নারায়ণগঞ্জের মহিলা দলের নেত্রীদের অবজ্ঞা করে যাচ্ছে বিএনপি!
সান নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের রাজপথের মহিলা দলের নেত্রীদের যেনো অবজ্ঞা করে চলেছে বিএনপি। একেএকে বিএনপির বহু নেতাদের মুল্যায়ন হলেও মহিলা দলের নেত্রীদের প্রতি যেনো দৃষ্টিই পড়ছেনা বিএনপির। নারায়ণগঞ্জের বহু নেত্রী ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে রাজপথ থেকে ওঠে আসলেও জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে ঠাই মিলেনি কারো। নারায়ণগঞ্জের বহু নেত্রী অনর্গল বক্তৃতা দিয়ে যাওয়ার মত যোগ্যতাসম্পন্ন নেত্রীরা সংসদে ঠাই না পেলেও সংসদে ঠাই পেয়েছেন আনকোড়া আনাচি ধাচের নারীরা, যাদেরকে বিগত সরকার আমলে আন্দোলন সংগ্রামে দেখা যায়নি, সংসদে গিয়ে যারা লিখিত বক্তব্য রিডিং পাঠ করছেন দেখে দেখে, যা নিয়ে হাসির খোরাকে পরিনত হয়েছে। অথচ নারায়ণগঞ্জে নূরুন্নাহার, মায়া, ময়না, দিনার মত বহু নেত্রী বক্তৃতা দিতে গেলে কখনও স্ক্রীপ্ট লাগেনা, দেশ ও জাতির কল্যাণে গণতন্ত্রের পক্ষে ঘন্টাব্যাপী বক্তৃতা দিতেও তারা পারদর্শী, অথচ তারা হতে পারেননি সংরক্ষিত আসনের এমপি!
নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য ক্ষেত্রেও মহিলা দলের নেত্রীদের যেনো উপেক্ষা করা হচ্ছে। কোথাও যেনো ঠাই মিলছেনা কারো। স্বৈরাচারী সরকার আমলে মহিলা দলের নেত্রীদের আন্দোলন সংগ্রাম ও ত্যাগের মুল্যায়ন করতে যেনো বিএনপির কার্পন্যতা দেখা যাচ্ছে। খাটো করে দেখা হচ্ছে নারী নেত্রীদের অবদান ও ভুমিকা। অনেক নেত্রী হাসিনার সরকার আমলে হামলা মামলা জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেইসবের হিসেব যেনো কেউ রাখছেনা। নামকাওয়াস্তে জেলা মহিলা দলের সভাপতি রহিমা শরীফ মায়া জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য পদটি পেয়েছেন, তাও জেলা মহিলা দলের সভাপতি পদে দায়িত্বে থাকায়, নচেৎ সেটাও হয়তো জুটতো না তার ভাগ্যে।
মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার ভাগ্যে জুটেছে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা। তার কন্যা ও মেয়ে জামাতাও আসামী। তার স্বামী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আনোয়ার হোসেন অনুকে আড়াইহাজার থানা ভাংচুর মামলায় আসামী করা হয়েছে। পারভীন আক্তার এখন স্বামীর জামিনের জন্য কোর্টের বারান্দায় দৌড়াচ্ছেন। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে রাজপথে তার ভুমিকা কারো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর কিছু নেই। বেগম নুরুন্নাহার জেলা মহিলা দলের সভাপতি পদে ২০০৯ সালের পর দেশের কঠিন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজপথে হরতাল অবরোধ পালন করেছেন। সেই কমিটির সাধারণ সম্পাদক রহিমা শরীফ মায়া পরবর্তীতে জেলা মহিলা দলের সভাপতি হোন। তিনিও রাজপথে ভুমিকা রেখেছেন।
২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শহর মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা জামাল ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন দিলারা মাসুদ ময়না। ময়না বর্তমানে মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ও আয়েশা আক্তার দিনা সাধারণ সম্পাদক। স্বামী, সন্তান সহ নিজে কারাভোগ করেছেন রাশিদা জামাল। তবুও রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়েনি। ছাত্র রাজনীতি থেকৈ ওঠে আসা এদের মত ত্যাগী সংগ্রামী নেতাদের কাউকেই এখন পর্যন্ত মুল্যায়ন করেনি বিএনপি। কিন্তু এদের পক্ষে কেউ ঠু শব্দটিও করছেন না।
পুলিশের বন্দুকের নলের সামনে শ্লোগান দেয়ার সাহস দেখিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন মহানগর মহিলা দলের নেত্রী ডলি আহমেদ। তিনি প্রতিটা আন্দোলনে সাহসিকতা দেখিয়েছেন। শহর মহিলা দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদা খাতুন মিতা। তিনিও আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন সামনের সারিতে। হরতাল অবরোধ করতে গিয়ে পুলিশের পিটুনি খেয়েছেন বহুবার। রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রুমা আক্তার। তিনি একই সঙ্গে সোনারগাঁও উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি পদের দায়িত্ব পালন করেছেন। আছেন সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পদেও। রাজপথে তারও ভুমিকা কম নয়।
রাজপথে সক্রিয় ভুমিকা রেখেছেন জেলা মহিলা দলের নেত্রী ফৌজিয়া খানম পপি, লুৎফা বেগম, রোজিনা আক্তার, বন্দর থানা মহিলা দলের সভাপতি নাজমা আক্তার সহ আরো বেশকজন মহিলা দলের সামনের সারির নেত্রী। ঢাকায় আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন সোনারগাঁও উপজেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সালমা আক্তার কাজল। এসব নেত্রীরা একাধিকবার পুলিশের হামলা মামলা জেল জুলুম ও মারধরের শিকার হয়েছেন রাজপথে। আন্দোলন সংগ্রামে ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে থেকেছেন বছরের পর বছর। কিন্তু তাদের যেনো মুল্যায়ণে বিএনপির অনীহা!
