সোনারগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সিলেকশনে হতে পারে জটিলতা!

সান নারায়ণগঞ্জ

চলতি বছরের শেষের দিকে সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন করার কথা বলছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। এমন অবস্থায় সোনারগাঁও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মোশারফ হোসেন স্থানীয়দের নিয়ে বৈঠক শুরু করে দিয়েছেন। গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর ‍বিপুল সংখ্যক ভোট পাওয়ার বিষয়টি বিএনপিকে মাথায় রাখতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থীকে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে। জনগণের ভোটে বিজয় নিশ্চিত হওয়া এমন প্রার্থী এখানে বিএনপির নাই। ভীতি তৈরি হয়েছে পৌরসভার বেশকটি কেন্দ্রে গেল নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পরাজয়টি। প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি ভোট এখানে জামায়াতে ইসলামী আদায় করে নিয়েছেন গেল নির্বাচনে।

স্থানীয়রা বলছেন, এখানে বিএনপি থেকে একমাত্র প্রার্থী করা হলে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জয়ের সম্ভাবনা থাকবে। কিন্তু যদি বিএনপির একাধিক প্রার্থী এখানে মেয়র পদে দাঁড়িয়ে যায় কিংবা হেভিওয়েট কোনো ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয় তাহলে বিএনপির প্রার্থীর এখানে জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। এমনিতে থাকবেনা এবার দলীয় প্রতীক। নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচনটি হলেও ভেতরগতভাবে বিএনপি একজন প্রার্থীকে সমর্থন করবে।

এখানে বেশকজন বিএনপি নেতা গেল জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার আগে মেয়র পদে আলোচনায় ছিলেন। তারা হলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাদ্দাম হোসেন, জিয়াউল ইসলাম চয়ন ও পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম নয়ন। তারা জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের বিরোধীতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছিলেন। তবে রাজনৈতিক কারনে তাদের কেউ একজন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। যদিও এখনও তারা নির্বাচনের কোনো আগাম ঘোষণা করেননি। বহিষ্কার নিয়ে ব্যাকফুটে থাকায় চুপসে আছেন।

এদিকে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে কে হতে পারেন সেটা নিয়ে আলোচনায় আছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোতালেব মিয়া ও জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ মিঠু। মিঠু এখনো নির্বাচনের ঘোষণা না দিলেও মোশারফ হোসেন ও মোতালেব মিয়া নির্বাচনী প্রচারণায় আছেন। নির্বাচনে এই তিনজনকে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে দেখা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ফলে এখানে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকলে পৌরসভার নেতৃত্ব বিএনপির হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা মনে করছেন- সকলকে নিয়ে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে একজনকে মেয়র প্রার্থী করা হলে জামায়াতের সঙ্গে এখানে জেতা সহজ হবে বিএনপির।