সোনারগাঁয়ে এমপি খোকার ১৮ঘন্টা, মেয়র প্রার্থী ডালিয়া!

সান নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:

জাতীয়পার্টির কেন্দ্রীয় অতিরিক্ত যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা। একই সঙ্গে তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যও। দায়িত্ব পালন করছেন কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক পার্টির। তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও) আসনে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক দল জাতীয়পার্টির দ্বিতীয় বারের মত সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালে তিনি সোনারগাঁয়ে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় এমপি নির্বাচিত হোন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্ধিতা করে দ্বিতীয় বারের মত এমপি নির্বাচিত হোন।

এদিকে সোনারগাঁও পৌরসভার আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এমপি খোকার সহধর্মিনী ডালিয়া লিয়াকতকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছেন পৌরসভার বর্তমান মেয়র সাদেকুর রহমান ভুঁইয়া ও সাবেক মেয়র সাইদুর রহমান মোল্লা। মুুলত পৌর নাগরিক কমিটির প্রার্থী হিসেবে ডালিয়া লিয়াকতকে নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এই নাগরিক কমিটিতে রয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তারাই মুলত ডালিয়া লিয়াকতকে মেয়র নির্বাচিত করার জন্য নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোনারগাঁয়ে একাধিকবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম। তিনি হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীও। তার আমলে সোনারগাঁয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ‘ওরা ১১জন’। এই ১১ জনের মাধ্যমেই সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রিত হতো। ওই সময় সাধারণ মানুষ রেজাউল করিমের সঙ্গে সাক্ষাত তো দূরের কথা তার দেখা পাওয়াও ছিল দূরহ ব্যাপার। সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ ছিল ১১ জনের কাছে। এমপি রেজাউল করিম তো দুরের কথা ওই সময় এই ১১ জনের দ্বারে কাছেও ভীড়তে পারেনি সাধারণ মানুষ। তার মুক্তিযোদ্ধা, অধ্যাপক নিয়ে নানান বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ১/১১ এর সময় তার ১২’শ বিঘা জমি সহ বিপুল সম্পদের খবর মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছিল।

রেজাউল করিমের এসব কারনে জনগণ পরবর্তী ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়ে বৃহত্তর সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁও আসনে আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতকে এমপি নির্বাচিত করেছিলেন। নির্বাচনের পর বৃহত্তর দুটি থানা এলাকার নিয়ন্ত্রণে কায়সার হাসনাতের তৈরি হয় ‘সেভেন স্টার’। ওই সময় সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা এমপি কায়সার হাসনাতের সাক্ষাত পায়নি দলের ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরাও। সেভেন স্টারের সাতজনই দুটি এলাকার নিয়ন্ত্রক ছিলেন। তার আমলে এমপি কায়সার হাসনাতের ছায়াও পায়নি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। তার আমলে নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডও ছিল বেশ চোখে পড়ার মতই। তিনি ভুলেই গিয়েছিলেন তিনি জনগণের সেবক। নেতাকর্মীদের ফোনটিও রিসিভ করেননি। কিন্তু বর্তমান এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার এই আমলে এখনও পর্যন্ত নেই ‘ওরা ১১জন’ কিংবা নেই ‘সেভেন স্টার’ এর মত কোন নিয়ন্ত্রণকারী গ্রুপ। এমপি খোকার রয়েছে আমজনতা। সরাসরি তিনি জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন এবং সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করেন।

এদিকে স্থানীয়রাও আর জানিয়েছেন, এখানে কেউ এমপি হলে অঢেল সম্পদের খবর বের হয় অথচ দ্বিতীয় নির্বাচনে নিজের মার্কেটের দোকান বিক্রি করে নির্বাচনী খরচ যোগান দিয়েছিলেন এমপি খোকা। যা সোনারগাঁয়ের মানুষজনও জানেন। অথচ তিনি এর আগে ৫টি বছর এমপি হিসেবে ছিলেন এই আসনেই। একজন এমপির আর্থিক এমন দৈনদশা থাকলেও সোনারগাঁয়ের আমজনতার মাঝে তিনি একজন বিরাট মনের মানুষ, একজন সাধারণ মানুষ। সেই দিক দিয়ে জনতার মাঝে তিনি স্বচ্ছলতা অর্জন করেছেন।

সোনারগাঁও পৌরবাসীর দাবি- লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি হওয়ার পর সোনারগাঁয়ের মানুষ অন্তত অশান্তিতে ছিলেন না। কোন মাধ্যম ছাড়াই যে কোন আমজনতা এমপি খোকার সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারেন। জনগণ তার কাছে যাওয়ার আগে তিনিই জনগণের কাছে দৌড়াচ্ছেন। হাট ঘাট বাজার রাস্তা গ্রামগঞ্জে তিনি ঘুরছেন। কখনও চায়ের দোকানে বসে আমজনতার সঙ্গে চা পান করছেন। আড্ডা দিচ্ছেন সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে। কেউই তার কাছে ছোট কিংবা বড় নয়। সকলকে দেখছেন তিনি সমানচোখে। দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টা তিনি সোনারগাঁয়ের মানুষের পাশে কাটাচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। কেউ সমস্যা নিয়ে আসছেন আর তার সমাধান করছেন। মুলত এসব বিষয়গুলো এমপি খোকার জনপ্রিয়তা সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়িয়েছে। রাজনৈতিকভাবে রাজনৈতিক বিরোধীতার জন্য অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তার বিরোধীতা করলেও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি একজন আমজনতার এমপি হিসেবে সোনারগাঁয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছেন।

গত মার্চ মাস থেকে বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে ত্রাণকর্তা হিসেবে আভির্ভূত হয়েছিলেন এমপি খোকা। সকাল দুপুর বিকেল সন্ধ্যায় রাতে মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌছে দিয়েছেন এমপি খোকা নিজ হাতে। যে সব পরিবারগুলো কারো কাছে হাত পাততে পারেনি তাদের ঘরে রাতের আধারে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিয়েছেন এমপি খোকা, কখনও নিজ হাতে কখনওবা তার লোকজনের মাধ্যমে। সার্বক্ষনিক খাদ্য সামগ্রী বিতরণের জন্য তিনি হটলাইন সেন্টার খুলেছিলেন। যেখানে ফোন করলেই খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিয়ে আসতো। রোগীর চিকিৎসার সুবিধার্থে তিনি সার্বক্ষনিক এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছিলেন। করোনাকালে তার এমন ভুমিকার ব্যাপক প্রসংশা করছেন পৌরবাসী।

আবার এসব কারনেই মুলত বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও ঝুঁকছেন তার নেতৃত্বের দিকে। এমপি খোকার এমন সব বিষয়গুলো সামনের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ডালিয়া লিয়াকতের জন্য বেশ ভাল ভুমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন পৌরবাসী। এখানে এমপি হিসেবে লিয়াকত হোসেন খোকা আসার পর উন্নয়ন যেটুকুই হোক না কেন সোনারগাঁয়ে রাজনৈতিক কোন সংঘাত হয়নি, বিশৃঙ্খলা হয়নি। সাধারণ মানুষ অশান্তিতে ছিলেন না। এসব বিষয়গুলোও ভোটের মাঠে ডালিয়া লিয়াকতের পক্ষে কাজ করবে। এমপি খোকার প্রতি এসব কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট হয়েই ডালিয়া লিয়াকতের পক্ষে কাজ করছেন বলে তাদের দাবি।