ধানের শীষের পক্ষে বিপক্ষে বিএনপির ওরা ৭ জনের ভুমিকা ও ষড়যন্ত্র!
সান নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের ধীনের শীষকে পরাজিত করতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশি ৭জন নেতার গভীর ষড়যন্ত্র ও ভুমিকা নিয়ে তুমুল সমালোচনা ছিলো চোখে পড়ার মতই। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহামুদ ষড়যন্ত্রকারীদের একজন হয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করার ভান করলেও তার নিজ এলাকার নির্বাচনী কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের ফলাফল বিপর্যয়ে তিনি সন্দেহের উর্ধে্ব থাকতে পারেননি। ৭জনের একমাত্র আল মুজাহিদ মল্লিককে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ৩ নভেম্বর এই আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে প্রাথমিকভাবে বিএনপি মনোনিত ঘোষণা করেন। মনোনয়ন পেয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম, সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন ও জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক মামুন মাহামুদের কাছে ছুটে যান মান্নান। তাদের তিনজনের কাছেই ধানের শীষকে বিজয়ী করতে সহযোগীতা কামনা করেন তিনি। কিন্তু তারা গোপনে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে পড়েন। এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশি হিসেবে আরো ছিলেন যুবদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এসএম ওয়ালিউর রহমান আপেল, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল।
পরবর্তীতে এই ৭জন মনোনয়ন প্রত্যাশি একজোট হয়ে মান্নানের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে তারেক রহমানের বরাবর লিখিত দরখাস্ত দাখিল করেন। এদিকে নেতাকর্মীদের দিয়ে দফায় দফায় মানববন্ধন ও মশাল মিছিল করাতে থাকেন। ২৪ ডিসেম্বর মান্নানকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে বিএনপি। তারপরেও ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি তাদের। এবার শুরু হয় কে হবে মান্নানকে ঠেকাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ নিয়ে তারা কয়েক দফা বৈঠক করে সোনারগাঁও এলাকা থেকে রেজাউল করিম ও সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গিয়াসউদ্দীনকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেন।
২০ জানুয়ারী মান্নানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলে সেই মনোনয়ন বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করেন গিয়াসউদ্দীন। সেখানে মান্নানের মনোনয়ন বৈধতা পায়। এরপর উচ্চ আদালত পর্যন্ত গিয়েও মান্নানের মনোনয়ন বাতিল করতে পারেনি ৭জনের সিন্ডিকেট। এর আগ পর্যন্ত ওই ৭জনের কেউই মান্নানের ধানের শীষের পক্ষে ভোটের মাঠে নামেননি।
মান্নানের মনোনয়ন যখন আর ঠেকানোই গেল না তখন ধানের শীষের পক্ষে নামেন আল মুজাহিদ মল্লিক। যদিও তাকে মাঠে নামাতে মান্নান নিজে তার ঢাকার বাসায় গিয়েছিলেন তারও আগে। কিন্তু তিনি শুরুতে নামেননি। তবে শেষতক তিনি ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে বাস্তবিকভাবেই কাজ করে গেছেন। ওদিকে জনবিচ্ছিন্ন নেতা আপেল ও বকুলকে সরাসরি কিংবা নিজ উদ্যোগেও ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে দেখা যায়নি। নেতাকর্মীরা বলছেন, তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত ছিলো এই নির্বাচনে। এমন পরিস্থিতিতে গিয়াস ও রেজাউল করিম স্বতন্ত্র নির্বাচন করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হোন। গিয়াস ও রেজাউল করিমের অনুগামী ৩০ জন নেতাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়, যেখানে জাফরও ছিলেন।
বিএনপি থেকে বহিষ্কারের যখন হিরিক পড়ছিলো তখন নিজেদের বহিষ্কার ঠেকাতে গিয়াস ও মামুন মাহামুদের অনুগামীদের অনেকেই ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে নামার অভিনয় শুরু করে দেন। সিদ্ধিরগঞ্জে যেসব কেন্দ্রে গিয়াস ও মামুন মাহামুদের অনুগামীরা ধানের শীষের পক্ষে আসায় কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীক সেখানে ফেল করেছে। সিদ্ধিরগঞ্জে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীর চেয়ে ৫ হাজার ৬’শ ভোট কম পেয়েছে ধানের শীষ। মুলত সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাটি সোনারগাঁয়ের সঙ্গে যুক্ত করার পর যেসব নেতাকর্মীরা মান্নানের পক্ষে কাজ করেছেন, নির্বাচনেও সেইসব নেতাকর্মীরাই ধানের শীষকে বিজয়ী করতে জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু গিয়াস ও মামুন বলয় থেকে ছিটকে আসা অধিকাংশ নেতাকর্মীরা নামকাওয়াস্তে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করার অভিনয় করেছেন, যার ফলে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এখানে বিজয়ী হয়েছেন।
