আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের কোলে নিয়ে নাচার ঘোষণা দিলেন বিএনপি নেতা!
ডেস্ক রিপোর্ট, সান নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ৩২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার হুমকি এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করতে শোনা যায়। যদিও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে ভিডিওটির সত্যতা ও বক্তব্যের প্রেক্ষাপট অস্বীকার করেছেন তিনি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, জাহাঙ্গীর আলম কয়েকজন অনুসারীর সঙ্গে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলছেন। ফোনের অপরপ্রান্তের এক ব্যক্তিকে তিনি বলছিলেন যে, ‘বিএনপি ওলারা আমারে ক্ষতি করতাছে। নির্বাচনের পর অগরে (ওদের) মামলা দিয়া দৌড়ামু। আর আওয়ামী লীগ অলাগো (আওয়ামী লীগ ওয়ালাদের) কোলে লইয়া নাচমু, চিন্তা কইরেন না।’
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন বক্তব্য দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থি উল্লেখ করে তারা ঘটনাটি তদন্তের মাধ্যমে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এ ধরনের মন্তব্য করার কথা অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে আগের বা পরের কোনো বক্তব্য নেই। শুধু দুটি বক্তব্য কেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার ভাগিনা নোবেল মীরের সঙ্গে লেনদেনসংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। সে-ই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটি ভাইরাল করেছে।’
তবে অন্যদিকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের জানান, শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন উপজেলা বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক আপন ভাগিনা নোবেল মীর। সম্প্রতি মামা ও ভাগিনা একে অপরের বিরুদ্ধে স্থানীয় গণমাধ্যমে নানা অভিযোগ তুলে আসছেন।
নোবেল মীর দাবি করেছেন, তিনি আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা করায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন তার আপন মামা জাহাঙ্গীর আলম। তবে জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেছেন, নোবেল মীর তার আপন ভাগিনা, তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। সে এখানে বসবাস করে। নোবেল মীরের কাছে ২০ লাখ টাকা পাওনা ফেরত চাওয়ায় সেই টাকা আত্মসাতের লক্ষ্যে নোবেল মীর এসব ষড়যন্ত্র করছেন। তবে সম্প্রতি একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনও করে নানা অভিযোগ তুলেছেন।
