আহ্বায়ক কমিটির ৬ বছর: টালমাটাল সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের রাজনীতি!

সান নারায়ণগঞ্জ

টালমাটাল অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আওতাধীন সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের রাজনীতি। ৩২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি পাড় করেছে দীর্ঘ ৬ বছর। এত্তদিনেও হয়ে ওঠেনি উপজেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কিংবা সম্মেলন। এরি মাঝে বহিষ্কার ও বহিষ্কার প্রত্যাহারের ঢামাঢোলে মাথাবিহীন সোনারগাঁও উপজেলা যুবদল। গেল নির্বাচনের পূর্বে আহ্বায়ক সহ আরো দুজন যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবদলের বেশকজন নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।

নেতাকর্মীরা বলছেন, এখানে যুবদলের সাংগঠনিক অবস্থা একেবারেই নড়বড়ে। যা ১০ মার্চ মঙ্গলবার উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে ফুটে ওঠেছে। স্থানীয় এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান প্রধান অতিথি হয়ে উপস্থিত হওয়ায় বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে কোনোরকমে সফলতার মুখ দেখে অনুষ্ঠানটি। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি তুলেছেন- এই আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি কিংবা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের।

১০ মার্চ মঙ্গলবার সোনারগাঁ উপজেলার বারদী খেলার মাঠে সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীব। এখানে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি উপস্থিত ছিলেন না।

যদিও জেলা যুবদলের কমিটি গঠনের পর থেকে আহ্বায়কের সঙ্গে খুব কম কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে রনিকে। জেলা যুবদলের সমন্বয়হীনতার কারনেও সোনারগাঁয়ে যুবদলের রাজনীতি গতি হারাতে বসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এখানে সজীবের তত্ত্বাবধানে যুবদলের নেতাকর্মীরা সংগঠিত থাকলেও উপজেলা যুবদলের কমিটিতে ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত হওয়া নেতাদের কারনে।

সূত্রমতে, ২০২০ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন জেলা যুবদলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন স্বাক্ষরিত শহিদুর রহমান স্বপনকে আহ্বায়ক ও আশরাফ ভুঁইয়াকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৩২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল। কমিটিতে সদস্য সচিব পদে কাউকে রাখা হয়নি। কমিটিতে এ ছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক হোন নূরে ইয়াসিন নোবেল, আশরাফুল আলম প্রধান, আশরাফ মোল্লা, পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী চপল, কামাল হোসেন, রাসেল রানা, আব্দুল আলী, কাউসার হোসেন, আমির হোসেন, মোহাম্মদ কাউসার, আবু তাহের। বাকিদের সদস্য পদে রাখা হয়।

এদের মধ্যে গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আহ্বায়ক শহিদুর রহমান স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম প্রধান, কামাল হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তীতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ ভুঁইয়াকেও বহিষ্কার করা হয়েছিল। নির্বাচনের নাগাদ সময়ে তার বহিষ্কার প্রত্যাহার করে তাকে স্বপদে বহাল রাখে কেন্দ্রীয় যুবদল। এর আগে ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান নূরে ইয়াসিন নোবেল। যুবদলের রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় চপল। আশরাফ মোল্লা ও নোবেলও দীর্ঘদিন যুবদলের বাহিরে গিয়ে নিজেদের মত করে রাজনীতি করেছেন। নির্বাচনের পূর্বে তারা সংগঠিত হতে শুরু করেন। যে কারনে নেতৃত্বশূণ্যতা ঘোছাতে দ্রুত সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের কমিটির দাবি ওঠেছে নেতাকর্মীদের মাঝ থেকে।