দিপু ভুঁইয়া অনুগামীদের বিদ্রোহ, তৈমূর আলমের নিয়ন্ত্রণে কমিটি!

সান নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:

দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি গঠন নিয়ে নানা ঘটন অঘটন ঘটেছিল। অর্থের বিনিময়ে দিপু ভুঁইয়ার অনুগামী নাহিদ হাসান ভুঁইয়ার হাতে ছাত্রদলের কমিটি তুলে দেয়া হচ্ছে এমন খবরে মানববন্ধন করেছিলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। যে আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আবু মাসুম। যার ফলে মানববন্ধন করায় ছাত্রদলের তিন কর্মীকে ফ্লাইওভারের নিচে বেধে নির্যাতন করা হয়। আবু মাসুমের বাড়িতেও হামলা ভাংচুর করা হয়।

পরবর্তীতে সেই মিশন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের হস্তক্ষেপে থমকে যায়। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের মাধ্যমে হয় গেল কমিটি। পুুরো কমিটির নিয়ন্ত্রণে এখন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৈমূর আলম। যেখানে কমিটির নিয়ন্ত্রন নিতে পারেনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুঁইয়া। কমিটির নিয়ন্ত্রণ না পেয়ে দিপু ভুঁইয়া অনুগামীরা সংবাদ সম্মেলন করে নানা অভিযোগ তুলে কমিটিকে প্রত্যাখান করেছেন।

জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের আওতাধীন তিনটি থানা ও একটি পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির অনুুরোদন করেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি ও সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সজীব। ২৬ মার্চ শুক্রবার এই ৪টি কমিটির অনুমোদন করেন তারা। কমিটিগুলো হলো- সোনারগাঁও থানা, আড়াইহাজার থানা, রূপগঞ্জ থানা ও সোনারগাঁও পৌর কমিটি।

রূপগঞ্জ থানা কমিটিতে আহবায়ক করা হয়েছে সুলতান মাহমুদকে, সদস্য সচিব করা হয়েছে মাসুদুর রহমানকে। এতে যুগ্ম আহবায়করা হলেন- মোঃ নাহিদ হাসান ভূইয়া, মাসুম বিল্লাহ, মেহেদী হাসান মিঠু, আলমগীর হোসেন (নয়ন), হাবিবুর রহমান (হাবিব), মোঃ জাহিদুল ইসলাম, নাছিম হোসাইন প্রিন্স, মারুফ মোল্লা, মোঃ আশরাফুল ইসলাম হৃদয়, মোঃ কামরুল হাসান, শরীফ হোসাইন, নাহিদ বিন আজিজ শরীফ, মোঃ সোহেল মিয়া, মোঃ তাসজীদ সিমান্ত, মোঃ আরিফ বিল্লাহ,, সদস্যরা হলেন- মোঃ ইসহাক, হুমায়ুম কবির টিটু, মোঃ পাভেল মোল্লা, জুবায়ের মোল্লা।

ঘোষিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে আগামী ২ মাসের মধ্যে অধীনস্থ কমিটি গঠন করে জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কমিটি গঠনের পর দীর্ঘ ১৯ বছর পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সদ্য ঘোষণা করা কমিটি নিয়ে নানা বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগ করছেন নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিবাহিত, ছাত্রলীগ কর্মী ও বির্তকিতদের এ কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

২৭ মার্চ শনিবার বিকেলে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে উপজেলা ছাত্রদলের কমিটিতে থাকা ১৩ জন সদস্য সহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করেন।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে রাখেন- ছাত্রদল নেতা নাহিদ হাসান ভুঁইয়া, মাছুম বিল্লাহ, মেহেদী হাসান মিঠু, আলমগীর হোসেন নয়ন, হাবিবুর রহমান হাবিব, জাহিদুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম হৃদয়, কামরুল হাসান, শরীফ হোসাইন, ইসহাক, হুমায়ুন কবির টিটু, পাবেল মোল্লা, জুবায়ের মোল্লা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, সুলতান মাহমুদকে আহবায়ক ও মাসুদুর রহমান মাসুদকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি ও সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজীব। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিবাহিত, ছাত্রলীগ কর্মী ও বির্তকিতদের একমিটিতে স্থান দেয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, কমিটির আহবায়ক সুলতান মাহমুদ একজন বিবাহিত। তিনি দাউদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জামান মিয়ার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসি জেরিনকে ২০১৮ সালে বিয়ে করেন। বিয়ে পড়ান কাজী আবু তাহের। বিয়েতে উকিল বাবা হয়েছিলেন কালিগঞ্জের বাদার্তী গ্রামের আব্দুস সাত্তার। মেয়ের বোনের জামাই সৌদি প্রবাসি ইসমাইল হোসেন বিয়ের প্রধান স্বাক্ষী ছিলেন। শুধু তাই নয়, সুলতান মাহমুদ স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আতাত করে এলাকায় নিরীহ মানুষের জমি জবরদখল করেছে। যা বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া আরো অভিযোগের শেষ নেই।

অভিযোগ, যোগত্যতা সম্পন্ন নেতাকর্মী থাকা সত্তেও উন্মুক্ত এসএসসি ২০২০ সালে পাশ করা একটি সার্টিফিকেট দেখিয়ে সদস্য সচিব হয়ে যায় মাসুদুর রহমান ওরফে ডিস মাসুদ। ডিস মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধীক চুরি, ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে এবং পেশায় একজন ডিস লাইনের বিল কালেক্টর।

এছাড়া আরিফ বিল্লাহ আলিফকে এ কমিটিতে যুগ্ন আহবায়ক করা হয়েছে। অথচ আরিফ বিল্লাহ আলিফ ২০১৮ সালে ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্রলীগের সহ- সম্পাদক ছিলেন।

এ বিষয়ে জেলা নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি বলেন, কমিটি কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে আমি কথা বলতে রাজি নই। তবে কেন্দ্রীয় ভাবে যাচাই বাছাই করে যাকে ভালো মনে করেছে, তাদেরই কমিটিতে রাখা হয়েছে। যেহেতু কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটি হয়েছে, তাই আমি এর সাথে একাত্ততা পোশন করছি।