সিদ্ধিরগঞ্জের ৮নং ওয়ার্ডে জামাতের একক প্রার্থী: বিএনপিতে প্রস্তুত ডজন!

সান নারায়ণগঞ্জ

খুব সম্ভবত আগামী বছরের মাঝামাঝির দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী সিটি কর্পোরেশনের বেশকটি ওয়ার্ডে তাদের কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করেছেন। নাসিকের সিদ্ধিরগঞ্জের ৮নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর দেওয়ানকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত। তবে জামায়াতের এই এক প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপিতে প্রস্তুতি প্রায় এক ডজন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী। তবে কেউ কেউ বলছেন বিএনপিতে এই সংখ্যা আরো ছাড়িয়ে যেতে পারে। স্থানীয়রা বলছেন- বিএনপির একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে না পারলে জামায়াতের প্রার্থী বাজিমাত করতে পারেন।

স্থানীয়রা জানান, বিএনপির সমর্থন নিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মমতাজ উদ্দীন মন্তু, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর প্রধান, মহানগর যুবদলের সদস্য আবুল বাশার বাদশা খান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, জেলা তরুণ দলের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। এদের ছাড়াও এলাকাবাসীর মাঝে নির্বাচনী আলোচনায় আছেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ডিএইচ বাবুল, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাধীন, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ অপু, জাসাসের বহিষ্কৃত নেতা আকাশ প্রধান সহ আরো বেশকজন। যদিও এসব নেতাদের অনেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসলেও অনেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ঘোষণা না দিলেও এলাকাবাসীর মাঝে আলোচনায় আছেন মাত্র।

স্থানীয়দের মাঝে বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশিদের মধ্যে জনপ্রিয়তার বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন আবুল বাশার বাদশা খান। তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। গরীব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। যদিও এখানে সাগর প্রধান ও খোকনের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থাকলেও তারা তাদের আগের সেই অবস্থান নেই। মন্তু ব্যানার ফ্যাস্টুন পোস্টারে সারা জাগালেও জনগণের মন জয় করতে পারেননি। বিশেষ করে কুরবানীর পশুর হাটের অর্থ লোপাট, নয়ছয় করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে থাকায় নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্দ তার প্রতি। মাজহারুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচারণা চালাচ্ছেন জোরেসোরে। নরুল ইসলামও আছেন ফ্যাস্টুন ব্যানারের প্রচারণায়।

তবে স্থানীয়রা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, এখানে জামাতের প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপির একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে না পারলে বিএনপির প্রার্থীদের জয় ছিনিয়ে আনা কঠিন হবে। বিগত নির্বাচনগুলোতে বিএনপির একাধিক প্রার্থীতা থাকায় আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থীরা। বিএনপিতে রেষারেষির কারনে আওয়ামীলীগ যেমন সুবিধা নিয়েছিলো বিএনপির ঘাটি ওয়ার্ড থেকে, ঠিক তেমনি জামাতের একক প্রার্থী এখানে বাজিমাত করতে পারেন, যদি বিএনপির একক প্রার্থী না রাখা হয়। অনেকেই জানিয়েছেন, আবুল বাশার বাদশা খানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন ওয়ার্ডবাসী।