নেতারা মূল্যায়িত; ত্যাগী কর্মীরা অভুক্ত!
সান নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৪টি আসনে রয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য। গত ১২ই ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এসব নেতারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। রাজপথের নেতাদের মনোনিত করায় বিএনপির নেতাকর্মীরাও বেশ আশা দেখেছিলেন। কিন্তু বিএনপির এমপিরা নির্বাচিত হওয়ার পরেও কর্মীদের ভাগ্যের চাকা ঘুরেনি। একইভাবে জেলা পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনেও বিএনপির নেতাদের বসানো হয়েছে প্রশাসক হিসেবে। পেট্রো বাংলার চেয়ারম্যান হয়েছেন সোনারগাঁয়ের এক নেতা। নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদেও আছেন বিএনপি নেতা। নারায়ণগঞ্জের বিএনপির এসব শীর্ষ নেতাদের মূল্যায়নে তাদের নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘুরলেও কর্মীরা রয়েছেন অভুক্ত।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসনে মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ-২(আড়াইহাজার) আসনে নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৫(সদর-বন্দর) আসনে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহামুদকে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগ দিয়েছে বিএনপির সরকার। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও যুবদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এসএম ওয়ালিউর রহমান আপেলকে পেট্রো বাংলার চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
এদের মধ্যে আওয়ামীলীগ সরকার আমলে বিএনপির পক্ষে কঠোর ভুমিকা ও রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম ত্যাগের বিনিময়ে মনোনয়ন পেয়েছেন দিপু ভূঁইয়া, আজাদ ও মান্নান। একই ভুমিকায় প্রশাসক পদে নিয়োগ পেয়েছেন সাখাওয়াত ও মামুন মাহামুদ এবং মাসুকুল ইসলাম রাজীবের ভুমিকায় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। কিন্তু আবুল কালাম ও আপেলের অতীতে রাজপথে জোরালো তেমন কোনো ভুমিকা নেই। কালামের কিছুটা ত্যাগ ও ভুমিকা থাকলেও আপেল উড়ে এসে মূল্যায়িত হয়েছেন।
সর্বপরি বলা যায় ত্যাগী নেতাদের মুল্যায়ন করেছে বিএনপি। কিন্তু এসব ত্যাগী নেতারা তাদের চারপাশের কর্মীদের জন্য যেনো কাঠের চশমা লাগিয়েছেন তাদের চোখে। রাজপথের নেতাকর্মীরা কষ্টে দিনাতিপাত করলেও তাদের দিকে যেনো তাকানোর কেউ নেই। আওয়ামীলীগ সরকার আমলে ত্যাগী নেতাকর্মীরা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম জেল জুলুম খাটতেও গিয়ে নিজেদের ব্যবসা বানিজ্য জমিজমা সব গুটিয়ে ফেলে নি:ষ হওয়ার দশা। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকলেও রাজপথের ত্যাগী কর্মীদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। নেতারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নিজেদের অতীতের খরচ তোলার কাজে। নব্য ও হাইব্রিডদের ভীড়ে ত্যাগী নেতাকর্মীরা ছিটকে পড়ছেন। শীর্ষ নেতারা দলের কাছে মুল্যায়িত হয়ে চেয়ারে বসলেও ত্যাগী কর্মীদের দিকে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। চেয়ারে বসে নিজেদের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত নেতারা। চেয়ারে বসা নেতাদের কাছে টাকাওয়ালা নব্য ও হাইব্রিড কর্মীদের কদর বেশি। অথচ ত্যাগী রাজপথের নেতাকর্মীদের যেনো দেখেও না দেখার ভান ধরেন, কখনো কখনো না চেনার অভিনয় করছেন। এসব কারনে ত্যাগী কর্মীরা চরম হতাশায় ভুগছেন।
