ফতুল্লা থানায় আওয়ামীলীগের দেড় শতাধিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৯

সান নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালনা এবং সরকারবিরোধী মিছিল-স্লোগানের প্রস্তুতির অভিযোগে ৬৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এ মামলায় অজ্ঞাত আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

৩০ আগস্ট রবিবার ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন হাজীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. দেলোয়ার হোসেন।

এই মামলায় বিসিক শাসনগাঁও এলাকার রাব্বি, ইয়াছিন আরাফাত ও শিমুল, গলাচিপার পলক, পাইকপাড়ার আবরার আহম্মেদ, বিসিকের ফেরদাউছ, শাসনগাঁওয়ের তানভির হোসেন, নয়ন ও আবু বক্করকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত শনিবার রাত ১১টার দিকে ফতুল্লার শান্তিধারা ২ নম্বর রোডের একটি মসজিদের পাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যরা সরকারবিরোধী মিছিল ও স্লোগানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে সংবাদ পায় পুলিশ। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সহায়তায় নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজনের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য ও সমর্থক বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। সংগঠনের কার্যক্রম চালু রাখা, সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে তারা সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া এজাহারে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমানের প্ররোচনায় আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা ও সহযোগিতা করার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আসামীদের মধ্যে রয়েছেন- স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত কুতুবপুরের পাগলা এলাকার মীর হোসেন মিরু, পাগলা কামালপুরের মনা দাস, শিয়াচর তক্কারমাঠের শামীম, পিলকুনির ইমরান হোসেন শুভ ওরফে চান শুভ, ফতুল্লা সরকারবাড়ির অন্তর ও হৃদয়, পোস্ট অফিস রোডের মুশফিকুর রহমান তুষার ও মেহেদি হাসান তন্ময় , আলীগঞ্জের শাহাদাত হোসেন সেন্টু ও সাত্তার, পিলকুনির সিনহা , রঘুনাথপুরের মোবারক হোসেন মুন্সি, সাইনবোর্ডের শান্তিধারার শেখ জামাল ও রবিন মাহমুদ, ফতুল্লার হক রোলিং মিল এলাকার রুমিন আজমিন, দাপা ইদ্রাকপুরের খোকা, কাশীপুরের ইরফান হোসেন লিমন ও ফয়সাল দর্পন, আলীগঞ্জের আবুল, দক্ষিণ নয়ামাটির মো. পারভেজ, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, পাগলা রেললাইনের মো. সেলিম, দক্ষিণ নয়ামাটির মোহাম্মদ সোহেল ও মোহাম্মদ সৌরভ, শান্তিধারার মতিউর রহমান ও মো. আশরাফুল ইসলাম, রঘুনাথপুরের মারুফ, ভূঁইগড় পূর্বপাড়ার ইব্রাহিম মামুন, রঘুনাথপুরের ইমরান, মাহমুদপুরের মোবারক, মো. মান্নান, মো. আতিক ও সুমন, শান্তিধারার আলতাফ হোসেন বাবু ওরফে লুঙ্গী বাবু, শাহিন ও শান্ত, পশ্চিম দেলপাড়ার আব্দুল মালেক, শাওন, লিয়াকত ও রাব্বি , চাষাঢ়া মহিলা কলেজ রোডের সূর্যেন্দু মিত্র, মাহমুদপুরের শামীম, ফতুল্লার শিবু , ভূঁইগড়ের মো. রনি, হুমায়ন কবির রয়েল, জাহিদ ও অপু, চাঁদনী হাউজিংয়ের মো. সেলিম, ইয়াসিন ও মোহাম্মদ ইসমাইল, গুলশান রোডের মো. আরিফ, ভূঁইগড় পূর্বপাড়ার মো. মনির হোসেন ও মো. রিপন ও সাইনবোর্ডের শান্তিধারার মিল্টন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, “এই মামলায় কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।”