নিজ দলের লোকদের ষড়যন্ত্রের শিকার বারদী ইউপি মেম্বার প্রার্থী নূর মোহাম্মদ!
সান নারায়ণগঞ্জ
নিজ দলের কিছু প্রভাবশালী লোকদের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের শিকার নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বারদী ইউনিয়ন কৃষকদলের সহ-সভাপতি ও ৪নং ওয়ার্ড নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী নূর মোহাম্মদ নূরা। তিনি দাবি করেন- আসন্ন নির্বাচনে মেম্বার পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই আমাদের দল বিএনপিরই কিছু স্বার্থন্বেশী মহল আমাদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত করে বিভিন্ন প্রিন্ট এবং অনলাইন গণমাধ্যম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন প্রশাসন ও পুলিশের কাছে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে বেড়াচ্ছে। আমিও চাই মাননীয় এসপি সাহেব গভীরভাবে তদন্ত করুক। আমি দোষী বা নির্দোষ কিনা সেটা তদন্ত করুন।
৯ অক্টোবর শুক্রবার সকালে মেম্বার প্রার্থী নুর মোহাম্মদ মান্দারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য জামাল হোসেন, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি’র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম রফিক, বারদী ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাফেজ বিল্লাল হোসেন মুন্সী, বারদী ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, বারদী ইউনিয়ন কৃষক দলের সহ- সভাপতি জামান মিয়া সহ বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষ ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মেম্বার প্রার্থী নূর মোহাম্মদ প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত নারী পুরুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হোন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও অনুমোদন ছাড়া নিউজ পোর্টালে মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বিভিন্নভাবে পুলিশী হয়রানীর শিকার হয়েছেন। তাকে মিথ্যা চুরি ডাকাতির মামলা দিয়ে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি জীবিকার তাগিদে বিদেশে চলে যান। বর্তমান এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানকে ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত করার পর থেকে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মামলায় নূর মোহাম্মদকে ফাঁসিয়েছেন। সে মামলায় থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ তার বাড়িতে নিয়মিত হানা দিয়েছেন। ২০২৪ সালে তিনি দেশে ফিরে এসে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হোন। গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ আমলের যেসব মামলা ছিল সেই মামলাগুলোকে পুঁজি করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে তার ওয়ার্ডে কোন কাজ হয়নি। বর্তমান এমপি তাকে ভালোবেসে তার এলাকার উন্নয়নের জন্য রাস্তা, মসজিদ, কবরস্থান ও নদীর ঘাটের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। একটি মহল ইর্ষান্বিত হয়ে এ অপ-প্রচার করছেন।
তিনি দাবি করেন, ওই এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারনে তার পেছনে শত্রু তৈরি হয়েছে। এ মাদকের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এ মাদকের সঙ্গে তার ছেলেও জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে তার দলীয় লোকজন উঠেপড়ে লেগেছেন। তার বিরুদ্ধে অপ প্রচার করছেন। তাকে খলনায়ক বানানোর অপচেষ্টা চলছে। তিনি ওই এলাকার ২০টি গ্রামকে জিম্মি করেছেন এমন কথাও রটানো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে রটানো অপ-প্রচার প্রশাসনের মাধ্যমে সঠিক তদন্ত দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, তিনি জনগণের সঙ্গে আছেন। জনগণ তাকে ভালোবাসেন তাই তিনি ইউপি নির্বাচনের সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব ভোটের মাধ্যমে তার ওয়ার্ডের জনগণ দেবেন।
কারা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাম বললে আমি নিজেই লজ্জিত হবো। কারন তারা আমার দলেরই লোক। তাই নাম বলতে চাই না। তারা আমাকে মোবাইল ফোনেও হুমকি ধমকি দিয়েছেন, তারা উল্টো অভিযোগ করছেন আমি নাকি মানুষকে হুমকি ধমকি দিচ্ছি! যা সত্য নয়।
