বক্তাবলী ইউনিয়নে আখিল মেম্বারকে অপহরণের চেষ্টা ও সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ

সান নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও একাধিক মামলার আসামী রশিদের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ সহ পূণরায় চেয়ারম্যান হতে বাধা দেয়ায় আখিল মেম্বারকে অপহরণের ব্যর্থ হয়ে মারধরে গুরুতর আহত করেছে রশিদের সন্ত্রাসী বাহিনী। রশিদ মেম্বারের নির্দেশে তারই ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা আখিল মেম্বারের উপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

১০ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইরস্থ ক্যামব্রিয়ান স্কুলের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে আব্দুর রশিদ মেম্বার আওয়ামী লীগের দোসর হওয়ার সুবাদে তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা সহ একাধিক মামলা রয়েছে। সেই মামলায় একাধিক বার গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খেটেছে রশিদ। আর আওয়ামী লীগ পতনের পর রশিদ মেম্বার আওয়ামী লীগের দোসর হওয়া সত্বেও নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম সহ বিভিন্ন লোকের মাকর্কেট সহ বাড়ি দখল করার অভিযোগ রয়েছে। রশিদের বিরুদ্ধে এমন বহু অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া এলাকায় একক ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে মেম্বার থেকে চেয়ারম্যান হওয়ার খায়েশ জাগে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হাত করে চেয়ারম্যান হওয়ার মিশনে নামে। একপর্যায়ে রশিদ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সদর উপজেলার সাবেক ইউএনও জাফর সাদিক চৌধুরীকে ম্যানেজ করে ইউনিয়ন পরিষদের পূর্বের প্যানেল ভেঙে নিয়মবহির্ভূত ভাবে মনগড়া ভাবে নতুন প্যানেল তৈরি করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়।

দীর্ঘ দিন জেল হাজত ভোগের পর জামিনে এসে পূনরায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য পায়তারা চালায়। কিন্তু রশিদ জেলহাজতে থাকা অবস্থায় একজন সরকারী অফিসারকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। আর রশিদ মেম্বার পূনরায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে যাতে দায়িত্ব না পায় আখিল মেম্বার সহ ৮ জন মেম্বার ডিসি অফিসে অভিযোগ দায়ের করে। তার পর থেকে রশিদ মেম্বার সহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী আখিল মেম্বার, হাসনা ভানু সহ অন্যান্য মেম্বারদের হুমকি দিয়ে আসছে।

আখিল মেম্বারের দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার এবং প্যানেল চেয়ারম্যান-১ হওয়া সত্বেও আওয়ামী লীগ পতনের পর নিয়মবহির্ভূত ভাবে পূর্বের প্যানেল ভেঙে ১নং ওয়ার্ড রশিদ প্যানেল তৈরি করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়। সে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছাচারিতা করার কারণে আখিল সহ অন্যান্য মেম্বাররা তাকে পুণঃ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অর্পণে বিরোধীতা করে। এতে রশিদ আখিলকে সহ অন্যান্য মেম্বারদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি সহ হুমকি দিয়ে আসছিল।

তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে আখিল সহ অপর মেম্বার পিংকি আক্তার, হাসনা বানু ডিসি অফিসের কাজ শেষে সদর উপজেলা যাওয়ার পথে পূর্ব ইসদাইর ক্যামব্রিয়ান স্কুলের সামনে পৌছা মাত্র রশিদের নির্দেশে অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে আখিলকে পথরোধ করে এবং তাকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় সন্ত্রাসীরা বলে রশিদ মেম্বারের বিরুদ্ধে কোন কথা বলিলে তোদেরকে হত্যা করিয়া ফেলিব। একপর্যায়ে আখিলকে এলোপাতাড়ি ভাবে মারধর করে। পরে এলাকাবাসীর তোপের মুখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এসময় মহিলা মেম্বার সহ স্থানীয় লোকজন আখিলকে উদ্ধার করে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায়।

ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, এ বিষয়ে একটা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন জানান, বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আখিল উদ্দিন মেম্বার এর উপর হামলার করার বিষয় আমার কাছে এসে রশিদ মেম্বারের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ দিয়ে গেছে। আমিও ফতুল্লা থানার ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বলে দিয়েছি।