সোনারগাঁয়ের ১০টি ইউপি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচনী ডামাডোল
সান নারায়ণগঞ্জ
নির্বাচন কমিশনার ঘোষণা দিয়েছেন সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা নিয়ে প্রায় অর্ধ শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় নেমেছেন। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদেই বিএনপির ৫ থেকে ৭ জন করে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। নির্বাচন নাগাদ এই সংখ্যা ইউনিয়ন প্রতি ১০ এর অধিক ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। অর্থাৎ দশটি ইউনিয়নে শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপির দলীয় সমর্থন প্রত্যাশায় মাঠে নামতে যাচ্ছেন বলা যায়। যদিও এদের মধ্যে ২ থেকে ৩ জন হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যেই দলীয় সমর্থনের পাওয়ার লড়াইটা হবে বলে মনে করে স্থানীয়রা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত একজন প্রার্থী থাকবে। এর বাহিরে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী সেভাবেই নির্দেশনা দিয়েছেন। অর্থাৎ দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর বাহিরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে বহিষ্কারের মুখোমুখী হতে হবে সেটার আভাসও দিয়েছে দল। কিন্তু সোনারগাঁয়ের ১০টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য শতাধিক প্রার্থীর মধ্য থেকে দশজন প্রার্থীকে চূড়ান্ত বাছাই করা উপজেলা বিএনপির জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার অন্যতম বৃহত্তর ইউনিয়ন পরিষদ সনমান্দি ইউনিয়ন। এখানে গত নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন যুবলীগ নেতা জাহিদ হাসান জিন্নাহ। বর্তমানে পরিষদে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নূরুল হক টিক্কা খান। এখানে বিএনপির দলীয় সমর্থন প্রত্যাশি চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত আলোচনায় আসছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাফির উদ্দীন মজনু, প্রয়াত চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেনের পুত্র বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহ ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মোল্লার নাম। এদের বাহিরেও নির্বাচন নাগাদ সময় বিএনপির দলীয় সমর্থন প্রত্যাশির সংখ্যা বাড়তে পারে।
কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশির মধ্যে রয়েছেন হেভিওয়েট দুই প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী সেলিম হক রুমী ও উপজেলা বিএনপির সদস্য বিএম ডালিম। এই দুজনের বাহিরে এখন পর্যন্ত আর কারো পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা দেখা যায়নি।
মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশি একজন মাত্র নেতাকে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে। তিনি হলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। এর বাহিরে বিএনপির আর কোনো প্রার্থীকে এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। তবে নির্বাচন নাগাদ এখানে নতুন কেউ দলের সমর্থন চাইতেও পারেন। কারন এখানে আওয়ামীলীগ সরকার আমলে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী চপল। তিনি সামনের নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনো প্রচারণায় নামেননি।
বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারনায় আছেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তাজুল ইসলাম সরকার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে ইয়াসিন নোবেল, বিএনপি নেতা গাজী আওলাদ হোসেন। পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য মাসুম রানা। এখানে তিনি ছাড়াও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক শহীদ সরকার ও উপজেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক হান্নান বেপারী।
বারদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণায় এখনি ঘরে ঘরে যাচ্ছেন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক সেলিম হোসেন দিপু। তিনি নিয়মিত প্রতিটি এলাকায় গিয়ে মানুষের সমস্যা শুনছেন এবং সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছেন। বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়ে তিনি জনগণের দ্বারে চলে গেছেন। এ ছাড়াও এখানে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন সাবেক চেয়ারম্যান আলী আজগর, আবুল কাসেম বাবু, ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মেম্বার ও যুবদল নেতা আব্দুল আলী।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান ও বিএনপি নেতা ফারুক খান। সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত অনুসারীদের মাধ্যমে প্রচারণায় আছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান ভূঁইয়া মাসুম ও সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী সেলিম সরকার। জামপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপি নেতা গোলজার হোসেন প্রধান ও উপজেলা জাসাসের সভাপতি আমির হোসেন।
শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী ইতিমধ্যে বিএনপির মনোনয়ন লড়াই শুরু হয়ে গেছে আপন মামা ভাগিনার মাঝে। উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম আছেন আলোচনায়। কিন্তু তার ভাগিনা উপজেলা যুবদলের সদস্য নোবেল মীর তিনিও নির্বাচনে দলের সমর্থন চেয়ে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে মামা ভাগিনার মাঝে তুমুল লড়াই চলছে। এদের বাহিরে আরো কারো প্রচারণা দেখা যায়নি আপাতত।
