সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: যার ভাগ্যে এমপির সমর্থন?
সান নারায়ণগঞ্জ
স্থানীয় সরকার–কাঠামোর সর্বনিম্ন স্তর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী জুলাইয়ে শুরু করতে চায় সরকার। প্রথম ধাপে ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে পারে এ বছরের শেষের দিকে। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা নির্বাচনের পরপরই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সূত্রে এমন তথ্য জানাগেছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর জনপ্রিয়তা থাকতে থাকতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে চায় সরকার। সেই আলোকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে তাঁর আগে স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে কি না, তা জাতীয় সংসদ থেকে চূড়ান্ত হতে হবে। তার পরই নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে আলোচনায় সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর উপজেলা পরিষদকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার। বর্তমানে নেতৃত্বশূণ্য সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ। আলোচনায় আসছে আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে কি থাকছেনা সেই বিষয়টি। সেই বিষয়টির উপর নির্ভর করছে কে পেতে যাচ্ছেন স্থানীয় এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের সমর্থন। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও এমপির সমর্থন আদায় করেই কেন্দ্র থেকে দলীয় প্রতীকে মনোনিত হতে হবে। সুতরাং প্রতীকে হোক বা না হোক স্থানীয় এমপির সমর্থন যার দিকে তিনিই হতে যাচ্ছেন সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত বা মনোনিত প্রার্থী।
এখন আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী সেলিম হক রুমী, সহ-সভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল। এদের মধ্যে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান এমপি মান্নানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে অন্যতম আল মুজাহিদ মল্লিক ও ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল। নির্বাচন নাগাদ সময়ে ধানের শীষের পক্ষে আল মুজাহিদ মল্লিককে দেখা গেলেও নির্বাচনে একেবারেই নীরব ছিলেন বকুল। এমপির সমর্থন তাদের দিকে আসবে কিনা সেটা নিয়ে বিরাট প্রশ্ন রয়েছে। তবে বকুলকে সমর্থন দেয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠেনা।
এদের মধ্যে মোশারফ হোসেন ২০১৫ সালে সোনারগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। তিনি মুলত সোনারগাঁও পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচনে আগ্রহী বলে তার অনুগামীরা জানিয়েছেন। সেভাবে তিনি দীর্ঘদিন যাবত প্রস্তুতিও নিয়ে আসছেন। উপজেলা নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কাজী টিটু এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে আগ্রহী। তার পক্ষে ইতিমধ্যে প্রচারণাও শুরু করেছেন তার কর্মী সমর্থকেরা। সমানতালে আলোচনায় আছেন কাজী সেলিম হক রুমী। যদিও এখন পর্যন্ত কেউই নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ ঘোষণা করেননি।
নির্বাচন নাগাদ সময়ে এদের বাহিরেও নতুন কোনো প্রার্থী উদয় হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। তবে যার ভাগ্যে থাকবে এমপির সমর্থন তিনিই হতে পারেন বিএনপির মনোনিত কিংবা সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী। সমর্থন বা মনোনয়ন পেলেই কেউ সহজে চেয়ারম্যান হয়ে যাচ্ছেন বিষয়টি এমনটাও নয়। কারন গেল জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর উত্থানের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। জামাতের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্ধিতা করেই বিজয়ী হতে হবে। সুতরাং চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই একজন শক্ত প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীকে সমর্থন দিবেন স্থানীয় এমপি- এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
