নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র!

সান নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে যেসব বিএনপির নেতারা দীর্ঘদিন যাবত স্বপ্ন দেখছিলেন সেইসব নেতাদের স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন কতিপয় কিছু স্বার্থন্বেষী ব্যক্তি। তারা আড়াইহাজার থেকে একজন আনাড়ি আনকোড়া ব্যক্তিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বানানোর স্বপ্ন বুনছেন। তবে যেসব ব্যক্তিরা এমন স্বপ্ন দেখছেন মহানগরীতে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিরাট প্রশ্ন রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি- অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাঠে ছেড়ে দিয়েছেন স্বার্থবাদীরা, যারা অতীতে বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতার বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে আখ্যায়িত হতেন। এই বিষয়টিকে নগরীর মানুষজন বলছেন- নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে বহিরাগতদের কাছে বর্গা দেয়ার ষড়যন্ত্র করছেন, যাদের মধ্যে দুজনের পৈত্রিক নিবাস চাঁদপুর মতলবের।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী গণমাধ্যমে জানিয়েছেন প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই হিসেবে আগামী বছরের জানুয়ারী মাসে এর মেয়াদ শেষ হবে। তবে কেউ কেউ বলছেন- তার আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয় হবে সেটা জাতীয় সংসদ নির্ধারণ করবে। চলতি মাসেই সংসদ বসবে। তবে নির্দলীয় অর্থাৎ দলীয় প্রতীজক ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এখানে মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য স্থানীয়দের মাঝে আলোচনায় আছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহামুদ, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসূফ খান টিপু, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, মহানগর বিএনপি নেতা মাসুদুজ্জামান মাসুদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

এদিকে নতুন করে আলোচনায় এসছেন রাকিবুল ইসলাম নামে একজন ব্যক্তি। তার পেছনের পরিচয় হিসেবে জানাগেছে তিনি বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-২(আড়াইহাজার) আসনের বিএনপির এমপি নজরুল ইসলাম আজাদের ছোট ভাই। রাকিবুল ইসলামের বিএনপির রাজনীতিতে তার কোনো ভুমিকা অতীতে দেখা যায়নি। তিনি বিএনপির রাজনীতি করেছেন এমনটাও কেউ বলতে পারবে না। কিন্তু নগরীর কিছু জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তি নিজ স্বার্থে রাকিবুল ইসলামকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন। রাকিবুল ইসলাম সিটি কর্পোরেশনের ভোটার কিনা সেটা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে অনেকের মনে। কারন স্থানীয় যেকোনো নির্বাচনে প্রার্থীকে অবশ্যই ওই এলাকার স্থানীয় ভোটার হতে হবে।