সোনারগাঁবাসীর সেবায় যেসব জনকল্যাণমুলক পরিকল্পনায় আবু নাঈম ইকবাল

সান নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁবাসীর সেবায় বেশকটি জনকল্যাণমুলক পরিকল্পনা নিয়েই আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন শিক্ষানুরাগী ও ক্রীড়া সংগঠক আবু নাঈম ইকবাল। সমাজ সেবায় যিনি ইতিমধ্যে সোনারগাঁয়ের মানুষের মাঝে জায়গা করে নিয়েছেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে পদার্পন হলেও তিনি বর্তমানে একজন শিক্ষানুরাগী ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেই সোনারগাঁবাসীর মাঝে সবচেয়ে বেশি সমাদৃত। উপজেলায় ক্রীড়া ও শিক্ষার উন্নয়নে ভুমিকা রাখায় ইতিমধ্যে শিক্ষক সমাজ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সমর্থন ঘোষণা করেছে। তার পক্ষে কাজ করছেন উপজেলার জনপ্রতিনিধিরাও। মাঠে নেমেছেন ক্রীড়া প্রেমী ও ক্রীড়া সংগঠকেরাও। এসব উন্নয়নে ভুমিকা রাখায় স্থানীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা সবচেয়ে ঘনিষ্ঠজন আবু নাঈম ইকবাল।

২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সোনারগাঁয়ে তার কার্যালয়ে সাক্ষাত হয় নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘সান নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম’ এর সঙ্গে। জানালেন তিনি কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সোনারগাঁবাসীর সেবায় কি কি স্বপ্ন নিয়ে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন জানালেন সেইসব স্বপ্নের কথাও। ভোটারদের কাছে দাবি করেছেন তার অতীতে উন্নয়ন কর্মকান্ড বিবেচনায় যেনো তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন সোনারগাঁয়ের মানুষ।

ছবি- সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ক্রীড়া সংগঠক ও শিক্ষানুরাগী আবু নাঈম ইকবাল।

তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের আশাবাদ ব্যক্ত করার কারন হিসেবে জানতে চাইলে আবু নাঈম ইকবাল বলেন, সোনারগাঁয়ে যে পরিমান উন্নয়ন সঠিকভাবে হওয়া উচিত ছিল সেটা হয়নি। দীর্ঘদিন যাবত অবহেলিত ছিল। আগে যারা জনপ্রতিনিধি ছিলেন তারা কোন মাস্টার প্লান করে উন্নয়ন করেননি। আমাদের সোনারগাঁও একটি পর্যটন নগরী। সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রত্নত্বত্ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলো। আমি স্বপ্ন দেখি এসব সম্পদগুলো সংরক্ষণ করে কিভাবে সোনারগাঁকে আধুনিক নগরী গড়া যায়। এতে সোনারগাঁ পুরো এলাকাটাই হবে পর্যটন নগরী। তাতে পর্যটকেরা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে পারবেন। এতে সোনারগাঁয়ের মানুষের আয় বাড়বে। ছোট ছোট দোকানদাররাও ভাল আয় করতে পারবে। মোট কথা সকলের ঘরে আয়ের উৎস সৃষ্টি হবে। কারন প্রতিটি এলাকায় দেশী বিদেশী পর্যটকেরা ঘুরতে আসবেন তারা খরচ করবেন। আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা এসব বিষয়ে ইতিবাচক। তিনি আগ্রহের সঙ্গে এসব বিষয়গুলো গ্রহণ করেন এবং এগিয়ে যান। আমি চাই তার সঙ্গে থেকে এমন একটি মাস্টার প্লান করে পুরো সোনারগাঁকে পর্যটন নগরীকে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। এর সুযোগও আছে, কারন আমাদের প্রত্মতত্ত্ব সম্পদ রয়েছে প্রতিটি এলাকায়।

ছবি- গণসংযোগে গেলে আবু নাঈম ইকবালকে এভাবেই মুরুব্বীরা দোয়া করেন।

এই শিক্ষানুরাগী জানান, বিগত ৫ বছরে এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার আমলে সোনারগাঁয়ে অনেকগুলো উল্লেখ্যযোগ্য জনবান্ধব কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সামনের দিকেও আমরা যেসব অবহেলিত জনপথ আছে সেগুলো কাজ করব। এসব কাজে সকল জনপ্রতিনিধিরাও সচেষ্ট আছেন। চেয়ারম্যান মেম্বার সহ সকলেই বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করতে কাজ করছেন। এসব কাজে আমিও ভুমিকা রাখতে চাই। ভাইস চেয়ারম্যান পদে থাকলেও এসব কাজে সরাসরি নিজেকে নিয়োজিত রাখা যাবে এবং শতভাগ কাজগুলো করা যাবে।

নির্বাচনের বিষয়ে তিনি দাবি করেন- আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির সহযোগীতা তার দিকে রয়েছে। তিনি বলেছেন, জাতীয়পার্টি ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আমার জন্য ইতিমধ্যে ভোটের জন্য মাঠে নেমেছেন। আমিও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছি। আমার সঙ্গে নেতাকর্মীরা গিয়ে ভোট চাচ্ছেন। তাই আমি আশাবাদী আমরা সকলে মিলে সোনারগাঁয়ে একটি বিশাল ফলাফল তৈরি করব যার মানুষ দীর্ঘদিন সুবিধা পাবে।

ছবি- ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবু নাঈম ইকবালকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন ঘোষণা করে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের সংগঠন।

তিনি সোনারগাঁয়ের মানুষের প্রতি আহ্বান রেখে বলেন, সোনারগাঁবাসীর প্রতি আমার আবেদন থাকবে এই, আপনারা যাচাই বাছাই করে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিবেন। আমি গরীব দুঃখী মেহনতি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। অসহায় পঙ্গু বৃদ্ধ তাদের আমার সামর্থ অনুযায়ী সহযোগীতা করার চেষ্টা করেছি এবং করি। আমি এতিমখানায় এতিমদের জন্য হেফজখানা তৈরি করে দিয়েছি আমার ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে। আমি বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানউন্নয়নে শিক্ষা সামগ্রী দিয়েছি এবং অবকাঠামোগত কাজেও আমি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগীতা করেছি।

এই ক্রীড়া সংগঠক বলেন, সোনারগাঁয়ে একটি স্টেডিয়ামের জায়গা ছিল যেটা পরিত্যাক্ত ছিল। তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় আকৃষ্ট করে আমার নিজের অর্থ দিয়ে খেলাধুলার উপযোগী মাঠ হিসেবে গড়ে তুলেছি। এতে আমাদের এমপি নিজেও বড় ভুমিকা পালন করেছেন। আমার সবগুলো কাজেই সহযোগীতা করেছেন এবং উৎসাহ দিয়েছেন আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা।

‘তাই জনগণ যাচাই করবেন কাকে দিয়ে মানুষের উন্নয়ন হবে, কাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে এলাকার উন্নয়ন হবে। কোনদিন চাঁদাবাজি লুটপাট আমি করিনি। তাই আমি চাই উপজেলা পরিষদের এই চেয়ারে বসে যেনো কোন চাঁদাবাজ লুটপাটকারী চেয়ারটাকে অপবিত্র না করে সেই দিক বিবেচনা করে আপনারা ভোট দিবেন। এটাই আমার চাওয়া। আপনারা যদি আমার অতীত কর্মকান্ড বিবেচনা করেন তাহলে আমি আশা করব আপনারা আমাকেই ভোট দিয়ে সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেযারম্যান পদে নির্বাচিত করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিবেন।’

এ সংক্রান্ত আরেকটি নিউজ পড়তে নিচে ক্লিক করুন:

নির্বাচিত হওয়ার আগেই যিনি সমাজ সেবায়: শিক্ষা ও ক্রীড়াঙ্গনে তার যেসব ভুমিকা