সোনারগাঁয়ে বিএনপি নেতার হাতে ছোট ভাই রক্তাক্ত জখম

সান নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ ও পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের মাঝে দীর্ঘদিন যাবত রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। যদিও তারা আপন ভাই।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুই ভাইয়ের অনুসারীদের মাঝে একাধিকবার মারামারির ঘটনা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এবার বড় ভাই আব্দুর রউফের অনুগামীদের হাতে রক্তাক্ত জখম হয়েছেন ছোট ভাই আব্দুল জলিল। তবে জলিলের দাবিমতে সম্পূর্ণ ঘটনা সত্য নয় বলে দাবি করেছেন তাদেরই গর্ভধারিনী মা।

এর আগে এলাকার চুনা ফ্যাক্টরী বন্ধ করা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বেশকটি চুনা ফ্যাক্টরী জলিল বন্ধ করে দেন। তার দাবি ওইসব অবৈধ চুনা ফ্যাক্টরীগুলো রউফ পরিচালনা করে আসছিল। গণমাধ্যমে তিনি আব্দুর রউফকে পাগল হিসেবেও আখ্যায়িত করে বিবৃতিও দেন। এরপর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে জলিলকে মাদকাসক্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেন রউফ। জলিল ডোপ টেস্ট করে আবারো সাংবাদিক সম্মেলন করে রউফকে বিএনপির পদ থেকে পদত্যাগের দাবি জানান। এ নিয়ে বেশকদিন যাবত আলোচনা সমালোচনার মাঝে এলাকায় উত্তেজনা চলে আসছিল।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২৪ এপ্রিল শুক্রবার আষাঢ়িয়ারচর জামে মসজিদ কমিটি নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে জলিলের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুর রউফের নেতৃত্বে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রসহ মোঃ জলিলের ওপর হামলা চালায়।

অভিযুক্তদের মধ্যে রাফি, ফেরদৌসি রোমিজা, আবু আক্কাস, ফিরোজ, আবু সিদ্দিক ও বাবুলের নাম উল্লেখ করেছেন জলিল। এছাড়াও অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জন এ হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
হামলার সময় গুরুতর আহত অবস্থায় জলিলের ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ জলিল বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।