সোনারগাঁয়ে বিএনপির দুইনেতা মামা ভাগিনার পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে নানা অভিযোগ

সান নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুইনেতা আপন মামা ভাগিনার মধ্যে লড়াই শুরু হয়েছে। তারা বেশ কদিন যাবত গণমাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে আসছেন। এমনকি মামার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভাগিনা বিএনপি নেতা নোবেল মীর। তবে স্থানীয়দের অনেকে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, তাদের বিরোধী নির্বাচন কেন্দ্রীক নয়, মামা ভাগিনার মাঝে মুল বিরোধী লেনদেন নিয়ে। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন।

সর্বশেষ ৩ জুলাই শুক্রবার পৃথক স্থানে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এবং ভাগিনা উপজেলা বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক নোবেল মীর। নোবেল মীর অভিযোগ করেছেন যে, তিনি ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা করায় তার মামা জাহাঙ্গীর আলম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।

তবে জাহাঙ্গীর আলম ভিন্ন স্থানে সংবাদ সম্মেলন করে হুমকির বিষয় অস্বীকার করে বলছেন, নোবেল মীর তার আপন ভাগিনা, তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ। তার কাছে আমি ২০ লাখ টাকা পাই। সেই টাকা না দিয়ে আত্মসাতের জন্য নানা জায়গায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার উদ্দবগঞ্জ এলাকার একটি রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতা নোবেল মীর।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে নিজের দলেরই একটি প্রভাবশালী চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছি। শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম দফায় দফায় আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন।

​তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর আলম কেবল হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়াতে ১৪ বছর আগের একটি পুরনো চেক বাসা থেকে চুরি করে সাজিয়ে ‘চেক ডিজঅনার’ মামলার ভয় দেখাচ্ছেন।

নোবেল মীর জানান, প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি সোনারগাঁ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। কিন্তু অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নিরাপত্তা চেয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।