পিরোজপুর ইউপি নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশি চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দল পাল্টানো!

সান নারায়ণগঞ্জ

স্থানীয় নির্বাচনে থাকছেনা দলীয় প্রতীক। নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি তাদের প্রার্থীদের সমর্থন দিতে পারে সেটা ধারণা করা হয়। স্থানীয় এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান যাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করবেন তিনিই হবেন বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী সেটা নিশ্চিত করে বলা যায়। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কে পেতে যাচ্ছেন এমপির সমর্থন তথা বিএনপির সমর্থন?

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করার জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যানার পোস্টার ফ্যাস্টুন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের কোনো প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না কিনা সেটাও এখনই হলফ করে বলা যাচ্ছেনা। যদিও আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সেক্ষেত্রে যদি সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম প্রার্থী হয় তাহলে বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশি যেসব প্রার্থী রয়েছেন তাদের কেউই মাসুমের সঙ্গে লড়াই করে ধুপে টিকতে পারবে কিনা তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে বিরাট সন্দেহ রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এই ইউনিয়নে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি একাকার হয়ে গেছে। কারন জাতীয় পার্টির রাজনীতি করে আসা দুই নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নিজেদের প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। যাদের মধ্যে অন্যতম হলো বর্তমান উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম বিডিআর ও সহ-সাধারণ সম্পাদক শহিদ সরকার। ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতির পদ থেকে রফিকুল ইসলামকে ও সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে শহিদ সরকারকে বহিষ্কার করেছিল জাতীয় পার্টি। তারপর থেকে তারা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হোন। এর আগে ২০১৪ সালের পর স্থানীয় জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার হাত ধরে জাতীয়পার্টিতে যোগদান করেছিলেন।

এ ছাড়াও এই ইউনিয়নে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম রানা। তিনি হেভিওয়েট প্রার্থীদের একজন। যদিও তিনি এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। হাতপাখা মার্কা নিয়ে এই ইউনিয়নে তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে সটকে পড়েন। কয়েক বছর পর তিনিও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হোন। বর্তমানে তিনি সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা যুবদলের সদস্য পদে রয়েছেন।

এই ইউনিয়নে বিএনপির রাজনীতিতে রাজপথে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল মেম্বার। কিন্তু তাদের কেউ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তারা অনেকটা বিডিআর রফিকের হয়ে কাজ করছেন। তবে এই ইউনিয়নে বিএনপির ফ্রেশ নেতা হিসেবে রয়েছেন হান্নান বেপারী। তিনি সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক। তিনিও চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক প্রচারণায় রয়েছেন। যদিও স্থানীয়রা মনে করছেন, একমাত্র শহিদ সরকার বাদে বাকিরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তাদের মধ্যে লড়াই হতে পারে।