সিদ্ধিরগঞ্জে ধানের শীষের পক্ষে কেউ প্রাণপণে লড়েছেন, কেউ করেছেন অভিনয়!
সান নারায়ণগঞ্জ
বহু নাটকীয়তা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মনোনিত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে বিজয়ী করার পেছনে। নির্বাচনের পূর্বে সিদ্ধিরগঞ্জে যেসব নেতারা ধানের শীষের পক্ষে ঝান্ডা ধরেছিলেন সেইসব নেতারা দিনকে দিন পেছনে পড়ে যাচ্ছেন রহস্যজনক কারনে। অথচ যারা নামকাওয়াস্তে ধানের শীষের পক্ষে থাকার অভিনয় করেছেন, এলাকায় যাদের গ্রহণযোগ্যতা নেই বললেই চলে, যারা আওয়ামী ঘেষা, যারা ভেতরে ভেতরে ফুটবল ও দাড়িপাল্লার বিজয়ের লক্ষে কাজ করেছেন, সেইসব চাটুকার চাটার দল এখন এমপি মান্নান ও তার আশপাশের ঘনিষ্ঠজনদের ঘনিষ্ঠজনে পরিনত হয়েছেন। উপেক্ষার শিকার হচ্ছেন বিগত সাড়ে ১৫ বছর রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসা, জেল জুলুম হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার হওয়া, সর্বপরি নির্বাচনের পূর্বে ধানের শীষের পক্ষে ঝাণ্ডা ধরে রাখা নেতারা।
সিদ্ধিরগঞ্জের স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনের পুর্বে নানা নাটকীয়তা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন বিএনপির প্রকৃত নেতাকর্মীরা। এমপি মান্নানকে ৩ নভেম্বর প্রাথমিকভাবে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করার পূর্বে সিদ্ধিরগঞ্জের একদল নেতাকর্মীরা মান্নানের মনোনয়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। প্রার্থী ঘোষিত হওয়ার পর আরেকদল প্রকাশ্যে মনোনয়ন বাতিল চেয়ে বিরোধীতা করেছিলেন। আরেকদল গোপনে গোপনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে মনোনিত হওয়ার পর বলেছিলেন মনোনয়ন টিকবে না, ২৪ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার পর বলেছিলেন, মান্নান বিজয়ী হবে না, সেইসব ব্যক্তিরা নির্বাচনের সপ্তাহ খানিক আগে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে আসার অভিনয় করেছিলেন, এখন সেইসব নেতারাই হয়ে ওঠেছেন অন্যতম বিশেষ নেতায়।
প্রকতপক্ষে যারা ধানের শীষের পক্ষে প্রাণপণে কাজ করেছেন তাদেরকে পেছনে ফেলে চাটুকারদের দল এমপি ও তার ঘনিষ্ঠজনদের সামনে চলে আসছে। নেতাকর্মীরা মনে করেন- সাচ্চা প্রকৃত কর্মীদের যাচাই বাছাই করে মুল্যায়ন করা উচিত। নির্বাচনের শুরু থেকেই দলের প্রার্থীর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে সিদ্ধিরগঞ্জে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক করে দায়িত্ব্ দেয়া হলে তিনিও প্রাণপণে সঠিক দায়িত্ব পালনে চেষ্টা করেছেন।
৩ নভেম্বর এমপি মান্নানকে বিএনপি প্রাথমিকভাবে মনোনিত ঘোষণা করার পূর্বে সিদ্ধিরগঞ্জে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল ও কৃষকদল এই ৫টি অঙ্গ সংগঠন মান্নানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে মান্নানের শক্তির জানানি দেয়। ধীরে ধীরে অন্যান্য অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও মান্নানের ধানের শীষের পক্ষে ভীড়তে শুরু করেন।
যুবদলের মধ্যে শুরুতেই ভুমিকা রাখেন মহানগর যুবদলের সদস্য আরমান হোসেন, আশিকুর রহমান অনি, আবুল বাশার বাদশা খান, মাকসুদুর রহমান শাকিল সহ বেশকজন সদস্য। এ ছাড়াও ভুমিকা রাখেন মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ অপু ও মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ার সহ আরো বেশকজন। যেখানে পেছন থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ। গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক আয়েশা আক্তার দিনার নেতৃত্বে মহিলা দলের নেত্রীরা।
সিদ্ধিরগঞ্জে আলোড়ন সৃষ্টিতে আরো ভুমিকা রাখেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মমিনুর রহমান বাবু, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিপন সরকার, সদস্য সচিব রেদোয়ান রহমান পাপ্পুর নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে মহানগর কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দীন মাহামুদ ফয়সাল মোল্লা, থানা কৃষকদলের আহ্বায়ক জসিম উদ্দীন সহ কৃষকদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা দেখিয়েছেন মান্নানের পক্ষের শক্তি হিসেবে।
প্রাথমিকভাবে এমপি মান্নান মনোনিত হওয়ার পর ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে জোরালোভাবে মাঠে নামেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগরের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। যদিও প্রাথমিকভাবে মনোনিত হওয়ার আগেই মান্নানের পক্ষে সিদ্ধিরগঞ্জে ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ রাসেল শেখ, সিফাজুর রহমান রাজু, আহসান হাবিব তন্ময়, আশরাফুল ইসলাম, জুবায়ের, আরিফিনসহ বেশকজন ছাত্রদল নেতা কাজ করেছেন মান্নানের মনোনয়নের দাবিতে।
মান্নান প্রাথমিকভাবে মনোনিত হওয়ার আগেই থানা বিএনপির নেতাদের মধ্যে মাঠে নামেন থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন বাদল, থানা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক আশিকুর রহমান অনি, সদস্য জাহাঙ্গীর আলম প্রধান। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষিত হওয়ার পর ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে আরো অনেক নেতাকর্মীরা প্রাণপণে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। যদিও অনেকে বহিষ্কার ঠেকাতে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে আসার অভিনয় করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেননি। উল্টো যারা ধানের শীষের পক্ষে ভালোভাবে কাজ করবেন তাদেরকে বিরক্তিতে ফেলতেন। যার ফলশ্রুতিতে সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডের মধ্যে মধ্যে মাত্র ১০, ৯ ও ৬নং ওয়ার্ডে বিজয়ী হয়েছে ধানের শীষ। ৬৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে ৫ হাজার ৬ ভোট ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ে বেশি পেয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক।
