কঠোর ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দ্বারস্থ হচ্ছে জেলা আওয়ামীলীগ

সান নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:

নারায়ণগঞ্জ জেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দ্বারস্থ হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান। ডিসি এসপির হাতে সকল ক্ষমতা নাই, সীমাবদ্ধতা আছে। তাই তিন চেয়ারম্যানের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে জেলা আওয়ামীলীগ সরাসরি আলোচনা করবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বিতর্কিত তিন ইউপি চেয়ারম্যানের বিষয়ে বলেছেন, হাইব্রিড নেতা হলে কি হয় দেখছেন নেতা? বারদীর চেয়ারম্যানের কি অবস্থা? অল্প পানির মাছ বেশি পানিতে পড়লে যে অবস্থা হয় সেই অবস্থা হইছে। আরেকজন তো বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটাক্ষ করেছে। আরেক চেয়ারম্যান তো বললো নৌকা না হলে নাকি বেশি ভোট পাইতো। তাহলে নৌকা নিলেন কেন? যাহোক আমরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। মন্ত্রীর যে ক্ষমতা সেক্ষেত্রে ডিসি এসপি মহোদয়ের নাই। আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে যাবে এ বিষয়ে।

এর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তি ও বেফাঁস মন্তব্যের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের তিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রধান করেছে জেলা আওয়ামীলীগ। স্মারকলিপি প্রধানকালে দৃষ্টতা দেখানো তিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারেরও দাবি জানান নেতারা। স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই জানিয়ে ওই তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা আওয়ামীলীগ।

অভিযুক্তরা হলেন- সোনারগাঁও উপজেলার বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন মাহাবুবুর রহমান বাবুল, বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ও সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন।

ঘটনা সূত্রে জানাগেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বারদী ইউনিয়নে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান বাবুল বলেন, ‘আমি বারদীর ম্যাজিস্ট্রেট, প্রধানমন্ত্রী বারদীতে আসলেও আমার হুকুম লাগবে। প্রশাসন আমার কথায় কাজ করবে, কারো ফোনে প্রশাসন আসবে না।’ একইভাবে সম্প্রতি কলাগাছিয়া ইউনিয়নের একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘আমি শেখ মুজিবুর বুঝিনা, আমি শেখ হাসিনা বুঝিনা, আমি আওয়ামীলীগ বুঝিনা, আমি বুঝি ওসমান পরিবার, আমি ওসমান পরিবারের সৈনিক।’ অপর এক অনুষ্ঠানে আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেছেন, ‘আমি নৌকা মার্কায় নির্বাচন করায় ভোট কম পাইছি, নৌকা মার্কায় নির্বাচন করায় ৯০ ভাগ ভোট পাইনি, নৌকা ছাড়া নির্বাচন করলে ৯৫ ভাগ ভোট পাইতাম, আমি ছাড়া অন্য কেউ নৌকা নিয়ে পাশই করতো না।’ উপরোক্ত তিন চেয়ারম্যানের এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ইতিমধ্যে বাবুলকে আওয়ামীলীগ থেকে অব্যাহতি দিলেও বাকিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই। এ সময় তাদের তিনজনের গ্রেপ্তার দাবি করা হয়।

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেছিলেন, লায়ন বাবুল প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বেফাঁস কথা বলেছেন। সে বলেছেন আমি বারদীর ম্যাজিস্ট্রেট, প্রশাসন আমার কথায় আসবে কারো কথায় আসবে না। প্রধানমন্ত্রীও আসলে নাকি তার হুকুম লাগবে। বাবুল আইনের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনও বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেছে। যারা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীকে নিযয়ে কটূক্তি করে আমরা সাচ্চা আওয়ামীলীগাররা মেনে নিবো না। তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

স্বারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু, মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন, আব্দুল কাদির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, মহানগর কৃষকলীগের যুগ্ম আহবায়ক শফিকুল ইসলাম লিটন, আনোয়ার হোসেন, শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমেদ দিপু প্রমুখ।