কোথাও ঠিকানা স্থায়ী হলো না
সেনা সমর্থিত ১/১১ সরকার কর্তৃক ১৮/০৪/২০০৭ইং থেকে ১৪/০৫/২০০৯ইং দীর্ঘ কারাবন্দী অবস্থায় লেখা আমার আর্টিকেলমুক্তির পর প্রথম আলো, জনকন্ঠসহ স্বনামধন্য বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে যাদের সাথে আমার লেখনী সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় নাই। পত্রিকার পলিসি এর কারন ছাড়াও আমার শব্দ সংখ্যা বেশী হওয়াটাও একাটা কারণ। পত্রিকার সম্পাদনায় “ওয়ার্ড ইকোনমি” সম্পর্কে আমার জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। পরবর্তীতে দিনকাল- নয়া দিগন্ত ও ইনকিলাব পত্রিকায় ৮/৯ বছর নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে একটি করে আর্টিকেল প্রকাশিত হতো। কোন সপ্তাহে “লেখা” না পৌঁছালে পত্রিকা থেকেই তাগাদা আসতো। মৃত্যুর পর দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে নিয়ে লেখাই নয়া দিগন্তে প্রকাশিত আমার শেষ লেখা। ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র পদে নির্বাচন করায় দল থেকে বহিস্কার হওয়াটা নয়া দিগন্তের পছন্দ হয় নি বলে মনে হয়েছে, অন্যদিকে এস আলম যেকোন কোন পত্রিকার নিয়ন্ত্রন নিয়েছে তা আমার বোধগম্য ছিল না। দল থেকে বহিস্কারের কারনে দিনকালে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই আর্টিকেল পাঠাই নাই। ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে বিশেষ করে বসুন্ধরার বিরুদ্ধে তথ্যমূলক আর্টিকেল ছাপানো অনেক বড় মাপের পত্রিকা স্বাচ্ছন্দ বোধ করে না, কারন বিজ্ঞাপনের বিষয়টি আর্টিকেলের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পাওয়ার কারণও রয়েছে।
ব্যারিষ্টার মঈনুল হোসেন, আমার দৃষ্টিতে একজন সৎ মানুষ, সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট নির্বাচনে জাতীয়বাদী প্যানেলের প্রার্থী হয়ে ২টি নির্বাচন এক সাথে করেছি, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তার বাসায় মিটিং করে আমরা ঐক্যমত হয়ে সিনেট সভায় অংশ নিতাম, কারন শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে সিনেটে আওয়ামীলীগ পন্থীরা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। উনার বাসায় রাজকীয় আপ্যায়ন স্মরণ রাখার মত, তার সম্পাদিত “দি নিউ নেশন” পত্রিকায় আইন ও রাজনীীতর উপর আমার বেশ কিছু আর্টিকেল ছাপা হয়েছে।“ঠরপঃরসড়হড়মু: অ হবি পড়হপবঢ়ঃ রহ ইধহমষধফবংয” শিরোনামের আর্টিকেলটি নিউ নেশন পত্রিকায় প্রকাশের পর ব্যারিষ্টার সাহেবের ফোনে জিজ্ঞাসা- “কোথায় লেখা পড়া করেছেন” উত্তরে- “ইংরেজী গ্রামার শিখেছি বাবা ও দাদার নিকট থেকে, তবে স্বয়ং সম্পূর্ণ হতে পারি নাই”(উল্লেখ্য স্কুল ও ইন্টার মিডিয়েট জীবনে সারা দিন কোথায় কি করেছি তার ফিরিস্তি ইংরেজীতে লিখে প্রতি রাতে বাবাকে দেখাতে হতো এবং তিনি বিদেশে থাকলে ইংরেজী ভাষায় চিঠি না লিখলে তা তিনি না পড়ে ফেরত পাঠাতেন; পরিবারে সাথে সম্পর্কিত বিষয়টি অনেকেই জানতেন, যার মধ্যে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান শ্যামলও রয়েছে)।
ড.ইউনুস সরকারের আমলে একটি আর্টিকেল পাঠিয়ে ছিলাম প্রাপ্তি স্বীকারের পরও লেখাটি ছাপা হয় নাই এবং কারণও ব্যাখ্যা করে নাই। এরপর থেকেও ঐ পত্রিকায় আর লেখা পাঠাই নাই। তবে ব্যারিষ্টার মঈনুল হোসেন বেঁচে থাকলে হয়তো বিষয়টি অন্যরকম হতে পারতো। উক্ত আর্টিকেলটি “ল” জার্নাল ডি.এল.আর এবং বি.এল.টি-তে ছাপা হয়েছে।তবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা- (সব সরকারের মুখ ভরা বুলি) আমার কাছে এখানেই হোঁচট খায় বৈকি!সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা তথা মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গনতন্ত্রের স্বাধীনতা কোথায় কোন রূপে অর্ভিভূত হয় তা আমার চিন্তা চেতনার স্কেলে এখনো ঠাহর করতে পারি না। মঞ্চের বক্তব্য ও বাস্তবতায় ভন্ডামীর শুরু ও শেষ কোথায় তাহাও নিশ্চিত করতে পারি না।
কলেজ জীবনেইশ্রমিক সংগঠনের সাথে জড়িত হওয়ার পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন বস্তিতে বস্তিবাসী শ্রমজীবী ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার (জীবিকার তাগিদে যারা দিনে স্কুলে যেতে পারে নাই) জন্য রাত্রীকালীণ বিদ্যালয় গড়ে তুলি। পর্যায়ক্রমে নদীর উভয় পাড়েস্কুলের সংখ্যা ১৯টি পর্যন্ত উন্নীত হয়েছিল, যা পরিচালনার জন্য আমারই উদ্দোগ্যে পৌরসভা পাকিস্তান আমলেই বাৎসরিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করতো, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তা অব্যাহত ছিল।তৎসময়ে যুব সমাজ এমর্মে তৎপর হওয়ার কারনেই স্বাধীনতার পর আমার নিরক্ষরতা দূরীকরন আন্দোলন আরো জোরদার হয়। পরবর্তীতে সকল নৈশ বিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৌর চেয়ারম্যান কে পদাধিকার বলে চেয়ারম্যান, অধ্যক্ষ- খগেন্দ্র নাথ চক্রবর্তীকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও আমাকে সেক্রেটারী করে গঠিত হয়েছিল সরকার অনুমোদিত “কেন্দ্রীয় নিরক্ষরতা দূরীকরন সংস্থা”।
পৌর পাঠাগারের (বর্তমান চুনখা নগর পাঠাগার) একটি কক্ষে এর অফিস ছিল। পরবর্তীতে আওয়ামীল লীগ নেতা ও প্রখ্যাত বক্তা নাজিম উদ্দিন মাহমুদ চুনকা ভাইয়ের সাথে কনটেষ্ট করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় সেক্রেটারী পদে দ্বায়িত্ব পালনে অবচেতন মনেই অনীহা চলে আসে। যদিও নাজিম ভাই একজন ভালো মানুষ ছিলেন, তথাপি চুনখা ভাইয়ের সাথে ঘনিষ্টতার কারনেই আমি নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখি নাই, ফলে ধীরে ধীরে নিরক্ষরতা দূরীকরন আন্দোলন স্থিমিত হয়ে পরে। আর্থিক অনুদানের অভাবে বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা রাত্রী কালীন স্কুল গুলি পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যায়। যে ভাবেই হউক দায়িত্বের চেয়ে ইমোশনই এমর্মে আমার নিকট বেশী প্রাধান্য পেয়েছিল; যা আমাকে এখনো পীড়া দেয়। চুনখা ভাইয়ের মৃত্যুওআমার নিকট যথেষ্ট পীড়া দায়ক; মৃত্যুর আগের রাত্রে তার সাথে আমার সর্বশেষ কথা ছিল অনেক ইঙ্গিত পূর্ণ যা আমি তৎসময়ে উপলব্ধি করতে পারি নাই। চুনখা ভাই তৃতীয় নির্বাচনের রেজাল্ট ঘোষনার পূর্বেই হঠাৎ মৃত্যুবরন করেন (গোদনাইল কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত ছিল)। তিনি জোর দিয়েই আমাকে বলতেন, তিনি বেচে থাকাবস্থায় কেহ পৌর চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসতে পারবেনা।
আমার সাথে তার কোন রাজনৈতিক দলীয় সম্পর্ক ছিল না; আমি তাকে ভাই বলতাম, তিনি আমার মাকে মা ডাকতেন- এইটুকু শুধু জানতাম।স্বাক্ষরতা আন্দোলনের শুরু থেকেই মিডিয়া তথা টিভি ও রেডিওতে জাতিসংঘ ঘোষিত আর্ন্তজাতিক স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে (প্রতি বৎসর ৮ই সেপ্টেম্বর) কথা বলার সুযোগ হয়েছে। স্মরনে আসে, রেডিওতে নিরক্ষরতা দূরীকরন সম্পর্কিত বক্তব্য সমাজকল্যান প্রভাতী সংসদের উদ্দ্যেগে মাজদাইর মসজিদের মাইকে শুনানো হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের আমলে স্বাক্ষরতা আন্দোলন আরো জোরদার হয়- যা ছিল তার ১৯ দফার অন্যতম দফা। স্বাক্ষরতা আন্দোলন সফল করার বিষয়েআমার লেখা আর্টিকেল পড়ে ডিগ্রি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান সংসদ ভবনের দক্ষিন প্লাজায় দেশব্যাপী যুব প্রতিনিধিদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী একটি কর্মশালা করেছিলেন যার মধ্যে বৃক্ষরোপন, মৎস্য চাষ, সমবায় প্রভৃতি সহ স্বাক্ষরতার বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পায়। ঢাকা অতিঃ জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমাম হোসেন (এ সময়ের নারায়ণগঞ্জের মহকুমা প্রশাসক) উক্ত কর্মশালায় যোগদান ও আমাকে কথা বলার সুযোগ করে দেন।
ঐ সময় (কলেজ জীবনে) দৈনিক বাংলায় আমার আর্টিকেল নিয়মিত প্রকাশ হতো। টাইপিষ্ট দিয়ে টাইপ করে লেখা পত্রিকা অফিসে দিয়ে আসতে হতো। দৈনিক বাংলার তৎকালীন সম্পাদকের ডাকে তার বাস ভবনে (কমলাপুর রেলষ্টেশনের পশ্চিম পাশে অবস্থিত সরকারী অফিসার্স কোয়ার্টার) দেখা করতে যাই, তখন আমাকে দেখে বলেছিলেন- “লেখা পড়ে মনে হয়েছিল তুমি একজন বয়স্ক ব্যক্তি”। পরবর্তীতে আমার লেখাগুলি নিয়মিত দৈনিক সংগ্রাম ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায়ও ছাপা হতো।
স্বাধীনতার আন্দোলনের ব্যপক ভূমিকা ছিল বহুল প্রচারিত এমন একটি পত্রিকায় সম্প্রতি বেশ কিছু লেখা ছাঁপানো হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক লুটেরা “এস আলম এর কর্মচারী এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি” এধরনের লেখা এবং হালে সরকারের কট্টর সমালোচনা বা আমি যে ভাষায় লিখি সে ভাষায় লেখা আর্টিকেল ছাপাতে তারা স্বাচ্ছন্দ বোধ করে না। “সংবিধান কি ছেলের হাতে মোয়া” শিরোনামে একটি আর্টিকেল স্বনাধন্য পত্রিকায় পাঠাই, যার শেষ প্যারা ছিল নিম্নরুপ:-
“সংবিধান রক্ষার জন্য স্বৈরাচারের গডফাদার মি: চুপ্পুর হাতে শপথ নিয়েই যদি জনাব তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হতে হয়, তবে বিগত ১৭ বৎসর বি.এন.পি’রসাধারন নেতাকর্মীদের পাট ক্ষেতে রাত্রি যাপন, গুলিতে পঙ্গু, গুম, গায়েবী মামলায় রিমান্ড ও কারাবন্দী নির্যাতিত হওয়া তৃনমূলের নেতা/কর্মীদের এটাই কি ছিল উচিৎ প্রাপ্য? না-কি ক্ষমাই মহত্বের লক্ষন; না-কি আত্মসম্মান দূরে থাক, ক্ষমতায় যাওয়াটাই কি মূল কথা; না-কি রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছুই নাই- না-কি অদৃশ্য শক্তির প্রভাব; বিষয়টি নির্যাতিত নেতাকর্মীরা কোন দৃষ্টিতে বিচার বিশ্লেষন করবে?সংবিধানের দোহাই বাতুলতা মাত্র, ব্যক্তির ইচ্ছায় প্রাধান্য যা ছিল, চলছে এবং চলবে বৈ কি! ”এবং “বর্তমান রাজনৈতিক হালচালে মনে হয়, সংবিধান যেন “ছেলের হাতে একটি মোয়া,খেলে খেলাম, না খেলে পোষা বিড়ালকে দিয়ে দিলাম”!হৃদয়ের রক্তক্ষরন থেকে আর একটি বিপ্লব হবে কি হবে না- তা ভবিষ্যতই নির্দ্ধারন করবে; যা হতে পারে অন্ধকারে প্রদীপ জ্বালানোর হাতিয়ার। বৈষম্যবিহীন একটি রাষ্ট্রই জনআকাংখ্যা ও প্রত্যাশা পূরণে একমাত্র সমাধান- যা বাস্তবায়ন এখন সময়ের মূখ্য দাবী।”
আর্টিকেলের শেষাংশে উক্ত দুইটি প্যারা থাকায় বহুল প্রচারিত পত্রিকায় লেখাটি ছাপায় নাই। বিষয়টি আমাকে আবারো স্মরন করিয়ে দেয় গণতান্ত্রিক সরকারের আমলের- মত প্রকাশের স্বাধীনতার হাত কতটুকু লম্বা বা খাট তা এখনো বুঝে উঠতে পারি নাই। সব সরকারের চরিত্রে কোন ভিন্নতা নাই। মত প্রকাশের স্বাধীনতার অনুকুলে সরকারের মুখভরা বুলি ও বাস্তবতা-একই অঙ্গের ভিন্নরূপ মাত্র। পত্রিকায় নিজস্ব পলিসি প্রকাশ পাবে সম্পাদকীয়তার মাধ্যমে। কিন্তু লেখক কেনস্বাধীন মতামত ব্যক্ত করতে পারবে না? তবে ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা রইল কোথায়? অনেক ক্ষেত্রেই মিডিয়ার মালিকানা এখন পেশাদারদের হাতে নেই; চলে গেছে ব্যবসায়ীদের হাতে, ফলে সৃষ্টি হচ্ছে ভিন্ন ধরনের বিড়ম্বনা।
স্মরন পরে, প্রাথমিক শিক্ষাবস্থায় বাবা আমাকে তৎসময়ের ইৎধহফবফ চধৎশবৎ কালির কলম দিয়ে বলেছিলেন “বৃটিশ আমলে ১৯৪৭ সনে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ম্যাট্টিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার জন্য তৎকালীন ইৎধহফবফ “চৎবংরফবহঃ” কলম দাদার নিকট থেকে চেয়ে ছিলেন, তখন আমারদাদা আমার বাবাকে বলেছিলেন “ তোকে প্রেসিডেন্ট কলম দিতে হলে আমার ৫মন ধান বেচতে হবে”; দাদার কথায় বাবার মন ব্যথিত হওয়ার কারনে বাবা কোলকাতায় ম্যাট্টিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন বটে, কিন্তু চৎবংরফবহঃ কলমে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ হয় নাই- তৎসময়ে বাবার ব্যথিত মন এখনো আমি স্মরন করি। পৃথিবীর যেখানেই যাই সেখান থেকে এখনো মান সম্মত কলম নিয়ে আসি এবং নিয়মিত কালির কলমেই লিখি এবং একটু ফুসরত পেলেই অবচেতন মনেই কাগজের উপর কলম চালানো অভ্যাসে পরিনত হয়েগেছে।
লেখা লেখিযদিও মান সম্মত হয় না তবুও চেষ্টা দীর্ঘ দিনের। ১/১১ সরকারের ২৬ মাস কারাবন্দীবস্থায় কারা-উপ-মহাপরিদর্শক মেজর (অব:) শামসুল আলমের উদ্দ্যেগে দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ হয়। সেখানেও লেখার দায়িত্ব পাই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উক্ত পত্রিকায় দুকলম লিখেছেন। যাতে উল্লেখ ছিল যে, “কারাবন্দী অবস্থায় কয়েদীরা যে অর্থ উপার্জন করে সাজা ভোগের পর সে অর্থ যেন তারা বাড়ীতে নিতে পারে” । কারাগার ব্যবস্থাপনার উপর আমার লেখা প্রকাশ হওয়ার পর পরবর্তীতে লেখার জন্য আর দায়িত্ব পাই নাই।
কারাবন্দী থাকাবস্থায় ১/১১ সরকার আমার বন্দুক ও পিস্তলের লাইসেন্স, গণডাক পত্রিকার ডিক্লারেশন, উত্তরা রাজউক প্লট, বিসিকের হোশিয়ারী প্লট বরাদ্দ বাতিল করে। শেখ হাসিনা সরকার আমার ইন্টারন্যাশনাল পাসপোর্ট স্থগিত, বিদেশ ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা এবং জাতীয় বধির সংস্থার সভাপতির পদ ছিনিয়ে নেয়। বন্দুক ও পিস্তলের লাইসেন্সছাড়া হাইকোট্ েরীট করে সব কিছুই ফেরৎ পেয়েছি; আমার বিরুদ্ধে চাষাঢ়া বোমা হামলা সহ অনেক ফৌজদারী মামলা থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জোর আপত্তিতেহাইকোর্ট আর্মস লাইসেন্স ফেরৎ দেয়ার আদেশ দেয় নাই, যা বর্তমানে সুপ্রীম কোর্টের মূল ভবনের ১২নং আদালতেচধৎঃ- ঐবধৎফ হিসেবে কার্য তালিকায় রয়েছে; (রীট পিটিশন নং ১১০১/২০১২)।
একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হওয়ায় ঢাকার এডিসি (সার্বিক) ধীরাজ মালাকার নিজে বাদী হয়ে আমার বিরুদ্ধে নারায়নগঞ্জ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করে। ঐ মামলায় জামিন নিয়ে ঢাকায় সরাসরি এডিসি (সার্বিক) সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি বুঝিয়ে বললে তিনি মহকুমা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ জনাব মোঃ সিরাজুল ইসলামকে ফোন করলে মামলা থেকে আমাকে অব্যহতি দেয়া হয়। ২১/০৭/১৯৯১ইং তারিখে গণডাক নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ আমার অনুকুলে ডিক্লারেশন প্রদান করেন। পত্রিকা ছাপা শুরুতেই শুরু হয় বিড়ম্বনা। “যে ম্যাজিষ্ট্রেট রাতের বেলায় নারায়নগঞ্জ ক্লাব বা রাইফেল ক্লাবে জুয়া খেলে, সেই ম্যাজিষ্ট্রেটই দিনের বেলায় আদালতে বসে জুয়াড়ীদের সাজার রায় প্রদান করে” এ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ১ম শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রেট জনাব আবদুল মালেক নিজে বাদী হয়ে আমার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেন। জামিন নেয়ার পর জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান সেই মামলা আর প্রসিড করতে দেন নাই। জেলা জজ শীপের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে “মাথায় ধরেছে পচন” শিরোনামে আরো একটি আর্টিকেল ছাপা হওয়ায় তৎকালীন জেলাও দায়রা জজ, নারায়নগঞ্জ জনাব আবদুল মজিদ অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের পদক্ষেপ নিলে আইনজীবী বিশেষ করে জুনিয়র আইনজীবীদের আন্দোলনে সে বিষয়টি প্রসিড হয় নাই।
১৯৯৩ সনের ৬ই ডিসেম্বর মীরাটে (ভারত) রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা শুরু হলে নারায়ণগঞ্জে একটি প্রতিবাদ মিছিল করি, যা আমার চিন্তার চেয়ে বেশী লেকাজনের সমাবেশে পরিনত হয়েছিল। একটি মহল থেকে প্রচার করা হলো আমি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উস্কানী দিচ্ছি। আমার সাথে থাকা রফিক কমিশনার ডি.সি অফিসে মিটিং থেকেই গ্রেফতার এবং তৎকালীন আমার চেম্বার জুনিয়র সরকার হুমায়ন কবির গ্রেফতার হয়ে উভয়েই ডিটেনশনে; গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ হন্যে হয়ে আমাকে খোঁজাখুজি করে। তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি- বিচারপতি নুরুল ইসলাম সাহেবের হস্তক্ষেপে গ্রেফতার থেকে রক্ষা পাই। এ-মর্মে সাংবাদিকসমাজের যথেষ্ট সহযোগীতা ছিল।
বার কাউন্সিলের বিশেষ অনুমতি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সাব জেলে সরকার হুমায়ন কবীরের এডভোকেট শীপপরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করি। ভারতে মুসলিম হত্যার কারনে কংগ্রেস ক্ষমতায় যেতে পারবে না বলে ৫টি কারণ চিহ্নিত করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে চিঠি লিখি। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে রাজীব গন্ধী চিঠির উত্তর দিয়ে আমার বক্তব্য সমর্থন করে তার ভাষায় উষ্ণ ধন্যবাদ দিয়েছিলেন। উক্ত চিঠি যখন আমার নিকট পৌছে তখন আমার চেম্বারে বি.এন.পি নেতা আঃ সবুর খান সেন্টু উপস্থিত ছিল। আমার ২৭/১ শায়েস্তা খান রোডস্থ চেম্বারটি নারায়নগঞ্জের অনেকট ঘটনার সাক্ষী, ছিল নারায়নগঞ্জের সর্বস্তরের রথি মাহরথীদের পদচারনা এবং সবচেয়ে বেশী সুসজ্জিত চেম্বার। নারায়ণগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানে আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে আনার প্রতিবাদে ঐদিনই সন্ধায় আমার চেম্বারটি পুড়িয়ে দেয়। নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতি রেজুলেশন করে ঘটনার নিন্দা জানায়। আল্লাহ পাকের রহমতে আমার চেম্বার থেকে অনেক আইনজীবীর সৃষ্টি হয়েছে, আজকে তারা প্রতিষ্ঠিত। বিষয়টি কারো মনে থাকতে পারে, কারো মনে না থাকারই কথা। কারন বাঙ্গালীরঋরংয গবসড়ৎু কথা তো অনেক স্বনামধন্য প্রবন্ধকার ও ইতিহাসবিদ স্বীকার করেছেন।
আমার অবচেতন মন ভূমিদস্যুদের জাত শত্রু।
বসুন্ধরা সহ জাতীয় ভূমিদস্যুদের দস্যুতার বিরুদ্ধে রীট করে অসহায় কৃষকদের জমি জমা রক্ষার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। ব্যর্থ হওয়ার প্রথম কারণ-সরকার, প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ’সবই ছিলো ভূমি দস্যুদের পকেটে। দ্বিতীয়ত: রূপগঞ্জের মন্ত্রী-এম.পি মেয়র, চেয়ারম্যান, বিত্তশালী লোকেরা ভূমিদস্যুদের পা চাটা দালাল হওয়ার কারনে তাদের বিরুদ্ধে যে ধরনের গন আন্দোলন গড়ে তোলার কথা ছিল- তাতে ব্যর্থ হয়ে নারায়ণগঞ্জ ডিসি অফিসে অবস্থান ধর্ম ঘট, ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছি যাতে ডাঃ জাফর উল্ল্যাহ চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম, মাহমুদুর রহমান মান্না, জোনায়েদ সাকী, বাসদ নেতা রাজেকুজ্জমামান রতন প্রমুখ উপস্থিত থেকে রূপগঞ্জের জমি রক্ষার পক্ষে আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন- ফলশ্রুতিতে বক্তাদের উপস্থিতিতে নারায়নগঞ্জ ও রূপগঞ্জে ভূমিদস্যু বিরোধী একটি সমাবেশ হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ইতোমধ্যে বসুন্ধরার মালিক আমাকে তার বাড়ীতে দাওয়াত করেন এবং আমাকে দাওয়াতে নেয়ার জন্য সোনারগাঁয়ের তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্তমান এম.পি (সাথে ছিল তার পি এস সেলিম হোসেন দীপু ও ফতুল্লার বিএনপি নেতা রুহুল আমিন শিকদার) আমারমজলুম মিলনায়তনে আসে। তাদের উপস্থিেিতই টেলিফোনের জবাবে বলি-“আপনাকে আমি সরাসরি ভূমিদস্যু বলি- ফলে আপনার দাওয়াত আমি গ্রহন করতে পারবো না”।
রূপগঞ্জে সকল ভূমি দস্যুরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাকে ভয়ভীতি ও নানা প্রলোভনে ক্রয় করতে ব্যর্থ হয়ে তাদের মালিকানাধীন মিডিয়াতে দূর্নীতির নানা কল্পকাহীনি লিড নিউজ হিসেবে আমারবিরুদ্ধে প্রচার করতে থাকে; স্মরনে রয়েছে- যার কিছু বিবরন নিম্ন উল্লেখ করা হলো:-
পত্রিকার নাম তারিখ শিরোনাম পৃষ্ঠা
বাংলাদেশ প্রতিদিন ১১/১১/২০২০ অন্ধ বধিরের টাকায় পকেট ভারী- শেষ
তৈমুর আলম খন্দকারের
কালের কন্ঠ ১১/১১/২০২০ অন্ধ ও বধিরের টাকায় পকেট ভারী শেষ
তৈমূরের
দেশ রূপান্তর ১১/১১/২০২০ অন্ধ বধিরের টাকায় বিলাশী জীবন শেষ
তৈমূরের
উধরষু ঝঁহ ১১/১১/২০২০ ঞধরসঁৎ ঊসনধুুষবং শেষ
গড়হবু ড়ভ ঃযব উবধভ
বাংলাদেশ প্রতিদিন ১৫/১১/২০২০ সততার খোলসে থাকা বি.এন.পি-
নেতা তৈমূর দূনীতির বরপুত্র শেষ
কালের কন্ঠ ১৫/১১/২০২০ সততার খোলসে থাকা বি.এন.পি নেতা
তৈমূর দূণীতির বরপুত্র শেখ
সিরিজি আকারে এ-ধরনের লিড নিউজ বেশ কিছু দিন ভূমিদস্যুদের মালিকানাধীন পত্রিকায় ছাপা হওয়ায়প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) নির্দেশে সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব এ.কে.এম শহিদুল্যাহ-র নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ টিম (স্মারক নং ৪১.০০.০০০০.০৫৭.৪৩.০৪৩.১৫-১২৫, তাং ২৫/১১/২০২০ইং) প্রকাশিত দূর্নীতির সম্পর্কে জাতীয় অন্ধ কল্যান সমিতি ও বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থায় অফিসে দুই সপ্তাহব্যাপী তদন্ত করে আমার দূর্ণীতি সংক্রান্ত কোন তথ্য প্রমাণ পায় নাই।এ-ছাড়াও জনাব তারেক রহমান তার নিজস্ব টিম দিয়ে তদন্ত করে সন্তোষ্টির পরই তৃতীয় বারের মত আমাকে নারায়নগঞ্জ জেলা বিএনপির দায়িত্ব প্রদান করেন। ঢাকা-নারায়নগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্ধ-বধিরা ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল সহ সংশ্লিষ্ট পত্রিকা পোড়ানো কর্মসূচী পালন করেন। ভূমিদস্যুদের আক্রোসে নিরাপদে চলা আমার জীবনকে করেছিল ঝুকিপূর্ণ।
যেহেতু মিডিয়া জগতের একটি বড় অংশ ভূমি দস্যুদের টাকায় চলে , সেহেতু আমার লেখা আর্টিকেল তাদের পত্রিকায় নিষিদ্ধ এবং এটাই হওয়া স্বাভাবিক বলে আমি ধরে নিয়েছি। তবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা পত্রিকায় নিরপেক্ষতা থাকে কোথায়? ভূমি দসুদ্যরা বড় বড় মিডিয়ার মালিক এবং দস্যুতার প্রটেকশনের জন্যমিডিয়া তাদের একটি বড় হাতিয়ার।
তৎকালীন পৌর গ্রন্থাগ্রার মোঃ আঃ মান্নানের নেতৃত্বে ও সিনিয়র সাংবাদিক আবুল হোসেনের সম্পাদনায় ১৯৯৩ইং সনের ১৪ই এপ্রিল “নারায়ণগঞ্জ জেলায় শত বছরের শত ব্যক্তিত্ব” নামে একটি তথ্য সম্বালিত জীবনীগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। উক্ত বইয়ের ২৬৬/২৬৭ পৃষ্ঠায় আমার জীবন কাহিনীওস্থান পেয়েছে, যদিও আমার যোগ্যতা ততটুকু ছিল না এবং বর্তমানেও নাই। উক্ত গ্রন্থে আমার পরিচিতিতে শুরুতেই লিখেছেন- “নারায়নগঞ্জের প্রতিবাদী কন্ঠ বলে পরিচিত তৈমূর আলম খন্দকার”। প্রতিবাদী হয়ে জীবন শুরু করনই কি কোথাও আমার ঠিকানা স্থায়ী না হওয়ার একমাত্র কারন? শেষ পর্যন্ত আমার ঠিকানা স্থায়ী হলো সুদূর আমেরিকা থেকে বাংলায় প্রকাশিত বহুল প্রচারিত “ঠিকানা” পত্রিকায়, যাদের সরকার বা কোন ভূমিদস্যুদের রক্তচক্ষুর তোয়াক্কা করতে হয় না; নাই কোন লিখিত/অলিখিত সরকারী শাসন , নাই কোন প্রাপ্তি/না প্রাপ্তির কামনা বা বাসনা। আর ঠাঁই হয়েছে নারায়নগঞ্জ থেকে বহুল প্রচারিত পত্রিকা গুলিতে যারা আমাকে চিনে ও জানে এবং যারা সরকার বা ভূমিদস্যুদের বড় আকারের বিজ্ঞাপনের প্রত্যাশায় থাকে না; নারায়নগঞ্জ মাটি ও মানুষের প্রতি যাদের রয়েছে দ্বায়বদ্ধতা ও নিরন্তর দায়িত্ব বোধ।
দুঃখ/কষ্ট/বেদনা /অনুকম্পা /অনুগ্রহ/দয়া- দাক্ষিন্য আমাকে যেন করাল গ্রাস না করে এটাই বিধাতার নিকট একমাত্র কামনা। পরম করুনাময় আল্লাহ একমাত্র হেফাজত দাতা- এবিশ্বাসেই যেন আমার মৃত্যু হয়।
লেখক: ড. তৈমুর আলম খন্দকার
সিনিয়র অ্যাডভোকেট ও কলামিস্ট।
