তৈমুরের জয়-পরাজয়ে তারাও ফ্যাক্টর!

সান নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার হাতি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলেও বিএনপির নির্দেশনার বাইরে গিয়ে অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। যার ফলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহবায়ক পদ, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পদ এবং সর্বশেষ জাতীয় আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদ থেকেও তৈমুরকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

নেতাকর্মীরা বলছেন, এসবের পরও তিনি নির্বাচনী মাঠ ছাড়েননি। তিনি তার অনুগামী অনুগত নেতাকর্মীদের নিয়ে নিয়মিত গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। এইসব নেতাকর্মীদের উপর ভরসা করে, একইসঙ্গে তিনি সাধারণ ভোটারদের উপর নির্ভর করে এই নির্বাচনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে মহানগর কেন্দ্রিক বেশকয়েকজন বিএনপি’র শীর্ষ নেতা রয়েছেন যাদের ভূমিকা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের জয় পরাজয় নিশ্চিত করতে পারেন। যাদের মধ্যে অন্যতম বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও গত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক এর মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

এই তিনজন ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান ও তার বিশাল অনুগামী এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীবের ভূমিকাও তৈমুর আলম খন্দকার জয়-পরাজয়ে অনেকটা ভূমিকা রাখতে পারে।  সান নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে নেতাকর্মীরা এর কারন হিসেবে বলেন, কারণ এইখানে জাকির খানের সহস্রাধিক নেতাকর্মী রয়েছে, যারা মাঠে নামলে তৈমুর অনেক লাভবান হতেন। একইসঙ্গে মাসুকুল ইসলাম রাজীবেরও বিপুল পরিমাণ কর্মী-সমর্থক রয়েছে। যদিও এসব নেতাকর্মীদের এখনো তৈমুর আলম খন্দকারের পাশে দেখা যাচ্ছে না। জাকির খান ও মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে তরুণ সমাজ এবং ছাত্রসমাজের ক্রেস বলা হয়।

স্থানীয়রা জানান, যদিও ২০১১ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তখনকার বিএনপি’র দলীয় সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার জাকির খানের বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং তার লোকজনকে তার পক্ষে মাঠে নামিয়েছিলেন। একইভাবে তৈমুরের ভাই হত্যা মামলার আসামি থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক এমপি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকেও তার পক্ষে মাঠে নামিয়েছিলেন। মাঠে নেমেছিলেন আবুল কালাম সাখাওয়াতসহ অনেক নেতারাই। কিন্তু এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপি তার উপর থেকে সকল পদ কেড়ে নিয়েছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, সিদ্ধিরগঞ্জের বৃহত্তর অংশের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ গিয়াসউদ্দিনের হাতে। একইভাবে সদর-বন্দর আসনেরও বৃহত্তর অংশ নেতাকর্মী রয়েছে আবুল কালামের নিয়ন্ত্রণে। সাখাওয়াত হোসেন মহানগরীতে মোটামুটি একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। জাকির খান ও রাজিবের বেশ নেতাকর্মী রয়েছে। এসব নেতাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা ছাড়া তৈমুর আলম খন্দকারের বিজয় প্রায় অসম্ভব বলা চলে। যদিও উল্টোদিকে এসব নেতারাই চান না তৈমুর আলম খন্দকার এখানে মেয়র নির্বাচিত হয়ে যাক।

এইসব শীর্ষ নেতারা নির্বাচনে নিরব থাকলেই তৈমুর আলম খন্দকারের জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। যেহেতু কেন্দ্র থেকে তৈমুর আলম খন্দকারের উপর খড়গ নেমে এসেছে, সেহেতু এসব নেতারা তৈমুর আলম খন্দকারের পাশে নির্বাচনী মাঠে নামার কোন প্রশ্নই আসে না। তবে ইতিমধ্যে মাসুকুল ইসলাম রাজিবকে মাঠে নামানোর চেষ্টা চলছে। গিয়াস কালাম সাখাওয়াতকে বাদেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছেন তৈমুর আলম খন্দকার। নির্বাচনের প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি। এরই মাঝে ঘটতে পারে নানা ঘটনা। হয়তো সর্বশেষ দেখা যাবে তৈমুর আলম খন্দকারের চার পাশে কেউই নাই, নতুবা এমনও দেখা যেতে পারে তৈমুর আলম খন্দকারের পাশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছেন।