নারায়ণগঞ্জে নেতৃত্বশূণ্যতায় শিবিরের কাছে পরাস্ত বিএনপির ছাত্রদল!
সান নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র শিবিরের হাতে পিটুনি খেয়ে রীতিমত পালিয়ে বেঁচেছেন। এর মধ্যে ছাত্রদলের দুইজন কর্মীকে বেদম পিটুনি দিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে ছাত্র শিবির। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী। ছাত্রদলের এই করুন পরিস্থিতির জন্য নেতাকর্মীরা দায়ী করছেন নেতৃত্ব শূণ্যতাকে। মহানগর ছাত্রদলের নেতৃত্ব না থাকায় তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেয়ার মত কেউ না থাকায় ছাত্র শিবিরের হাতে পিটুনি খেতে হলো ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের। কমিটি না থাকায় ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদল নেতা আজিজুর রহমান রাজীব।
গত ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি সহ সকল ইউনিট কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে আজোবধি কোনো কমিটি গঠন করেনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি। ফলে নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অনেকটা ছন্নছাড়া নেতৃত্বশূণ্যতায় ভুগছেন। এই নেতৃত্বশূণ্যতার কারনে নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদলের অবস্থা সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়েছে। নেতাকর্মীরাও রয়েছেন বিচ্ছিন্নভাবে। যার দূরণ ছাতশিবিরের হাতে নাজেহাল হতে হলো ছাত্রদলকে। কমিটি না থাকায় সরকারি তোলারাম কলেজের নিয়ন্ত্রণ হারাতে বসেছে ছাত্রদল।
ঘটনা সূত্রে জানাগেছে, ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভূত্থান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে বক্তৃতা দেয়া না দেয়া বিরোধ সৃষ্টি হলে ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের কলেজ থেকে বের করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে কলেজের বাহিরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বেদম পেটাতে থাকে ছাত্র শিবির। এ নিয়ে উভয় নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ছাত্রদলের দুই কর্মী গুরুত্বর জখম হয়েছেন।
সংঘর্ষের দেড় ঘন্টা পর পুলিশ উভয়পক্ষকে চাষাঢ়ার কলেজ রোডে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের বিপুল সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং উভয়পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন বলে জানান পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী সরকারি তোলারাম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে সভা চলছিল। সেখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাও বক্তব্য রাখেন। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরকে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন।
এ পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরে আল্লামা ইকবাল রোড (কলেজ রোড) ও চাষাঢ়ায় সংঘর্ষে জড়ান। উভয়পক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান বলেন, “তোলারাম কলেজের ভেতরে আমাদের নেতাদের মারধর করেছে। গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক উত্তাপকে ঘিরে এ ঘটনা ছাত্রদল ঘটিয়েছে। আমরা সেখানে গেলে লাঠিসোঁটা দিয়ে আমাদের কয়েকজনকেও আঘাত করেছে। আমিও মাথায় আঘাত পেয়েছি।”
তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল ও অর্থ সম্পাদক জুহাজ আহত হয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলেও জানান অমিত। তাদের সংগঠনের আরো অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ছাত্রদলের কর্মী তোলারাম কলেজের স্নাতক বাংলা বিভাগের ছাত্র তুহিন আহমেদ ও রবিন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান ছাত্রদল তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি মনির হোসেন জিয়া।
তিনি বলেন, “তোলারাম কলেজে সভা চলছিল। সেখানে ওরা উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দিয়ে গিয়েছে। আমরা বলেছি, এ ক্যাম্পাস সহাবস্থানে ছিল সহাবস্থানে আছে, কোনো উচ্ছৃঙ্খলতা চলবে না। এজন্য আমাদের ছাত্রদলের ছেলে তুহিন ও রবিনসহ কয়েকজনকে ওরা মেরেছে।”
এদিকে, দেড়টার পর পুলিশ ছাত্র শিবিরের নেতাদের সরিয়ে দিলে তারা সেখান থেকে চলে গেলেও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কলেজ রোড, জামতলা, চাষাঢ়া ও কালিরবাজার এলাকায় লাঠিসোঁটা হাতে মিছিল করেন। তাদের সঙ্গে যুবদলের নেতাকর্মীদেরও দেখা যায়। বেলা আড়াইটাও তাদের বিভিন্ন সড়কে শিবিরের বিরুদ্ধে মহড়া দিতে দেখা যায়।
অন্যদিকে জানাগেছে, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কমিটি এবং অধীনস্থ সকল ইউনিট কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
এর আগে ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। নাহিদ হাসান ভূঁইয়াকে সভাপতি ও জুবায়ের রহমান জিকুকে সাধারণ সম্পাদক করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন আংশিক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
একইসঙ্গে একইদিন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের ৬ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছিল রাকিবুর রহমান সাগরকে ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল রাহিদ ইসতিয়াক সিকদারকে। কমিটিতে আরো ছিলেন-সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাজাদা আলম রতন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজিব, যুগ্ম সম্পাদক ওসমান প্রীতম, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. রাসেল।
আগে ২০২৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী উপরোক্ত ৫জনকে স্বপদে বহাল রেখে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। কমিটিতে ২২জনকে সহ-সভাপতি, ১৮জনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ১৪জনকে সহ-সাধারণ সম্পাদক, ১৭জনকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।
