ধানের শীষকে পরাজিত করার চক্রান্তকারীদের বহিষ্কার প্রত্যাহারে বিএনপিতে ক্ষোভ!

সান নারায়ণগঞ্জ

গেল ১২ই ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ওই নির্বাচনে বিএনপির সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন। ওই নির্বাচনে গিয়াসের ফুটবল প্রতীকের পক্ষে সরকারি কাজ করেছিলেন সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুর রহমান স্বপনসহ তাদের অনুগামী বেশকজন নেতাকর্মী। স্বপনসহ যাদেরকে কেন্দ্রীয় যুবদল বহিষ্কার ঘোষণা করেছিলো। কিন্তু রহস্যজনক কারনে কেন্দ্রীয় যুবদল নির্বাচনের কয়েক মাসের মাথায় তাদের বহিষ্কার প্রত্যাহার করে স্বপদে বহাল করে দেয়।

কেন্দ্রীয় যুবদলের এমন সিদ্ধান্তের কারনে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। কারন নেতাকর্মীরা বলছেন, যারা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীককে পরাজিত করার চক্রান্ত করে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলো তাদেরকে কয়েক মাসের মাথায় ‍বহিষ্কার প্রত্যাহার করে স্বপদে বহাল করার বিষয়টি যেনো পুরষ্কৃত করার সামিল। এই ঘটনায় সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপিসহ এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানাগেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলার আওতাধীন সোনারগাঁও উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবদলের তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাদের স্ব স্ব পদে পুনর্বহাল করা হয়। তারা হলেন- সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল হোসেন, বারদী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন (দুলু) ও নোয়াগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আতাউর রহমান (আপেল)। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। এর কয়েক মাস পূর্বে তাদের নেতা সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুর রহমান স্বপনের বহিষ্কার প্রত্যাহার করে স্বপদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানান কেন্দ্রীয় যুবদল।

এর আগে গত নির্বাচনের পূর্বে ২৮ জানুয়ারী কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগে সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুর রহমান স্বপনসহ উপরোক্ত চারজন নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।

অন্যদিকে সম্প্রতি চট্টগ্রামে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর এক বক্তব্যের রেশ ধরে সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপির বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী সেলিম হোসেন দিপু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে ও বার্তায় প্রশ্ন রেখে বলেছেন, তৃণমূলের এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, আজ চট্টগ্রামে আপনার বক্তব্যে তৃণমূলের ত্যাগী, নির্যাতিত ও নিপীড়িত নেতাকর্মীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

কিন্তু তৃণমূলের মনে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—সোনারগাঁ থানা যুবদলের আহ্বায়ক শহীদুর রহমান স্বপন যে কিনা ধানের শীষের প্রার্থীকে পরাজিত করতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে গিয়ে নির্বাচন করেছে এবং নির্বাচনের আগের দিন রাত্রে এই শহীদুর রহমান স্বপন বিভিন্ন ইউনিয়নে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিপথগামী কিছু নেতাকর্মীদের কাছে টাকা পাঠিয়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে বলেছে, তার বহিষ্কারাদেশ কিসের বিনিময় কার ইশারায় বহিষ্কারাদেশ উড্র করা হলো? তাহলে কেন এবং কী প্রক্রিয়ায় তা উথড্র করা হলো?

দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থানের অভিযোগে যার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ কী? এ বিষয়টি তৃণমূলের কাছে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। কারণ দলীয় শৃঙ্খলা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে কোনো অস্পষ্টতা থাকা উচিত নয়।

আমরা কারও ব্যক্তিগত বিরোধিতা করি না। আমরা শুধু চাই—ত্যাগী নেতাকর্মীদের সম্মান, দলীয় শৃঙ্খলার মর্যাদা এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা।

তৃণমূলের এই প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কারভাবে জানানো হোক—বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কারণ কী, কার সিদ্ধান্তে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তা করা হয়েছে?

ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রশ্নের উত্তর পাওয়া তাদের অধিকার। যদি আপনারা এই প্রশ্নের উত্তর না দেন তাহলে আমি কথা দিচ্ছি যে কোনদিন যেকোনো সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা হলে আমি এই কথাটা বলব ইনশাআল্লাহ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাতে তদন্ত করে সেই সকল বিপদগামী নেতাদেরকে শায়েস্তা করেন ।