বন্দর মদনপুরে একতা সমবায় সুপার মার্কেট দখলের অভিযোগ
সান নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘একতা সমবায় সুপার মার্কেট’ অবৈধভাবে দখল, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সমিতির নেতারা। একই সাথে বন্দর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা সমিতির কার্যালয়ে এসে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সে সময় এই আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন সবাই। তবে তার সেই আহ্বানকে উপেক্ষা করে একটি চক্র বহিরাগতদের নিয়ে কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে মার্কেটটির আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টা চালায়।
এ সময় এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতার আনার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন বলেন, ১৯৯৭ সালে মদনপুর এলাকার ১০১ জন ব্যক্তি ১১৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ২০০০ সালে ‘একতা সমবায় সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি’ নামে এটি সমবায় কার্যালয় থেকে নিবন্ধিত হয় (নিবন্ধন নং ৩৩৬)।
সমবায় আইন অনুযায়ী প্রতি ৩ বছর অন্তর ১২ সদস্যের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন হয়ে আসছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
এ সময় অভিযোগ করা হয়, বিগত সময়ে সমিতির কতিপয় অসন্তুষ্ট সদস্য (৭/৮ জন) কমিটির বৈধতা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সমবায় অধিদপ্তরে আবেদন জানালেও তদন্তে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। এর পর আদালতের একাধিক মামলাও খারিজ হয়ে যায়।
তিনি দাবি করেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে প্রতিপক্ষ হীরা লাল দাস, আমিনুল ইসলাম, এসহাক কবির ও তাওলাত হোসেনের নেতৃত্বে শতাধিক সশস্ত্র বহিরাগত লোক নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করে নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের লাঞ্ছিত করে। এসময় তারা সিসিটিভি ক্যামেরা, আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং নগদ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়। বর্তমানে মার্কেটটি অবৈধ দখলে রয়েছে বলে জানানো হয়।
এরআগেও বিএনপি নেতা হিরনের বিরুদ্ধে মার্কেট দখল নিয়ে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। তার সাথে খলিল মেম্বারও যুক্ত হয়েছেন। এবার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগসহ এমপির রাজনৈতিক সচিব আশার কাছে সুষ্ঠু সমাধান চেয়েছেন তারা। তারা আরও দাবি করেন, এ বিষয়ে বন্দর থানায় আইনি ব্যবস্থা নিতে ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি।
এই বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। মার্কেটটিতে শান্তিপূর্ণ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত এবং বৈধ কমিটির হাতে এর পরিচালনা তুলে দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ভূইয়া, সদস্য দুলাল মিয়া, জহিরুল ইসলাম ও আবুল হোসেন।
