নাসিকের ৮নং ওয়ার্ডে প্রশাসক সহায়তা কমিটি গঠনের সংবাদে তোলপাড় ও সমালোচনা
নিজস্ব প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৮নং ওয়ার্ডে প্রশাসক সহায়তা কমিটি গঠনের বিষয়ে স্থানীয় দৈনিক ডান্ডিবার্তা পত্রিকাসহ বেশকটি পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশকে কেন্দ্র করে সিদ্ধিরগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। একইভাবে চলছে তুমুল আলোচনা সমালোচনা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় তুলেছেন উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা।
বিএনপির একটি অংশের নেতাকর্মীরা ওই সংবাদের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে দাবি তুলেছেন- গত জাতীয় নির্বাচনে যারা ফুটবল ও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করেছিলো তাদেরকে নিয়ে এই প্রশাসক সহায়তা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা প্রকাশ্যে ধানের শীষের পক্ষে থাকার অভিনয় করলেও রাতের আধারে তারা ফুটবল ও দাঁড়িপাল্লার হয়ে কাজ করেছেন। সহায়তা কমিটিতে পদ পাওয়া নেতাদের পক্ষের অনুগামীরা দাবি তুলেছেন তারা ধানের শীষের পক্ষেই কাজ করেছেন। তার স্বপক্ষে প্রচার প্রচারণার ভিডিও ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। অধিকাংশ নেতাকর্মীরা দাবি তুলেছেন- এই সহায়তা কমিটি প্রত্যাহার করে নতুন করে কমিটি গঠন করার।
পাঠকদের সুবিধার্থে স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরটি হুবহু প্রকাশিত হলো:
‘‘গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব ব্যক্তিরা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের বিরোধীতা করে ফুটবল ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন সেইসব ব্যক্তিদের দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৮নং ওয়ার্ডে প্রশাসক সহায়তা কমিটি গঠনের অভিযোগ ওঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছ থেকে। নেতাকর্মীদের অভিযোগ- বিএনপির সাচ্চা কর্মীদের পাশ কাটিয়ে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা গিয়াসউদ্দীনের ফুটবল প্রতীক ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে যারা কাজ করেছেন তাদেরকে দিয়ে প্রশাসক সহায়তা কমিটি গঠন করেছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান।
জানাগেছে, ২৫ মার্চ বুধবার প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান সিদ্ধিরগঞ্জের ৮নং ওয়ার্ডে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিতে সাগর প্রধানকে সভাপতি, সদস্য পদে দেলোয়ার হোসেন বাবুল, জাহাঙ্গীর আলম স্বাধীন, মঞ্জরুল আলম মুসা ও নুরুজ্জামানকে রাখা হয়েছে। কিন্তু এই ওয়ার্ডে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে জোরালো ভুমিকা রাখা মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর আয়েশা আক্তার দিনা, মহানগর যুবদলের সদস্য আবুল বাশার বাদশার মত ব্যক্তিদের রাখা হয়নি। দিনার মত নেত্রীকে অপমান অপদস্ত অবজ্ঞা করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠন করায় নেতাকর্মীদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, সাখাওয়াত প্রশাসক হওয়ার পর সিদ্ধিরগঞ্জের বিএনপির সকল বহিষ্কৃত নেতাদের হাত থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেছেন। কার্যত যারা ধানের শীষকে পরাজিত করতে ফুটবল ও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করেছেন এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন তাদের হাত থেকে ফুল নিয়েছেন সাখাওয়াত। যদিও পূর্বে থেকেই সাখাওয়াতের সঙ্গে গিয়াসের গভীর সখ্যতা রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সিদ্ধিরগঞ্জে একদিন প্রচারণায় দেখা গেলেও সাখাওয়াত একদিনও ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেননি।
নেতাকর্মীরা জানান, জাতীয় নির্বাচনে সাগর প্রধান, বাবুল, স্বাধীনকে একাধিকবার ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার অনুরাধ জানালেও তারা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেননি। নির্বাচনের পূর্বে নিজেদের বহিষ্কার ঠেকাতে নামকাওয়াস্তে বিএনপির প্রার্থী মান্নানের গণসংযোগে ১০/১২জন নেতাকর্মী নিয়ে অংশগ্রহণ করেন তারা তিনজন নেতা। একইসাথে ধানের শীষের বিরোধীতা করেন মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মমতাজ উদ্দীন মন্তুও। মন্তুর ঘনিষ্ঠ কর্মী মুসা ও নুরুজ্জামান। কৌশলগত কারনে মন্তু নিজের নাম সহায়তা কমিটিতে না দিয়ে নিজের কর্মী মুসা ও নুরুজ্জামানের নাম বসিয়েছেন।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ- জাতীয় নির্বাচনে সাগর প্রধান, মন্তু, বাবুল, স্বাধীন, মুসা ও নুরুজ্জামান ধানের শীষের পক্ষে দাবি করলেও রাতের আধারে তারা প্রথমে ফুটবলের পক্ষে কাজ করতে থাকেন। ফুটবলের পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে অবস্থান নেন। ধানের শীষকে পরাজিত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সাগর প্রধান ৮নং ওয়ার্ডের কোনো কেন্দ্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। অন্যজনকে দায়িত্ব দিয়ে নিজে উপদেষ্টা সেজেছেন দায় এড়ানোর জন্য। সেই সাগর প্রধান নির্বাচনের পূর্বে একদিনও এমপির সঙ্গে দেখাও করেননি এবং ধানের শীষের পক্ষে কারো কাছে ভোটও প্রার্থনা করেননি। অথচ নির্বাচনের পর ও ঈদের পর এমপি মান্নানের কাছে গিয়ে নিজে একটি ভোট কেন্দ্রে ধানের শীষকে পাস করিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
আরো গভীর ষড়যন্ত্র করে এমপি মান্নানকে বিতর্কিত করতে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ফুটবলের লোক আইয়ুব আলী মুন্সীর ছেলে নূর সাদী মুন্সীকে নিয়ে এমপি মান্নানের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন সাগর প্রধান। এতেই প্রমানিত হয় সাগর প্রধান ফুটবল ও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করে ধানের শীষকে পরাজিত করতে চেয়েছিলেন। অথচ সেই ফুটবল ও দাঁড়িপাল্লার লোক দিয়ে প্রশাসক সহায়তা কমিটি গঠন করেছেন সাখাওয়াত। ৮নং ওয়ার্ডের প্রকৃত ধানের শীষের লোকদের বাদ দিয়ে ফুটবল ও দাঁড়িপাল্লার লোক দিয়ে প্রশাসক সহায়তা কমিটি গঠনের হেতু কি- এমন প্রশ্ন নেতাকর্মীদের মনে।’’
