, কিন্তু বাঙ্গালীরা ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে তাদের নিজ সংস্কৃতি থেকে সরে আসে নাই। তার অন্যতম প্রমান বাঙ্গালীর ভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে জীবন উৎসর্গ করেছে। ভিন্নদেশী শাসকরা তাদের ভাষা ইংরেজী, ফার্সী, উর্দুকে বিভিন্ন পন্থায় রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছিল; ৭৮ বৎসর পূর্বে বৃটিশ অখন্ড ভারত থেকে বিদায় নিয়েছে। কিন্তু উচ্চ আদালত, উচ্চ শিক্ষা প্রভৃতি সবকিছুতেই ইংরেজী ভাষাকে সর্বোকৃষ্ট অগ্রাধিকার দিয়ে এখন শক্ত ভাবে ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পাকিস্তান সরকারের পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর (যাদের নাম সরকারী ভাবে পাওয়া যায়) জীবন উৎসর্গ করেছেন। কিন্তু দেশী/বিদেশী লেখদের মতে শহীদের সংখ্যা আরো বেশী। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এর কোন পরিসংক্ষন নাই। শহীদের সংখ্যা সহ অন্য যে কোন বিষয়েই বির্তক বা আলোচনা থাকুক না কেন ঘটনাটি ঘটে ছিল বাংলা দিন পঞ্জিকা মতে &#8220;৮ই ফাল্গুন&#8221;; অথচ প্রতিষ্ঠা পেল ইংরেজী দিন পঞ্জী মোতাবেক &#8220;২১ শে ফেব্রুয়ারী&#8221; যা পশ্চিমাদের সংস্কৃতি ও ব্যবহার্য দিন পঞ্জি বটে। প্রশ্ন হলো বাঙ্গালীরা জীবন দিলো বাংলার জন্য অথচ গুরুত্ব পেলো ইংরেজী ক্যালেন্ডারে যা মূলত বাঙ্গালীর আদি সংস্কৃতির ধারাক নহে, বরং ভিন দেশীয় সংস্কৃতি যা অনুপ্রবেশ করেছে দখল দারিত্বের মাধ্যমে; যার ইতিহাস অনেক নির্মম ও ছলনা মূলক।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">১৭৫৭ সাল থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত প্রায় একশ বছর মুসলমানরা সম্পূর্ণভাবে ইংরেজ বশ্যতা স্বীকর করেনি। অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরা পরোক্ষভাবে বশ্যতা স্বীকার করেন এই যুক্তিতে যে মোগল সম্রাজ্যের পরিবর্তন এবং বৃটিশদের আগমন তাদের জন্য কোন ক্ষতির কারন হবে। ইংরেজরা অনেক ধাপে ধাপে অনেক সুকৌশলে অখন্ড ভারত দখলে নেয়। তাদের কৌশল ছিল Slow Poison এর মত; তাদের প্রথম ধাপ ছিল সওদাগরী, দ্বিতীয়ত: মিশনারী, তৃতীয়ত: রণতরী, চতুর্থত: ষড়যন্ত্র ছিল বৃটিশ শাসন স্থাপনে কূটনৈতিক বৃদ্ধিমত্তা।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষায় পরিনত করার আন্দোলন বিরন ঘটনা। মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অনেক দেশেই আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয় নাই। কারন মাতৃভাষার প্রয়োগ ও মর্যাদা রক্ষা একটি মৌলিক ও জন্মগত অধিকার। পাকিস্তান সরকার বাঙ্গালীদের সে অধিকার ক্ষুন্ন করেছে বিধায় ১৯৭১ ইং সনে এ দেশে থেকে তারা বিতারিত হয়। মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য আসাম রাজ্যে অনুরুপ একটি আন্দোলন হয়ে ছিল। ১০ অক্টোবর, ১৯৬০ আসামের মুখ্যমন্ত্রী বিমলা প্রসাদ চলিহা আসামীয়কে (আসামের আদিবাসীদের ভাষা) সরকারী ভাষা করার জন্য প্রস্তাব দেয়ার প্রতিবাদে শিলচর রেলষ্টেশনে সত্যাগ্রহীদের উপর আসামী প্যারামিলিটারী বাহিনী সাত</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">মিলিট ১৭ রাউন্ড গুলি ছোড়ে তাতে ১১ জনের মৃত্যু হয়, তার মধ্যে কমলা ভট্টাচার্য নামে দশম শ্রেনীর এক ছাত্রী ছিল। অন্তে বরাক উপত্যকায় বাংলা ভাষাকে সহযোগী সরকারী ভাষা হিসাবে স্বীকৃত প্রদান করা হয়। গুলিবর্ষনের এলাকাভূক্ত রেলষ্টেশনকে জনগণ &#8220;ভাষাসৈনিক শিলচর রেলষ্টেশন&#8221; নাম করন করেছেন যা এখনো বিদ্যমান রয়েছে।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">আমি ইংরেজী ভাষা শিক্ষা বা এই ভাষায় পারদর্শী হওয়ার বিপক্ষে নহে, বরং পক্ষ পাতি; এজন্য যে, ইংরেজী ভাষা আর্ন্তজাতিক বাজার দখল করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু দখলদার ইংরেজদের সংস্কৃতি আমি নিজের মধ্যে ধারন করার বিরোধী, যেমন বাংলা দিনপঞ্জি ৮ই ফাল্গুনের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ২১শে ফেব্রুয়ারী। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ২১শে ফেব্রুয়ারী উৎযাপিত হউক কিন্তু অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৮ইং ফাল্গুনকে ভাষা শহীদ দিবস হিসাবে সম্মানিত করে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় মাতৃভাষা দিবস উৎযাপন করলে বাঙ্গালী মাত্রই প্রতিটি মানুষ আত্মতৃপ্তি লাভ করবে। আমি মনে করি বাঙ্গালীয়ত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একুশে বই মেলার নাম &#8220;ফাল্গুনী বই মেলা&#8221; নামে নামকরন করাই যুক্তি সংগত। এছাড়াও বিশেষ ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে অবদানের জন্য একুশে পদক এর পরিবর্তে &#8220;ফাল্গুনী পদক” নাম করন করা হউক। ভাষা আন্দোলনে শহীদদের সঠিক সংখ্যা নিরুপনের জন্য একটি তদন্ত কমিশন গঠন করার জন্য আমি জোর দাবী জানাচ্ছি। আমার প্রস্তাবাটি কতৃপক্ষের বিবেচনায় আসলে বাঙ্গালী কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে মূল্যায়ন করা হবে।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">২১ ফাল্গুন, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ৬ই মার্চ, ২০২৫ইং</span></p>
<p><strong><span style="font-size: 18pt;">লেখক: তৈমূর আলম খন্দকার</span></strong><br />
<strong><span style="font-size: 18pt;">জীবন সদস্য, বাংলা একাডেমী, </span></strong><strong><span style="font-size: 18pt;">সাবেক সিনেটর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়</span></strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/60742">২১শে ফেব্রুয়ারী বনাম ৮ই ফাল্গুন: সংস্কারমূলক একটি প্রস্তাবনা</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/60742/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দেশ ও জাতির কল্যাণে কিছু কথা</title>
		<link>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/60711</link>
					<comments>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/60711#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Majharul Rokon]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 01 Mar 2025 05:36:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মতামত]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.sunnarayanganj24.com/?p=60711</guid>

					<description><![CDATA[<p>মাছে ভাতে আমরা বাঙালি। দিনের পর দিন এই নদী-নালা-খাল-বিল মিল...</p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/60711">দেশ ও জাতির কল্যাণে কিছু কথা</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p><span style="font-size: 18pt;">মাছে ভাতে আমরা বাঙালি। দিনের পর দিন এই নদী-নালা-খাল-বিল মিল ফ্যাক্টরির বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ ও বিষাক্ত ক্যামিক্যাল নিষ্কাশনের কারণে, দেশীয় মাছ বর্তমানে বিলুপ্তের পথে। তাই অন্তর্বর্তী সরকার যেন দ্রুত নদী সংস্কার জরুরী ভিত্তিতে গ্রহণ করেন, যেন দেশীয় মাছগুলো বেচেঁ যায়। আগামী প্রজন্ম এই মাছের স্বাদ যেন উপভোগ করতে পারে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে আমরা দেশবাসী মনে করি। হাজার হাজার জেলেদের কর্মসংস্থান যেন ব্যবস্থা হয় সেই পদক্ষেপ নিতে হবে। এই অন্তবর্তী সরকারকে আসুন আমরা সবাই সহযোগিতা করি।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">বর্তমানে এই সোনার বাংলাদেশ হতে বড় বড় রাঘববোয়াল ক্রিমিনালদেরকে ছাত্রজনতা ও সকল পেশাজীবী ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। কিন্তু আরও ক্রিমিনাল ছদ্মবেশে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে আছে, এদেরকে গ্রেপ্তার করতে সবাই যৌথ বাহিনীকে সহযোগীতা করুন। অন্তর্বর্তী সরকার এর নিকট কোনো দাবি আদায় করার জন্য রাজপথ দখল করবেন না। ১৭ বৎসর অপেক্ষা করেছেন আরও কিছু দিন অপেক্ষা করুন। নির্বাচিত সরকার এর কাছে যার যে দাবি দাওয়া পেশ করবেন।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যে নির্বাচনগুলি হয়েছে সেইখানে অস্ত্রের মহড়া পত্রিকার পাতায় দেশবাসী দেখেছে। কোনো কথা বলার সাহস করে কোনো প্রতিবাদ করতে পারে নাই দেশবাসী। সেই অস্ত্র সুষ্ঠ নির্বাচনের স্বার্থে উদ্ধার করতে হবে। ঐ সকল ক্রিমিনালদেরকে গ্রেপ্তার করতে হবে। যারা মাদক বিক্রেতা তাদেরকেও গ্রেপ্তার করতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশ হতে শহর- বন্দর, পাড়া ও মহল্লা থেকে বড় ভাই সহ কিশোরগ্যাংদেরকে সুষ্ঠ নির্বাচন এর স্বার্থে গ্রেপ্তার করতে হবে। ছিনতাই, রাহাজানি ও ডাকাতদেরকে সুষ্ঠ নির্বাচন এর স্বার্থে গ্রেপ্তার করতে হবে। ছ্যাচড়া ঘুষখোর এবং ছোট বড় চাদাঁবাজ এদেরকেও গ্রেপ্তার করতে হবে। সকল সরকারি অফিস আদালতে সৎ অফিসার গোয়েন্দা নিয়োগ দিতে হবে।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">যেকোনো দ্বন্দে অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলি হলে সরকার বাদী হয়ে মামলা করতে হবে এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঐ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। যারা দুর্নীতি করে টাকা আত্মসাৎ করেছে সেই টাকা উদ্ধার করে গরীব দুঃখীর মাঝে অর্ধেক মুল্যে চাল-ডাল-তৈল বিতরণ করতে হবে। তরুণদের ও ছাত্রজনতার রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে এই দেশ নতুন করে স্বাধীন হয়েছে। আমরা যারা বেচেঁ আছি তাদেরকে স্মরণ করবো। দুর্নীতিবাজ রেখে কোন নির্বাচন সুষ্ঠ হবে না। বিশিষ্ট শিল্পপতি ও চেম্বার অব কমার্স এর সদস্যদেরকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। সাবেক বিচারপতি সরকারি কর্মকর্তা ও আইনজীবী সমাজের সমাজ সেবক এদেরকে নমিনেশন দিতে হবে। যেকোন নেতানেত্রীর শোডাউনে মটর সাইকেল, বাস ট্রাক রাজপথ দখল করে ঐ শোডাউন বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনের প্রচার হবে সীমিত আকারে, পোষ্টারের মাধ্যমে প্রচার করতে হবে। ভোটের দিন সমর্থনকারি ও ভোটাররা প্রার্থীর ব্যাজ ব্যবহার করতে পারবে না। বাংলাদেশ থেকে মশা মাছি চিরতরে দমন করতে হবে।</span></p>
<p><strong><span style="font-size: 18pt;">লেখক: কামাল খাঁন</span></strong><br />
<strong><span style="font-size: 18pt;">রাজনীতিক ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক</span></strong></p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/60711">দেশ ও জাতির কল্যাণে কিছু কথা</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/60711/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রাজীবকে কারণ দর্শানো নোটিশ, প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় বিএনপি</title>
		<link>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/51341</link>
					<comments>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/51341#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Majharul Rokon]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 16 Jun 2023 13:20:35 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মতামত]]></category>
		<category><![CDATA[লিড নিউজ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.sunnarayanganj24.com/?p=51341</guid>

					<description><![CDATA[<p>আগামী ১৭ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন। এই সম্মেলনের কয়েক...</p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/51341">রাজীবকে কারণ দর্শানো নোটিশ, প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় বিএনপি</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p><span style="font-size: 18pt;">আগামী ১৭ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন। এই সম্মেলনের কয়েক ঘন্টা পূর্বে সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর দেয়া কারণ দর্শানো নোটিশটি তাদের দল বিএনপিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলেই মনে করছি। দেশের বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এমন একটি নোটিশ নারায়ণগঞ্জে বেশ আলোচিত সমালোচিত হয়ে ওঠছে। সরকারি দলও মুচকি হাসি দিয়ে টিপ্পুনী কাটছে।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">আমি সাধারণত কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ কিংবা রিভিউ দেইনা। এখনো পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শ লালনও করি না। তাই রাজনৈতিক বিষয়গুলো এড়িয়ে চলি। তবে দীর্ঘদিন স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতার সুযোগে রাজনীতি নিয়ে নিজে নিজে একটু আধটু ঘাটাঘাটি করেছি। আর এ কারনেই যখন বিএনপির একটি নোটিশ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের নানা প্রশ্নগুলো সামনে চলে আসছে, তখন সেই বিষয়গুলো তুলে ধরতে চাই এবং এ ধরণের হটকারী সিদ্ধান্তে একটি রাজনৈতিক দলকে নিজ দলের কর্মীদের কাছে কতখানি প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে সেটা যতটুকু সম্ভব তুলে আনতে চাই। বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে আনতে একটু লম্বা হতে পারে লেখাটি, সে কারণে পাঠক সমাজ বিরক্ত হবেন না। অবশ্যই লেখার উপসংহারে লেখাটির মর্মার্থ থাকবে।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">একটু পেছনে যাই, গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীনকে আহ্বায়ক ও গোলাম ফারুক খোকনকে সদস্য সচিব করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। খোকনকে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক পদে বহাল থাকাবস্থায় এই পদে আনা হয়, এখনো তিনি রয়েছেন। ওই কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে আসেন মাসুকুল ইসলাম রাজীব। কমিটিতে ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় মামুন মাহামুদকে, যেখানে ইউনিট কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে মামুন মাহামুদেরও স্বাক্ষর লাগবে বলে শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে মামুন মাহামুদের বিনা স্বাক্ষরেই জেলা বিএনপির আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিট কমিটিগুলো গঠন করা হয়, যে বিষয়গুলোর কোনো তদারকিই করেনি কেন্দ্রীয় বিএনপি।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">যাইহোক প্রসঙ্গ বাড়াতে চাই না। এদিকে সম্মেলনের পূর্বেই বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সভাপতি হয়েছেন মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন। সাধারণ সম্পাদক পদে মাসুকুল ইসলাম রাজীব ও গোলাম ফারুক খোকনের মধ্যে ভোটাভুটি হবে এমনটা প্রায় নিশ্চিত। ১৪ জুন রাজধানীতে গিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় খোকনের পক্ষালম্বন করে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুঁইয়া। ওই সভায় রাজীবের বিরুদ্ধে নানা ধরণের অভিযোগ তোলা হয়, যা গণমাধ্যমে বিরাট আকারে প্রকাশ পায়।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">আর সেই সভার নেতাকর্মীদের বক্তব্যের বিষয়ে ও গণমাধ্যমে রাজীবের বিরুদ্ধে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে রাজীবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন রুহুল কবির রিজভী। এবার আলোচনায় আসি নোটিশটির বিষয়গুলো নিয়ে। ১৫ জুন রাতে রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত নোটিশটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়, ততক্ষণে হয়তো নোটিশ প্রাপকের হাতেও পড়েনি। কারন পরদিন বিকেলে তিনি জানিয়েছেন নোটিশটি তিনি পেয়েছেন। তার আগেই ফেসবুকে নোটিশটি ভাইরাল। নোটিশটি মধ্যরাতে প্রকাশিত হলেও পরদিন শুক্রবার স্থানীয় প্রিন্ট মিডিয়াগুলো বেশ ফলাও করে বিরাট আকারেই প্রকাশও করেছে। এতে ধারণা করা যায় নোটিশটি নিয়ে নোটিশের সুবিধাভোগী পক্ষ দৌড়াদৌড়িও করেছেন বেশ।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">এবার আসি নোটিশে যে যে অভিযোগগুলো আনা হলো। রাজীবকে কারণ দর্শানো নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আপনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট নামে একটি ভূঁইফোড় সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন বলে আমরা গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন তথ্যসূত্র থেকে জানতে পেরেছি। দল আরও অবহিত হয়েছে যে, আপনি শুধুমাত্র উক্ত সংগঠনের সাথে যুক্তই হননি, বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি, নানাবিধ অপপ্রচার ও দলবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত আছেন। আপনার এহেন তৎপরতা শুধু সংগঠন বিরোধীই নয়, বর্তমান দুঃসময়ে দলের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা। সুতরাং উল্লিখিত ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার জন্য কেন আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শিয়ে আগামী ০৫ (পাঁচ) দিনের মধ্যে একটি লিখিত জবাব দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি অতীব জরুরী।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">এই নোটিশের পর এখন দলের প্রতি নেতাকর্মীদের যেমন প্রশ্ন, ঠিক আমারো প্রশ্ন- ২০১৩ সালে বিএনএফ কমিটির একটি খসড়া কাগজ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, সেই কাগজটিতে মাসুকুল ইসলাম নামে একজনকে সদস্য সচিব দেখানো হয়। তাহলে সেই বিষয়ে এত্ত বছর পর কেন জবাব চাইবে বিএনপি? সেই বিষয়টি প্রকাশের পর রাজীবকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হলো, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকও করা হলো, বিগত কমিটিতেও রাজীবকে সদস্য রাখা হলো এবং সর্বপরি বর্তমান কমিটিতেও তাকে ‍যুগ্ম আহ্বায়কও করলেন। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় সম্মেলনের দু’দিন আগে কেন এমন অভিযোগ তুলে কারণ দর্শানোর নোটিশ? বিএনফ টিএনএফ কিছুই না, বিষয়টি পরিষ্কার- রাজীবকে সম্মেলনে প্রার্থী হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করা। অর্থাৎ হাই কমান্ড চায় না রাজীব প্রার্থীতায় থাকুক এবং খোকনকেই জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে রাখতে চায়।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">এখন আমার পর্যবেক্ষণ হলো- একটা দলের আভ্যন্তরীণ নানা সিদ্ধান্ত থাকতেই পারে। কৌশল থাকতেই পারে। কিন্তু সেটা প্রকাশ্যে কেন এবং দল কেন কর্মীদের প্রশ্নের মুখে পড়বে? কারন দলকে বুঝা ‍উচিত- স্থানীয় যারা ভোটাভুটিতে রাজীবকে দেখতে চায় না, তাদের ভয় বেশি এবং তাদের ভোটের সংখ্যা কম। তাহলে রাজীবের ভোট বেশি, অর্থাৎ কর্মী বেশি। তবুও এখন দল যদি রাজীব নয়, অন্য কাউকে নেতৃত্বে দেখতে চায় তাহলে সেটা প্রকাশ্যে নোটিশ দিয়ে বিতর্কিত করে রাজীবকে সরাতে হবে কেন? ভিন্ন মসৃণ পথেও রাজীবকে সরিয়ে খোকনকে দায়িত্বে রাখা যায়। দলের আরো বুঝা উচিত যদি নোটিশ দিয়ে রাজীবকে সরাতে চায় তাহলে স্থানীয় অধিকাংশ কর্মীদের কাছে প্রশ্নের মুখে পড়বে দল, আর সেটাই হয়েছে নারায়ণগঞ্জে।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">এই প্রশ্নবিদ্ধ নোটিশের ফলে দলের চাওয়াটা অধিকাংশ নেতাকর্মীরা বুঝতে পেরেছে। কিন্তু অধিকাংশ কর্মীদের পছন্দের নেতাকে এভাবে বিতর্কিত করে নেতৃত্বে আসার পথে তাদের দলই বাধা সৃষ্টি করবে এটা তারা মেনে নিতে পারছে না। কারন বিএনএফে যুক্ত থাকার অভিযোগটি একেবারেই ঢুনকো, যেখানে একই কাগজে আরো যাদের নাম এসেছিলো, সেইসব নেতা-নেত্রীরা নারায়ণগঞ্জে বিএনপির শীর্ষ পদের নেতৃত্বে বহাল রয়েছেন। ছাত্র রাজনীতি থেকে তীল তীল করে ওঠে আসা একজন কর্মীবান্ধব নেতাকে এভাবে দল ক্ষতিগ্রস্থ করবে সেটা কর্মীরা মানসিকভাবে মানতে পারছে না।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">কার্যত এই ধরণের হটকারী নোটিশে নারায়ণগঞ্জের বিপুল সংখ্যক কর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হলো, এতে বিএনপিই ক্ষতিগ্রস্থ হলো। দলের প্রতি কর্মীদের ভয় সৃষ্টি হলো, কর্মীরা হতাশায় পড়ে গেল। দলের আভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত পর্দার আড়ালে রাজীবকে জানিয়ে তাকে সরিয়ে দিলেই কেবল দল প্রশ্নের মুখে পড়তো না, যেটা বর্তমানে হয়েছে। দলের এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হলে এই ধরণের হটকারী নোটিশ প্রত্যাহার করে সম্মেলনে রাজীবকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়া উচিত। এতেই দল লাভবান হবে বলে মনে করছি। এই ধরণের ভুল সিদ্ধান্তের আগে ভবিষৎে বিএনপিকে আরো সতর্ক হওয়া উচিত বলেই মনে করি, নতুবা আপনাদের দল এভাবে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে।</span></p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class="alignnone size-medium wp-image-51346" src="https://www.sunnarayanganj24.com/wp-content/uploads/2023/06/IMG_20230616_180130-267x300.jpg" alt="" width="267" height="300" srcset="https://www.sunnarayanganj24.com/wp-content/uploads/2023/06/IMG_20230616_180130-267x300.jpg 267w, https://www.sunnarayanganj24.com/wp-content/uploads/2023/06/IMG_20230616_180130-374x420.jpg 374w, https://www.sunnarayanganj24.com/wp-content/uploads/2023/06/IMG_20230616_180130.jpg 558w" sizes="(max-width: 267px) 100vw, 267px" /></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">লেখক: মাজহারুল ইসলাম রোকন</span><br />
<span style="font-size: 18pt;">আইনজীবী ও কলামিস্ট</span></p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/51341">রাজীবকে কারণ দর্শানো নোটিশ, প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় বিএনপি</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/51341/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>যা কিছু চিরকল্যাণকর অর্ধেক তার গড়িয়াছে নারী অর্ধেক তার নর</title>
		<link>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/48771</link>
					<comments>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/48771#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Majharul Rokon]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 07 Mar 2023 13:30:30 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মতামত]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.sunnarayanganj24.com/?p=48771</guid>

					<description><![CDATA[<p>কাল ৮&#8217;ই মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিবসকে সামনে রেখেই...</p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/48771">যা কিছু চিরকল্যাণকর অর্ধেক তার গড়িয়াছে নারী অর্ধেক তার নর</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p><span style="font-size: 18pt;">কাল ৮&#8217;ই মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিবসকে সামনে রেখেই আমার কিছু কথা, &#8220;আমরা নারী আমরা সবই পারি&#8221;। মার্চ মাসের ৮ তারিখ হলো আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দেশজুড়ে বা বলা চলে বিশ্বজুড়ে এই দিন সব মেয়েদের সম্মান জানানো হয়। যদিও আজকের দিনে নারীরা বলে তাদের জন্য আলাদা কোনো দিনের প্রয়োজন নেই। কারণ, প্রত্যেক নারী ই এখন স্বয়ংসিদ্ধা, তারা এখন কারো উপরে নির্ভরশীল নয়। বরং, তাদের ভিত্তি স্তম্ভে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে পরিবার, কোন কোম্পানির ভবিষ্যৎ, এমনকি নির্ভর করে আছে কোন দেশের ভাগ্য। একজন নারী যদি তার দক্ষতা বুঝে এবং ব্যবহার করে তবে তারা বিশ্বকে পূর্ণ গঠন করতে পারে।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">একজন শক্তিশালী নারীই জানে যে কিভাবে জীবনকে বাজি রেখে চোখের অশ্রুকে লুকিয়ে ফেলে জীবনটাকে এক পা দু পা করে সামনের দিকে পরিচালনা করতে হয়। সারা বিশ্বের নারী এখন ঘরে এবং বাহিরে সমান তালে তাল মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। কেউ বিশ্বাস করুক আর নাইবা করুক, আপনি সর্বদা গর্ববোধ করুন যে আপনি একজন নারী। সব সময় ভালো থাকুন এবং ভালো চিন্তা করুন, কখনো কোন অবস্থাতেই ভেঙে পড়া যাবে না, নিজেকে এতটাই যোগ্য করে তুলুন যে কাউকে আপনার অনুসরণ করতে না হয় বরং সবাই যেন আপনাকেই অনুসরণ করে। নিজে বদলে যাও পরিবারকেও বদলে দাও, তুমি নারী তুমি নিজেও জানো না তোমার মধ্যে কতটা ক্ষমতা লুকিয়ে আছে, সবাইকে নিজের আলোয় আলোকিত করছ তুমি নারী, নারী শব্দটাই তো শক্তির সঙ্গে জড়িত।</span></p>
<p><span style="font-size: 18pt;">তাই আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমি আমার সমস্ত শুভাকাক্সক্ষীদের আন্তরিক ধন্যবাদ দিতে চাই যাদের উৎসাহ ধ্বনিতে আজ আমি আমার সাফল্যের গল্প লিখতে সক্ষম হয়েছি। সবশেষে সবার কাছে দোয়া কামনা করছি, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।</span></p>
<p><strong><span style="font-size: 18pt;">লেখক: রাাহিমা আক্তার লিজা</span></strong><br />
<strong><span style="font-size: 18pt;">প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, নারী কল্যাণ সংস্থা</span></strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/48771">যা কিছু চিরকল্যাণকর অর্ধেক তার গড়িয়াছে নারী অর্ধেক তার নর</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/48771/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>‘জাহাঙ্গীর ভাই, আপনার কথা ভূলি নাই, ভূলবোনা’</title>
		<link>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/34457</link>
					<comments>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/34457#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Majharul Rokon]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 05 Jun 2021 16:37:46 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মতামত]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.sunnarayanganj24.com/?p=34457</guid>

					<description><![CDATA[<p>জাহাঙ্গীর ভাই, আপনার কথা ভূলি নাই, ভূলবোনা। আল্লাহ আপনাকে নিয়ে...</p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/34457">‘জাহাঙ্গীর ভাই, আপনার কথা ভূলি নাই, ভূলবোনা’</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p><span style="font-family: solimanililpi; font-size: 18pt;">জাহাঙ্গীর ভাই,</span></p>
<p><span style="font-family: solimanililpi; font-size: 18pt;">আপনার কথা ভূলি নাই, ভূলবোনা। আল্লাহ আপনাকে নিয়ে গেছেন। আমরাও হয়তো যে কোন সময় চলে আসবো। কারন ফেরত যাবার কোন সময় অসময় নেই। যার যখন সময় হবে আল্লাহ নিয়ে যাবেন। জানিনা সেখানে আপনার সাথে দেখা হবে কিনা।</span></p>
<p><span style="font-family: solimanililpi; font-size: 18pt;">তবে আপনার ভালোবাসা,আমার প্রতি আপনার অগাধ বিশ্বাস, আপনার সমর্থনের কথা জীবনে মরনে যেন স্মরণে থাকে আল্লাহ যেন আমাকে সেই তৌফিক দেন। ওপারে ভালো থাকবেন। মহান রাব্বুল আলামিন যেন আপনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মোকাম দান করেন, সেই প্রার্থনাই করি।</span></p>
<p><span style="font-family: solimanililpi; font-size: 18pt;">জাহাঙ্গীর ভাই চলে গেছেন ৩ বছর হয়ে গেল। এর আগে পরে আরো কত সহযোদ্ধাও এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিল। রফিক ভাই, প্রধান ভাই, ফেরদৌস ভাই, নজরুল ভাই, বিল্লাল ও ইব্রাহীম সহ আরো কত অগুনিত রাজপথের সাথীকে হারালাম।</span></p>
<p><span style="font-family: solimanililpi; font-size: 18pt;">তবে মৃত্যু মানেইতো সবকিছুর শেষ নয়। মহজাগতিক শফরের অনন্ত যাত্রার শুরু মাত্র। পৃথিবীর প্রতিটি প্রানীকেই একিদিন সেই যাত্রার যাত্রী হতে হবে। এটাই সত্য আর সব মরিচীকা। যারা চলে গেছে তারাতো এখন আর খবরের শিরোনামে নেই। মৃত্যুবার্ষীকি ছাড়া সারা বছরই তারা থাকে খবরের অন্তরালে।</span></p>
<p><span style="font-family: solimanililpi; font-size: 18pt;">এক সময়েয় দাপুটে সহকর্মীদের শেষ সময়ের অসহায়ত্বকে আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি।শুনেছি তাদের মুখে রূঢ বাস্তবতার সাতকাহন। তাই কোন অবহেলা বা পাওয়া না পাওয়া নিয়ে আমার কষ্ট নেই। চলার পথের সব বিষগুলোকে পান করে নীলকন্ঠ হতে চেয়েছি। কুড়িয়ে রেখেছি সবার ভালবাসাটুকুকে হৃদয়ের গহীনে। </span><br />
<span style="font-family: solimanililpi; font-size: 18pt;">আজ সেই ভালোবাসাকে বুকে জড়িয়েই যাত্রী হতে চাই চীর বিদায়ের। জীবনে নিজের জন্য আর কোন চাওয়া পাওয়া নেই। আমাকে ক্ষমা করে দেবেন সবাই। দোয়া করবেন যেন অন্তিম নিশ্বাসে কন্ঠে উচ্চারিত হয় কলমায়ে তৈয়ব “লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসুলআল্লাহ্”।</span></p>
<p><strong><span style="font-family: solimanililpi; font-size: 18pt;">লেখক : এটিএম কামাল,</span></strong><br />
<strong><span style="font-family: solimanililpi; font-size: 18pt;">সাধারণ সম্পাদক, মহানগর বিএনপি নারায়ণগঞ্জ</span></strong></p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/34457">‘জাহাঙ্গীর ভাই, আপনার কথা ভূলি নাই, ভূলবোনা’</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/34457/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আমার অহংকার</title>
		<link>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/29283</link>
					<comments>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/29283#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Majharul Rokon]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 20 Feb 2021 17:21:14 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মতামত]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.sunnarayanganj24.com/?p=29283</guid>

					<description><![CDATA[<p>ফ্রেরুয়ারী আমাদের ভাষা ও ত্যাগের মাস, মহান স্বাধীনতার বীজ রোপনের...</p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/29283">নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আমার অহংকার</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div><p>ফ্রেরুয়ারী আমাদের ভাষা ও ত্যাগের মাস, মহান স্বাধীনতার বীজ রোপনের মাস। আমি নারায়নগঞ্জ সহ সারা দেশের সকল ভাষা সৈনিক ও ভাষার দাবীতে সকল শহীদ’দের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। ১৯৫২ সাল থেকে ২০০৪ পর্যন্ত নারায়নগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস পালিত হলেও নারায়ণগঞ্জে কেন্দ্রীয় ভাবে স্থায়ী কোন শহীদ মিনার ছিল না।</p>
<p>তবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দের একান্ত চেষ্টায় চাষাড়া কেন্দ্রীক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে শহীদ মিনার ছিল। শেষের দিকে পূর্ণাঙ্গ অবয়বে না হলেও বর্তমান শহীদ মিনার চত্বরে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে। ফলে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ ও জনগনের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল একটি স্থায়ী ও পূর্নাংগ শহীদ মিনার। যেখানে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ভাষার শুদ্ধ চর্চা তথা একটি সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে উঠবে।</p>
<p>দীর্ঘদিন পরে ২০০৩ সালে নারায়নগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের পরে একটি পূর্নাংগ শহীদ মিনার করার সিদ্ধান্ত নেয় নব নির্বাচিত পৌর পরিষদ। চাষাড়ার যেখানে অস্থায়ী ও অপূর্নাংগ শহীদ মিনারটি ছিল সেই জায়গাটি আমার ওর্য়াডের মধ্যে। পূর্বের জায়গাই সর্বসম্মতিক্রমে শহীদ মিনার স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। শহীদ মিনার নির্মানের জন্য নারায়নগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট দশ হাজার টাকা পৌরসভায় অনুদান দেয়। মেয়র মহোদয়ের নির্দেশক্রমে আমি সংশ্লিষ্ট ওর্য়াড কাউন্সিলর হিসাবে তদারকি ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়ে নিজেকে আমি চরম ভাগ্যবান ও গর্বিত মনে করি।</p>
<p>নকশা প্রনয়ন, টেন্ডার আহবান করে ঠিকাদার নিয়োগের পরে ২০০৪ সালের ৮ই জানুয়ারী আনুষ্ঠানিক ভাবে শহীদ মিনারের ভীত তৈরীর জন্য মাটি কাটার কাজ শুরু হয়। মেয়র মহোদয়ের অনুমতিক্রমে আমি কোদাল হাতে মাটিতে কয়েকটি কোপ দিয়ে ও মোনাজাতের মাধ্যমে কাজের উদ্বোধন করি। তখন আরো উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার তৎকালীন তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খাইরুল ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী আওলাদ হোসেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কদম রসুল কনস্ট্রাকশনের মালিক এমরান হোসেন সহ অনেকে। ১২ই জানুয়ারী প্রথম ঢালাই কাজও আমার হাতে শুরু হয়।</p>
<p>এরইমধ্যে চলে আসে মহান ভাষা দিবস ২১শে ফ্রেরুয়ারী। সেইবার অর্ধ সমাপ্ত শহীদ মিনারেই নারায়ণগঞ্জবাসী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। এভাবেই দিনে দিনে এগিয়ে যায় নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বপ্ন যাত্রা। ধীরে ধীরে একটি পূর্নাংগ শহীদ মিনারে অবয়ব ফুটে উঠতে শুরু করে। এরই মধ্যে ১২ই জুন শহীদ মিনারের কাজের অগ্রগতি পরির্দশনে আসেন পৌর মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তৎকালীন জেলা প্রশাসক হারুনার রশীদ।</p>
<p><img decoding="async" class="size-medium wp-image-29285 alignleft" src="https://www.sunnarayanganj24.com/wp-content/uploads/2021/02/IMG_20210220_185104-300x204.jpg" alt="" width="300" height="204" srcset="https://www.sunnarayanganj24.com/wp-content/uploads/2021/02/IMG_20210220_185104-300x204.jpg 300w, https://www.sunnarayanganj24.com/wp-content/uploads/2021/02/IMG_20210220_185104-618x420.jpg 618w, https://www.sunnarayanganj24.com/wp-content/uploads/2021/02/IMG_20210220_185104.jpg 640w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p>শেষ হয় অপেক্ষার পালা। অবশেষে ৩০শে নভেম্বর’২০০৪ ঠিকাদার কাজ শেষ করে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার হস্তান্তর করে। নামকরন করা হয় ”নারায়নগঞ্জ কেন্দ্রীয় পৌর শহীদ মিনার”। আজ সেই শহীদ মিনার নারায়ণগঞ্জবাসীর শিক্ষা সাংস্কৃতির পীঠস্থান। শহীদ মিনার নির্মাণে আমার ভূমিকা অনেকই হয়তো জানে না, আবার অনেকে জেনেও মানেন না। তারপরেও এই শহীদ মিনারের পাশ দিয়ে যখন যাই, যখন দেখি হাজার মানুষ এখানে শহীদদের শ্রদ্ধা জানায়, যখন দেখি শিক্ষা সাংস্কৃতি সহ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ এবং শতশত তরুণের পদভারে মুখরিত থাকে শহীদ মিনার চত্বর, তখন নিজের অজান্তেই বুকের মধ্যে গর্ব অনুভব করি এই ভেবে যে আমি এই মহান কাজটির সাথে প্রতোক্ষ্য ভাবে আমি সংশ্লিষ্ট ছিলাম। এই গর্ব শুধু আমার একার নয়, এই গর্ব আমাদের ১৩ নং ওয়ার্ডবাসীর সবার। কারণ তাদের প্রতিনিধি হিসাবেই এই মহৎ কাজে আমার অংশগ্রহন। মানুষের মনে ঠাই না হলেও পৌরসভার দলিল দস্তাবেজে নিশ্চই আমার নামটি থেকে যাবে, যতদিন আমাদের মায়ের ভাষা থাকবে, যতদিন আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব থাকবে,ইনশাল্লাহ।</p>
<p>আগে শহীদ মিনার লাগোয়া পশ্চিম দিকের রাস্তাটির কোন নাম ছিল না। এলাকাবাসী বালুরমাঠ নামে জানতো। শহীদ মিনারের কাজ শেষ হওয়ার পরে আমার প্রস্তাবেই পৌর পরিষদ সড়কটির নাম করন করে “শহীদ ভাষা সৈনিক সড়ক”। তাছাড়া আরো একটি সড়কের নাম একজন ভাষা সৈনিকের নামে নাম করনের প্রস্তাবকও আমি ছিলাম। যার সকল লিখিত রের্কড নাসিকে রক্ষিত আছে।</p>
<p>তথাপিও সম্পূর্ন কৃতিত্ব তাদের, যারা ১৯৫২ থেকে ২০০৩ পর্ষন্ত নারায়নগঞ্জে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শহীদ মিনারের ব্যাবস্থা করেছিলেন এবং দাবী তুলেছিলেন একটি পূনাংগ ও স্থায়ী শহীদ মিনারের। নারায়নগঞ্জের ভাষা আন্দোলন ও শহীদ মিনারের দীর্ঘ ও বন্যার্ঢ্য ইতিহাস রয়েছে। আমার সংক্ষিপ্ত লেখায় তা উল্লেখ করা সম্ভব হলো না বিধায় আমি সংশ্লিষ্টদের কাছে কড়জোর ক্ষমা প্রাথী।</p>
<p><strong>লেখক: মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ</strong><br />
<strong>কাউন্সিলর, ১৩নং ওয়ার্ড, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন</strong></p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/29283">নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আমার অহংকার</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/29283/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কনকনে শীতে খেজুর রস ও সুস্বাদু পিঠা গ্রামবাংলার চাষীর প্রধান উৎসব</title>
		<link>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/26076</link>
					<comments>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/26076#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Majharul Rokon]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 01 Jan 2021 16:41:45 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মতামত]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.sunnarayanganj24.com/?p=26076</guid>

					<description><![CDATA[<p>আবহমান গ্রামবাংলার অনেক চাষীদের শীতকালীন খুবই বৈচিত্র্য পূর্ণ উৎসবের প্রধান...</p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/26076">কনকনে শীতে খেজুর রস ও সুস্বাদু পিঠা গ্রামবাংলার চাষীর প্রধান উৎসব</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>
<p></p>



<p>আবহমান গ্রামবাংলার অনেক চাষীদের শীতকালীন খুবই বৈচিত্র্য পূর্ণ উৎসবের প্রধান উপাদান হলো- ‘&#8217;খেজুর রস’&#8217;। গ্রামীণ সাধারণ মানুষদের জীবন-জীবিকায় এটিকে মুল হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে। স্বপ্ন ও প্রত্যাশায় অনেকখানি খেজুরগাছের সঙ্গে চাষীদের অঙ্গাঅঙ্গিভাবে বসবাস হয়ে উঠে। নানানভাবে জড়িত চাষীর জীবন সংগ্রামে বহু কষ্টের মাঝেই অনেক প্রাপ্তি যুক্ত হয়। সমগ্র বাংলার জনপ্রিয় তরুবৃক্ষ- খেজুর গাছের সঙ্গেই- ভূমিহীন চাষী, প্রান্তিক চাষী, দারিদ্র ক্লিষ্ট মানুষের জন্য এই সময়টা অনেক আনন্দদায়ক। কারণ, এমন খেজুর গাছই তো চাষীর অন্নদাতা।</p>



<p>আরো জানা যাক, হেমন্তের শেষেই শীতের ঠান্ডা পরশে গ্রামবাংলার চাষী খেজুরগাছের মিষ্টি রসে নিজেদেরকে ডুবিয়ে নেওয়ার সুন্দর মাধ্যম সৃষ্টি করেন। গ্রাম বাংলার চাষীদের যেন একঘেয়েমির যান্ত্রিকতায় জীবনযাপনের অনেক পরিবর্তন আনে শীতের ঋতুচক্র।‌ এই শীতকালে বৈচিত্র্যপূর্ণ গ্রামীণ সংস্কৃতির মাঝেই যেন ‘খেজুর রসের হরেকরকম পিঠা উৎসব&#8217; শুরু হয়। তাযেন এক শৈল্পীক ঐতিহ্যের বহুমুখী সমারোহ বা প্রাণোচ্ছলতায় বারবারই ফিরে আসে।</p>



<p>চাষীরা সৃষ্টি কর্তার সৃজনশীল খেজুর গাছের যত্ন-আত্তি না করলে যেন রস মিলবে না। আর রস না মিললে গুড় হবে কি করে। পাটালি না দেখলে চাষীর যেন ঘুম আসে না। চাষী তাদের মেয়ে বা বউয়ের হাতের কাঁচা সুপারির কচি পান গালে ভরেই বাঁশের ডালি মাথায় করে গঞ্জে ও দূর্বতী হাট বাজারে যাবে কি করে। আর, পাটালি গুড়ের মিষ্টি মধুর গন্ধে তারা বিভোর হয়ে বিক্রয় কর্মে না থাকে তো পেটে ভাতে বাঁচবে কি করে। শীত কালের আমেজে প্রকৃতির মাঝ থেকে সংগীহিত &#8216;মিষ্টি খেজুর রস&#8217; চাষীরা চষে বেড়ায় সকালে, বিকেলে কিংবা সন্ধ্যায় মেঠো পথ ধরে। তারই বহিঃ প্রকাশে যেন চমৎকার নান্দনিকতা বা অপরূপ দৃশ্যপটের সৃষ্টি হয, সত্যিই তা যেন শৈল্পীকতার নিদর্শন। শৈল্পীক আস্থা ও বিশ্বাসকে নিয়ে প্রকৃতির সৃষ্টি বিশাল আকৃতির &#8216;কুয়াশাচ্ছান্ন এবং ঝাপসা&#8217; পরিবেশের দেখা মিলে, তা যেন চাদরের মতো। চাষী&#8217;রা সে চাদরের মধ্যেই নিজের &#8216;চাদরের মুড়ি&#8217; দেয়। প্রয়োজনের তাগিদে সামান্য কষ্ট তাদের গায়ে লাগে না। এই শীতে কালে রূপ সৌন্দর্যের আরও একটি উপাদেয় সামগ্রী খাঁটি সরিষার তেল। যা তারা শরীরে মালিশ করে অনেকাংশেই ত্বকের মশ্রিণতা এবং ঠান্ডা দূর করে খেজুর গাছে উঠতে।</p>



<p>গ্রামাঞ্চলের চাষীরা ভোরবেলায় খেজুরগাছ হতে রসের হাড়ি নামিয়ে আনতে ব্যস্ত হন। রাতের এ হিমশীতল রস ভোরে হাড় কাঁপানি ঠান্ডায় গাছ থেকে নামিয়ে খাওয়ার যে স্বাদ তা একেবারেই আলাদা মাত্রা সৃষ্টি করে। ভোরে এই খেজুর রস খেলে শীত যেন শরীরে আরও জাঁকিয়ে বসে। তাদের কাছে এ শীতে শরীর কাঁপানি এক স্পন্দন চরম মজা দায়ক মনে হয়। শীত লাগে লাগুক না, তবুও রস খাওয়ার কোন বিরাম নেই। তারা এক গ্লাস, দু&#8217; গ্লাস খাওয়ার পরপর কাঁপতে কাঁপতেই যেন আরো এক গ্লাস মুড়ি মিশিয়ে মুখে তুলে চুমক দেয়া, আর রোদ পোহানো সে কি আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা দূরহ। শীতের কুয়াশা ঢাকা সকালে গ্রামের ছেলে মেয়েরা ঘুম হতে খুব ভোরে উঠে হাত মুখ ধুয়ে খড় কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে হাত পা গরম করে। আর অপেক্ষায় থাকে কখন সকালের তীব্র বা মিষ্টি রোদের প্রখরতা আরও তীব্র হবে। তাদের রোদ পোহানোর আরামের সাথে সাথে আরো অপেক্ষা থাকে, তা হলো তাদের প্রিয় &#8216;খেঁজুর রস&#8217;। কখন যে আসে আর তখনই খাবে। সেই &#8216;রস&#8217; আসলে যথা সময়ে হাজির হলে তাদের কাছে যেন আনন্দ উল্লাসের কোনোই কমতি হয় না। গ্রামাঞ্চলের খুব অভাবী মেয়েরা রংবেরংয়ের যেসব খেজুর পাতায় খেজুর পাটি তৈরী করে তার উপরই যেন চলে রস খাওয়ার আসর। উপার্যনের জন্য খেজুর পাতা শুকিয়ে তা দিয়েই নকশা খচিত খেজুর পাটি তৈরী পরে আর তা বিক্রি করে তাদের সংসারে কিছুটা হলেও অর্থ সংকোলান হয়। সুতরাং, এই খেজুরের পাটিতেই গ্রামের অনেক পরিবার ঘুমানো কাজে ব্যবহার করে। এ খেজুর পাতায় এক ধরনের &#8216;সাহেবী টুপি&#8217;ও তৈরি হয়। খেজুরের পাতা, ডাল এবং গাছ শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। আর মোরুব্বা তৈরিতেও এই খেজুর কাটার ব্যবহার প্রচলিত আছে। এককথায় বলা চলে যে খেজুর গাছের পাতার ও ডাল সেতো কবর পর্যন্ত চলে যায়।</p>



<p>খেজুর গাছ ছয় সাত বছর বয়স থেকে রস দেওয়া শুরু করে। ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত &#8220;রস&#8221; দেয়। গাছ পুরনো হয়ে গেলে রস কমে যায়। আবার অনেক পুরনো খেজুর গাছের রস অনেক মিষ্টি হয়। জানা যায় যে, &#8216;মাঝ বয়সী গাছ থেকে সবচেয়ে বেশি রস পাওয়া যায়&#8217;। বেশি বেশি রস সংগ্রহ করাও গাছের জন্য অবার অনেক ক্ষতিকর। রস সংগ্রহের জন্য কার্তিক মাসে খেজুর গাছ কাটা শুরু হয়। কার্তিক মাস থেকেই &#8216;রস&#8217; পাওয়া যায়। রসের ধারা চলতে থাকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত। শীতের সঙ্গে রস ঝরার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। শীত যতো বেশি পড়ে ততোই যেন বেশি রস ঝরে। রসের স্বাদও তত মিষ্টি হবে। অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ মাস হলো রসের ভর মৌসুম। অগ্রহায়ণ হতে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত একটি খেজুর গাছে মাসে &#8216;৪০ কেজি&#8217; রস পাওয়া যেতে পাবে। খেজুরগাছ শুধু রস দিয়ে ক্ষান্ত হয় না। শুকনো খেজুরের &#8220;ভেষজ গুন&#8221; অনেক রয়েছে। আর খেজুরের বীজ গুলি বাহির করে নিয়ে দুধে খেজুর গুলো মিশিয়ে ভালভাবে ফুটিয়ে গরম করে এমন দুধ ও খেজুর গুলো ঠান্ডা করে শিশুকে খাওয়ালে শক্তি বাড়ে৷ একটি শুকনো খেজুর ফলের পুষ্টি মান প্রায়,- ৭৫-৮০% শর্করা, ২% আমিষ এবং প্রায়- ২.৫% স্নেহজাতীয় পদার্থ থাকে। খেজুরের ১০০ গ্রাম শাঁসে ২০ ভাগ পানি, ৬০-৬৫ ভাগ শর্করা, ২ ভাগ আমিষ, আর খুবই সামান্য পরিমাণ কপার, সালফার, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন- এ, বি-১, বা বি-২ কিংবা খনিজ লবণ খোঁজে পাওয়া যায়।</p>



<p>চাষীরা দিনের বেশির ভাগ সময় কাটান এগাছে হতে সে গাছে। মাটিতে পা ফেলার ফুরসতটুকুও পায় না অভাবী এই মানুষগুলো। শীত আসা মাত্রই খেজুর গাছ ‘তোলার জন্য’ অনেক আগে থেকেই সকাল-সন্ধ্যা পরিশ্রম করে। খেজুর গাছ বিশেষ কায়দায় কাটতে হয়। আর এই গাছ গুলো কাটে যারা তাদেরকে ‘গাছি’ বলা হয়। তারা নানা উপকরণ সমন্বয়ে গাছি নাম ধারি মানুষ পরিচ্ছন্ন ভাবেই গাছ কাটার জন্য ব্যস্ত হয়ে যান। গাছগুলো কাটতে যেন ব্যবহার করেন দা, দড়ি, একটুকরো চামড়া এবং পুরনো বস্তা আবার দা রাখার জন্য বাঁশ দিয়ে তৈরি থলি কিংবা ঝাঁপি। সে ঝাঁপি গাছিরা রশি দিয়ে খুব যত্নে দা রেখে এ গাছ হতে সে গাছে উঠা, নামা করে সুবিধা পায়। আবার কোমরে বেশ কিছু চামড়া বা বস্তা বেঁধে নেয়, যেন গাছে উঠা নামাতে কোন প্রকার সমস্যা না। গাছ কাটার জন্যে &#8216;গাছি&#8217; শরীরের ভারসাম্য রক্ষার সময়েই কোমর বরাবর গাছের সাথে দড়ি বেঁধে নেয়। দড়িটা বিশেষ ভাবে তৈরি করা হয়। এ দড়ির দুমাথায় বিশেষ কায়দায় গিট দেওয়া থাকে। গাছে উঠার সময়ে &#8216;গাছিরা&#8217; অতি সহজে মুহূর্তের মধ্যে গিঁট দুটি জুড়ে দিয়ে নিজের নিরাপদ জন্যেই গাছে উঠার ব্যবস্থা করে নেয়।</p>



<p>রস জ্বাল দিতে যে পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন হয়, তা পাওয়া যায় না। এমন আক্ষেপে চাষীদের বউ&#8217;রা ঝগড়া করলেও চালের আটায় তৈরি ভাপা পিঠা খেজুরের গাঢ় রসে ভিজিয়ে খাওয়ার পরপরই যেন সব রাগ মাটি হয়ে যায়। আবার কখনও সখনও চাষীর বউকে এক প্রকার সান্তনা দিয়ে বলে, অভাবের সংসারে যা আছে তা দিয়ে এই পেশা চালাতে হবে, না হলে বাঁচবো কি করে। বছরে ৫ মাস ধরেই তো খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করা হয় আর তার খড়কুটার জ্বালানিতেই &#8216;গুড়&#8217; বানিয়ে বাজারে বিক্রি হয়। &#8216;বউ&#8217; আবার মুচকি হাসি দিয়েই বলে, সংসার যা চলছে তা তো একরকম ভালোই কিন্তু মেয়ের বিয়ের জন্যে ভাবনা-চিন্তা আছে। তার তো বয়স হয়েছে,- বিয়ে না দিলে হবে। এ কথাও চলে আসে খেজুর গাছির ছোট্ট পরিবারে। চাষীদের এমন পারিবারিক খেয়ালও রাখতে হয় খেজুর গাছের বসকে ঘিরে। তবে আরও পরিশ্রম বা কষ্ট করার দরকার পড়ে। এক চাষী বলেই বসে সামনের শীতে ইচ্ছা আছে,- আরো কিছু খেজুর গাছ বর্গা নিলেই মেয়ের বিয়ের কিছু টাকা হাতে আসবে। এই কথা গুলো সচরাচর শুনা না গেলেও এক চাষীর কন্ঠে বেজে ওঠে। চাষীরা আদরের বিবাহিত মেয়েদের জামাইকে দাওয়াত দিয়ে &#8220;খেজুর রসের সুস্বাদু পিঠা পায়েস&#8221; তৈরীর বিভিন্ন আয়োজনের কথা এখানে না আনলেই নয়। শীতকালীন গ্রাম বাংলায় খেজুর রসের সুস্বাদু পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয় পাশা পাশি ঘরে ঘরেও জামাই মেয়েদের নিয়েই যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করে। চাষীদের &#8221;মেয়ে এবং বউ ঝিয়েরা কনকনে শীতে গীত গেয়ে খেজুরের রস বা গুড় তৈরি করে। আবার মেয়ে জামাইকে কাছে পেয়ে শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, বিকাল বা সন্ধ্যার মনোরম পরিবেশ উপভোগের পাশা পাশি পিঠা তৈরি করে। এ যেন একটি চমৎকার দৃশ্যপট যাকে শৈল্পিক উপাখ্যান বললেও ভুল হবে না।</p>



<p>শীতের সকালে &#8216;রস বা পাটালি গুড়&#8217; তৈরীতে জ্বালানীর পাশে বসে বা মোটা লেপ মুড়ি দিয়ে চিড়া, মুড়ির মোয়া খাওয়ার নানন্দনিক পরিবেশটা যেন গ্রামাঞ্চলের চাষীর সনাতনী ইতিহাস ঐতিহ্য। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সহ মেয়ে জামাই &#8216;মজার মজার গল্পে মশগুল&#8217; থাকে। শীত কালীন উপাদেয় খাবার খেজুরের রস সংগ্রহে- ব্যস্ত চাষীরাও এ গাছ হতে ওগাছে খেজুর রস সংগ্রহে শীত কাঁপানি কন্ঠে গান ধরে। রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের গুড় এবং সেই গুড় গুলো মুলত পাটালি গুড় ও ঝোলা গুড়। এসব গুড়গুলো বিভিন্নভাবে খাওয়া হয়। শীতের খেজুর গাছের রস থেকে যে গুড় তৈরি তা দিয়েই- &#8220;দুধের পিঠা, পুলি পিঠা, সেম পিঠা&#8221; আরো কত কিযে পিঠা তৈরী হয় তা না খেলে একে বারে জীবনই বৃথা। পাটালি গুড় দিয়ে মুড়ির মোয়া খাওয়া ও ঝোলা গুড়ের সঙ্গে মচমচে মুড়ি খাওয়ার পরিবেশ শুধুমাত্র গ্রামাঞ্চলের মানুষদের কাছে গেলেই দেখা যাবে। এমনিতেই তারা খেজুর গুড় গ্রামের অনেকেই খায়। তবে শীত কালের &#8216;খেজুর রসের&#8217; বিভিন্ন তৈরিকৃত রসেরপিঠার স্বাদ ভুলা যায় না। খেজুর রসের গুড় থেকে যে প্রচলিত সন্দেশ হয় তার স্বাদ অপূর্ব। শখ করে অনেক চাষিরা &#8216;চা&#8217; খাওয়ার নেশায় ঘরে ঘরেই &#8216;চা&#8217; বানিয়ে এই খেজুর গুড়কে উপজীব্য করে নেয়।</p>



<p>শীত তার বিচিত্র রূপ বৈচিত্র্য এবং রস নিয়ে হাজির হয় গ্রাম বাংলায়। নবান্ন উৎসব কিংবা শীতের পিঠা পায়েশ তৈরির &#8216;উৎসবটা&#8217; শীতে ঘটা করেই হয়। শীতের চিরায়ত যা কিছু সৃষ্টি কিংবা নিয়ামত, তা উপলব্ধি করতে চাইলে অবশ্য গ্রামে যেতে হবে। আজো গ্রামাঞ্চলে শীত কালীন উৎসবের পাশা পাশি কোনো কোনো ক্ষেত্রেও নিরবতার অস্তিত্ব বড়ই আনন্দদায়ক। বাংলাদেশের &#8216;গ্রাম&#8217; সৌন্দর্য মন্ডিত ষড়ঋতুর ছোঁয়ায় শীত কাল এক ঐতিহ্য হিসেবে প্রতিয়মান হয়েছে এই খেজুর গাছ। তাই আশ্বিনের শুরু থেকেই চাষীরা খেজুর গাছ তোলা এবং পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এই উপযুক্ত সময় তারা নির্ধারণ করে মাঘের ‘বাঘা শীতে’ গুড় বিক্রিয় এবং তৈরীর প্রক্রিয়া যেন শেষ হয়। তাদের প্রক্রিয়াজাত &#8216;খেজুর গুড়, পাটালি এবং রস সারা বছর সংগ্রহ করে রাখে,&#8217; কোন কোন গ্রামের গৃহস্থ পরিবার অন্যান্য ঋতুতেই ব্যবহার করে। গ্রামের বাজার গুলোতেও জমজমাট হয়ে ওঠে খেজুর রস এবং গুড়ে। প্রকৃত পক্ষেই শীতে উৎসব মুখর হয়ে উঠে গ্রাম বাংলা। জলাভূমি কিংবা কিছু পাহাড়ি ভূমি বাদে এদেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই, যেখানে খেজুর গাছ জন্মে না। তবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমা অঞ্চলে &#8216;খেজুর গুড়&#8217; বাণিজ্যিক ভাবেই উৎপাদিত হয়।</p>



<p>খেজুরগাছ কাটার জন্য গাছের মাথার এক দিকের যেন শাখা কেটে চেঁছে পরিষ্কার করে সেই কাটা অংশের নিচ বরাবর দু&#8217;টি খাঁজ কাটার প্রয়োজন মনে করে। সে খাঁজ থেকে কয়েক ইঞ্চি নিচেই একটি সরু পথ বের করা হয়। এই সরু পথের নিচে বাঁশের তৈরি নলী বসানো হয়। এই নলী বেয়ে &#8216;হাড়িতে রস&#8217; পড়ে। নলীর পাশে বাঁশের তৈরি খিল বসানো হয়। সেই খিলেই মাটির হাড়ি টাঙিয়ে রাখে এবং বিকেল বেলা থেকে &#8220;হাড়িতে রস জমা&#8221; হতে হতেই সারা রাতে হাড়ি গুলো পরিপূর্ণ হয়। নতুন গাছগুলোকে কাটার পর &#8216;দুই তিন দিন রস&#8217; পাওয়া যায়। প্রথম দিনের রসকে বলে জিরান কাট। জিরান কাট রস খুবই সুস্বাদু। ১ম দিনের রস থেকে ভালো পাটালি গুড় তৈরি হয়। ২য় দিনের রসকে বলে দোকাট। তৃতীয় দিনের রসকেই বলে তেকাট। রসের জন্যে খেজুর গাছে একবার কাটার পরে আবারও পাঁচছয় দিন পর কাটতে হয়। গাছের সে কাটা অংশ শুকানোর জন্যে সময় দেয়া প্রয়োজন পড়ে। আর খেজুর গাছ কাটা অংশটা শুকানোর সুবিধার জন্য যেন সাধারণত পূর্ব এবং পশ্চিম দিক করে গাছ গুলো কাটা হয়। যাতে সূর্যের আলো সরাসরি কাটা অংশে পড়ে।</p>



<p>গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য মাটির হাড়ি ব্যবহার করা হয়। হাড়িকে আবার অনেকেই বলে ভাঁড়। ঠিলা হিসেবে কেউ কেউ হাড়িটার নামকরণ ব্যবহার করে। সুতরাং, এ ভাঁড় সম্পর্কে যা বলতে চাই, তা হলো- হাড়িটি আসলেই খুবই ছোট আকৃতির একটি কলসের মতো। এই হাড়িটি থেকে ১০ কিংবা ১৫টি হাড়ির রস জ্বাল দিয়ে এক ভাঁড় গুড় হয়। সেই ১ ভাঁড় গুড়ের ওজন- ৬ থেকে ৮ কেজির মতো বলা চলে। গুড় তৈরির জন্য রস জ্বাল দেওয়া হয় মাটির জালায় বা টিনের তাপালে। সূর্যোদয়ের আগে বা খুব সকালেই- &#8220;রস নামিয়ে&#8221; এনে টিনের তাপালে উপরে জ্বালানি দিতে হয়। জ্বাল দিতে দিতেই একসময় রস ঘন হয়ে গুড় হয়ে যায়। এ গুড়ের কিছু অংশ তাপালের এক পাশে নিয়ে বিশেষ ভাবে তৈরি একটি খেজুর ডাল দিয়ে ঘষতে হয়। আর তা ঘষতে ঘষতেই সেই রসের অংশটুকু শক্ত হয়ে যায়। আর &#8216;শক্ত অংশকেই&#8217; কেউ কেউ আবার বীজ বলে থাকে। সে বীজের সঙ্গেই তাপালের আরো যা বাকি গুড় গুলি থাকে সেগুলো মিশিয়ে যেন অল্পক্ষণের মধ্যে গুড় জমাট বাঁধতে শুরু করে। তখন এ গুড় মাটির হাড়ি বা বিভিন্ন আকৃতির পাত্রে রাখার প্রয়োজন পড়ে। সে গুড় গুলি দেখলে বুঝা যাবে, একেবারে জমাট বেঁধে পাত্রের আকৃতি ধারণ করেছে।</p>



<p>এদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বহু কাল ধরেই পেশাদার খেজুর গাছ কাটিয়ে আছে। স্থানীয় ভাষাতে এদের বলা হয় গাছি। কার্তিক মাসের শুরু থেকে চৈত্রের শেষ পর্যন্ত তারা খেজুর গাছগুলো কাটায় নিয়োজিত থাকে। যেসব চাষীদের স্বল্পসংখ্যক খেজুরগাছ আছে তাকে নিজেরাই কাটে। তারা রস পাড়ে ও বাড়িতে নিয়ে এসে জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করে। শীতের প্রকোপ যতো বেশি হবে, রসও ততো বেশি রসও পাবে। রস গাছে যখন কমে যায়, ঠিক তখন সেই রসের স্বাদ যেন বেশী হয়। এ রসকে ‘জিরান কাট’ রস বলে, গন্ধেও এ &#8216;রস&#8217; হয় সবচেয়ে উত্তম। এমন ‘জিরান কাট’ রস নামানোর পর আবারও রসের ভাঁড় ও কলস গাছে টাঙালে তখন এই খেজুরগাছ থেকে যে রস পাওয়া যাবে তা উলাকাটা রস। গ্রাম বাংলায় শীতকালে কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে যারাই খেজুর বাগানের চাষ করে তারাই তো প্রকৃত অর্থে &#8216;চাষী&#8217;। তারা গভীব রাতে খেজুর রস নামিয়ে উনুনের আগুনে জ্বালাতেই ব্যস্ত হয়। সত্যিই এমন দৃশ্য দেখা যায় খেজুর বাগানের পাশে উঁচু ভিটায়। অন্ধকারে নিবিড় স্তব্ধতার মধ্যেই তারা জীবন সংগ্রামের যে মজার স্পন্দন উপলব্ধি করে তাকে না দেখলেই যেন স্পষ্টরূপে বিবরণ দেওয়া মুসকিল। উনুনের পাশে থাকে গাছি কিংবা শ্রমিক-মজুর, তাদের থাকবার জন্য বানায় কুঁড়ে ঘর, খেজুরের পাতা বা বিচালি দিয়েই ছাওয়া হয়। কান পাতলে শোনা যায়, গাছিয়াদের নিঃসঙ্গতা কাটাতে মিষ্টি মধুর গানের সুর। টানা সুরের গ্রাম্য এলাকার গান- প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের গানও গেয়ে থাকে। তাদের সুরে আছে অদ্ভুত প্রাণময়তা ও আবেগ, সহজেই হূদয়ে ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।</p>



<p>পত্র বৃন্তে আবৃত খেজুরের কাণ্ডটি সরল, গোলাকৃতি বা ধূসর বর্ণের হয়। মাথায় মুকুটের মতো ছড়ানো যে পাতা গুলো তা উর্ধ্বমুখী আরো ব্যাখ্যায় গেলে বলতে হয় যে,- ছুরির ফলার মতো তীক্ষ্ণ। খেজুরের ‘ভিন্নবাসী’ গাছে স্ত্রী ফুল ও পুরুষ ফুল আলাদাভাবেই গাছে জন্মায়। খেজুর গাছের পুংপুষ্পমঞ্জরী খাটো, ফুল সাদা মোচার মতো বা ঘিয়ে রঙের মতো দেখতে হয়। খেজুর গাছটির পরিপক্ক ফুলের মোচায় ঝাকুনি দিলে ধুলার মতো পুংরেণু বাহির হতে দেখা যায়। আবার, স্ত্রী পুষ্প মঞ্জরী লম্বা বা ফুলের রং হালকা সবুজ হয়ে থাকে। স্ত্রী গাছে &#8216;অজস্র ফল&#8217; ধরে থাকে তা অনেক উজ্জ্বল দেখায়। এক মজ্ঞরীতে &#8216;বহু স্ত্রী ফুল&#8217; ফোটে, যা থেকে &#8216;একটি কাঁদিও তৈরী&#8217; হয়। খেজুর গাছের মাথায় খুব সূচালো অসংখ্য কাঁটার সমন্বয়ে যেন এক ঝোপের মতো সৃষ্টি করে। এইখেজুর গাছের পাতার গোড়ার দিকের প্রত্যেকটা পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়। সাধারনত এই পাতা তিন মিটার লম্বা এবং নীচের দিকে বিশেষ করে বাঁকানো হয়। খেজুর গাছ সারা বছর একই রকমেই থাকে। পাকা ফল দেখতেই পার্পেল-লাল রঙের এবং তা সুমিষ্ট হয় আর খাওয়াও যায়। পাখিদেরও প্রিয় এটি।</p>



<p>শীত কালে খেজুরের রস সবারই রসনা তৃপ্ত করে। আর খেজুর গাছের মাথার &#8216;কচি অংশটা&#8217; খেতে দারুন লাগে। খেজুর গাছ ছয় সাত বছর বয়স থেকে রস দেওয়া শুরু করে। &#8221;২৫ থেকে ৩০ বছর&#8221; পর্যন্ত রস দেয়। গাছ পুরনো হয়ে গেলে রস কমে যায়। পুরনো গাছের &#8220;রস&#8221; খুব মিষ্টি হয়। মাঝ বয়সী গাছ থেকে সবচে বেশি পরিমাণের &#8216;রস&#8217; আসে। বেশি রস সংগ্রহ করা গাছের জন্যেও ক্ষতিকর। রস সংগ্রহের জন্য কার্তিক মাসে খেজুর গাছ কাটা শুরু হয়। কার্তিক মাস থেকেই &#8216;রস&#8217; পাওয়া যায়। রসের ধারা চলতে থাকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত। শীতের সঙ্গে রস ঝরার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। শীতটা যতোই বেশি পড়বে ততো তো রস বেশি ঝরবে। রসের স্বাদও ততোই সুমিষ্টি হবে। অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ মাস হলো রসের ভর মৌসুম। এই মৌসুমে একবার গাছগুলো কাটার পর দু&#8217;তিন দিন &#8216;রস&#8217; পাওয়া যায়।</p>



<p>এই খেজুর গুড় যারা বানায়, তাদের ঐতিহ্যগত পরিচয় তারা গুড়-শিল্পী কি়ংবা শিউলি। এমন শিউলিরা আদতে খেত মজুর। বর্ষার দিনে অনেক অঞ্চলে চাষাবাদের পর ভূমিহীন খেত মজুরদের কোনও কাজ থাকেনা। সুতরাং অনাহার-অর্ধাহারে তাদের দিন কাটাতে হয়। সেই সময়ে শিউলিরা দাদন নেয় মহাজনের কাছ হতে খেজুর গাছ। বিনিময়ে তারা মহাজনের নির্ধারিত দামে তাদের কাছেই অনেক সময় গুড় বিক্রি করতে বাধ্য হয়। পরিশেষে এই কথা বলতে চাই যে খেজুর গুড় এখন সারা বাংলাদেশে পাওয়া যায়। কিছু জাতের খেজুর গাছগুলিও আরবের মেসোপটেমিয়াই আদি নিদর্শন হিসেবে গণ্য। খেজুর বা খেজুরের বসের জন্মভূমি আরবের সেই মেসোপটেমিয়া আর এ দেশে যেসব খেজুর চাষ হয় তার নাম Phoenix sylvestris। এমন খেজুর গাছের উচ্চতাও- ১০ হতে ১৫ মিটার। গ্রাম বাংলার এ জাতটিকে বুনো জাত হিসেবেও আখ্যায়িত করা হলেও আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির মধ্যেই গন্য তাকে দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই।</p>



<p><strong>লেখক: প্রভাষক নজরুল ইসলাম তোফা<br>টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট</strong></p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/26076">কনকনে শীতে খেজুর রস ও সুস্বাদু পিঠা গ্রামবাংলার চাষীর প্রধান উৎসব</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/26076/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বাবুল ভাইহীন এক বছর</title>
		<link>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/24301</link>
					<comments>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/24301#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Majharul Rokon]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 15 Nov 2020 08:31:54 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মতামত]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.sunnarayanganj24.com/?p=24301</guid>

					<description><![CDATA[<p>সান নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: সোনারগাঁওয়ের সাহিত্য ও সাংবাদিকতা জগতের এক...</p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/24301">বাবুল ভাইহীন এক বছর</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div style="margin-top: 0px; margin-bottom: 0px;" class="sharethis-inline-share-buttons" ></div>
<p><strong>সান নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:</strong></p>
<p>সোনারগাঁওয়ের সাহিত্য ও সাংবাদিকতা জগতের এক উজ্জল নক্ষত্রের নাম বাবুল মোশাররফ। আজ তাঁর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী। কিভাবে যে বাবুল ভাইহীন একটি বছর কেটে গেল বুঝতেই পারিনি। এখনো মনে হয় বাবুল ভাই আমাদের মাঝেই আছেন। তাঁর সেই প্রাণবস্ত হাসি, জ্ঞানগর্ভ কথার ফুলঝুরি, চা খাওয়ার সেই প্রচলিত আমন্ত্রন এখনো চোখের সামনে বাস্তব হয়ে ভেসে ওঠে। পৃথিবী চলছে তার আপন নিয়মে শুধু আমাদের মাঝে নেই বাবুল ভাই।</p>
<p>সাবলীল জীবন যাপন আর সততাকে পুঁজি করে শত কষ্টেও হাসি মুখে সহজ- সরল জীবন কাটিয়ে গেছেন তিনি। কর্ম জীবনে পুরোদস্তুর সাংবাদিক হলেও সাহিত্য চর্চায়ও ছিলেন সিদ্ধহস্ত। ১৯৯১ সালে তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতন নামে একটি সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন বর্তমানে সোনারগাঁও অঞ্চলের যেসব সংবাদকর্মী সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের সুফল ভোগ করছেন তার পেছনে বাবুল ভাইয়ের ভূমিকা ছিল অনন্য। ১৯৮৭ সালে সোনারগাঁয়ে যে দুজন মানুষ সোনারগাঁও প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন তাদের মধ্যে বাবুল ভাই একজন। তিনি সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।</p>
<p>প্রায় ৪০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের পুরোটাই কেটেছে সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবকে ঘিরে। প্রেস ক্লাবের বিভিন্ন প্রতিকূল সময়ে শক্ত হাতে হাল ধরেছিলেন তিনি। টানা পাঁচ মেয়াদে প্রেস ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে রেকর্ড সৃষ্টি করেন। সর্বশেষ সোনারগাঁও প্রেস ক্লাব বাবুল ভাইয়ে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রেস ক্লাবের সম্মানজনক “আজীবন সদস্য” পদ প্রদান করেন। তাঁকে যারা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তারাই কেবল তাঁর যোগ্যতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে পারবেন। তিনি ছিলেন একজন সদালাপী ও নিরহংকার মানুষ। ছোট বড় সবার সাথেই ছিল সুসম্পর্ক। কারো সাথে উঁচু গলায় কথা বলতেন না কখনো। কেউ যদি কোন সমস্যা নিয়ে তাঁর কাছে হাজির হতেন তিনি যেভাবেই হোক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন। অর্থের প্রতি কোন লোভ ছিল না এ মহান মানুষটির। শত সুযোগ থাকা স্বত্তেও নীতি বিসর্জন দেননি কোনদিন। ওনার সান্নিধ্যে যেসব সংবাদকর্মী ও সাহিত্যকর্মীরা এসেছেন তাদেরকে সবসময়ই নীতির প্রশ্নে আপষহীন থাকার জন্য পরামর্শ দিয়ে গেছেন।</p>
<p>সোনারগাঁঁওয়ের স্বনামধন্য সাংবাদিকের প্রায় ৯০ ভাগই কোন না কোন ভাবে বাবুল ভাইয়ের সংস্পর্শে ছিলেন।<br />
বাবুল ভাই বয়সে আমার পিতার সমতুল্য হলেও তাঁর সাথে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। প্রায় এক যুগেরও বেশী সময় তাঁর সংস্পর্শে কেটেছে। জীবন বাস্তবতার অনেক কিছুই শিখেছি বাবুল ভাইয়ের কাছে। কিভাবে স্রোতের প্রতিকূলে চলতে হয়, কিভাবে শতকষ্ট বুকে চেপে মানুষের সাথে হাসি মুখে কথা বলতে হয় এসব বাবুল ভাইকে দেখেই শিখেছি। সাহিত্যের খুটিনাটিও তিনি শিখিয়েছেন হাতে কলমে।</p>
<p>২০১৫ সালে বাবুল ভাইয়ের পরামর্শে সোনারগাঁও থেকে “চারদিক” নামে একটি সাময়িকী প্রকাশের উদ্যোগ নেই। বাবুল ভাই ছিলেন এ সাময়িকীর উপদেষ্টা সম্পাদক আর আমি সম্পাদক ও প্রকাশক। চারদিক নিয়ে ছিল তাঁর অনেক স্বপ্ন কিন্তু স্বাদ আর সাধ্যের ব্যবধানের জন্য অনেক স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। তবু বাবুল ভাইয়ের স্বপ্নের চারদিক নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি ভাল কিছু করার প্রত্যয়ে।</p>
<p>বাবুল ভাইয়ের জীবনের শেষ দুবছর দূরারোগ্য ফুসফুস ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে কেটেছে। তিনি শক্তিশালী মনোবলের অধিকারী ছিলেন। ওনাকে দেখে কেউ বুঝতেই পারতেন না তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। ক্যান্সারকে তিনি পাত্তাই দিতেন না। এমন মনোবল সম্পন্ন মানুষ খুব বিরল। বাবুল ভাইয়ের জীবনের শেষ সময়টায় ওনার সাথে নিয়মিত আড্ডা দিয়ে কেটেছে আমার। ২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর শুক্রবার আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে পরপারে পাড়ি জমান বাবুল ভাই। বাবুল ভাইয়ের এ চলে যাওয়ায় আমাদের মাথার উপর থেকে বটবৃক্ষের ছায়া সরে গেছে। সোনারগাঁওয়ের সাংবাদিকতা ও সাহিত্যাঙ্গণে বাবুল ভাইকে ছাড়া সবকিছুই যেন নিরুৎসব ও বিষন্ন। নিষ্ঠুর সময় তবু চলছে চলবে। পরলোকে ভাল থাকবেন আমাদের প্রিয় বাবুল ভাই এই দোয়া রইল।</p>
<p><strong>লেখকঃ রবিউল হুসাইন</strong><br />
<strong>সম্পাদক, চারদিক/ </strong><br />
<strong>সোনারগাঁ প্রতিনিধি, দেশ রূপান্তর</strong></p>
<p>The post <a href="https://www.sunnarayanganj24.com/archives/24301">বাবুল ভাইহীন এক বছর</a> appeared first on <a href="https://www.sunnarayanganj24.com">Sun Narayanganj</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://www.sunnarayanganj24.com/archives/24301/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
