যেসব কারনে ভূমিদস্যু শিল্পগোষ্ঠী ও কর্পোরেট মাফিয়াদের টার্গেটে এমপি মান্নান!

সান নারায়ণগঞ্জ

দেশের বৃহত্তর কিছু শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে ভূমিদস্যু ও কর্পোরেট মাফিয়াদের টার্গেটে পরিনত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ও সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। বিশেষ করে সোনারগাঁয়ের কৃষি জমি ও মেঘনা নদী দখলে নিতে এমপি মান্নানকে বড় বাধা হিসেবে দেখছে শিল্পগোষ্ঠী ভূমিদস্যু মাফিয়ারা। যে কারনে এমপি মান্নানকে দূর্বল করে নিজেদের কব্জায় নিতে তার ছেলে জেলা যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম সজীবকে মুল টার্গেটে নিয়েছে বেশকিছু কর্পোরেট মাফিয়া।

একই সঙ্গে এমপি মান্নানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ কর্মীদের বিতর্কিত করার মিশনেও নেমেছে বেশকিছু কর্পোরেট মাফিয়া। মাফিয়াদের অর্থে পরিচালিত কিছু কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে এমপি ও পুত্র সজীবকে ঘায়েল করার আপ্রাণ চেষ্টায় নেমেছেন। এসবের পেছনে ইন্ধনদাতা হিসেবে কাজ করছে নিজ দলের হিংসুটে কিছু নেতা, যারা মান্নানের এমপি হওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে।

সোনারগাঁয়ের স্থানীয়দের মধ্যে একাধিক সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের ১৭টি বছর সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী এলাকাসহ সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকার কৃষি জমি ভূমিদস্যুতার মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সরকারের দাপুটে দখল করে নেয় কিছু শিল্পগোষ্ঠী মাফিয়া, যারা বর্তমানেও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের আর্থিকভাবে সহযোগীতা করে আসছেন। প্রতি মাসে পর্দার আড়ালে থেকে আওয়ামীলীগকে প্রতিষ্ঠিত করতে সোনারগাঁয়ের বেশকিছু নেতার মাধ্যমে আন্দোলন সংগ্রাম করার জন্য অর্থনৈতিকভাবে সহযোগীতা করে আসছে এসব মাফিয়া শিল্পগোষ্ঠী।

শেখ হাসিনার আমলে এসব শিল্পগোষ্ঠীর হাত ধরে সোনারগাঁয়ের আওয়ামীলীগের বেশকজন নেতা শত শত কোটি টাকার মালিক বনে যান, যারা মুলত এসব ভুমিদস্যুতায় মাফিয়া শিল্পগোষ্ঠীগুলোকে সহযোগীতা করতেন। বর্তমানেও সেইসব আওয়ামীলীগ নেতাদের মাধ্যমে গোপনে এসব শিল্পগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে আওয়ামীলীগকে পৃষ্টপোষকতা দিয়ে আসছেন।

আওয়ামীলীগের প্রেসক্রিপশনেই বর্তমান এমপি মান্নানকে দমাতে ওঠে পড়ে লেগেছে মাফিয়া শিল্পগোষ্ঠী ও কর্পোরেট মাফিয়ারা। কারন আওয়ামীলীগ নেতাদের ম্যানেজ করে যেভাবে কৃষি জমি ও মেঘনী নদী দখল করেছিলো সেভাবে এমপি মান্নানকে ম্যানেজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। যে কারনে এমপি মান্নানকে নিজেদের কব্জায় নিতে কর্পোরেট মাফিয়াদের টাকায় পরিচালিত মিডিয়া ব্যবহার করে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে এমপি মান্নান ও তার পুত্রসহ বিশ্বস্ত নেতাকর্মীদের ঘায়েল করার টার্গেট নিয়েছেন।

এর আগে দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে ভূমিদস্যু মাফিয়ারা। এমপি মান্নান পুত্র খাইরুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে কিছু বায়ুবীয় অলিখিত অভিযোগ আছে- এমন ধুয়া তুলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিব্রত করে মাফিয়া শিল্পগোষ্ঠী। সেই মাফিয়াদের প্রেসক্রিপশনে গত ২১ জুন সজীবকে ওইসব বায়ূবীয় অভিযোগের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশ কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ এবং একাধিক সোর্সে তদন্ত অনুসন্ধান করেও সজীবের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো সত্যতা না পেয়ে স্বসম্মানে সজীবকে পরিবারের সদস্যদের হাতে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এরপর থেকে এই বিষয়টিকে টেনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে কর্পোরেট মাফিয়াদের মিডিয়াসহ দলের ভেতর ও বাহিরের ষড়যন্ত্রকারীরা।

নেতাকর্মীরা জানান, এমপি মান্নানের রাজনীতিতে অন্যতম শক্তি তার পুত্র রাজপথের যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম সজীব। বিগত শেখ হাসিনার সরকার আমলে পিতা পুত্রের নেতৃত্বে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। পিতা-পুত্র একসাথে কারাভোগও করেছেন। এদের সঙ্গে গুরুত্ব দায়িত্ব পালন করেছেন সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও এমপি মান্নানের রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী সেলিম হোসেন দিপু। এরপর আছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য বিএম ডালিম, মাসুম রানা সহ আরো বেশকজন, যারা সোনারগাঁয়ের উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ডে এমপি মান্নানকে সহযোগীতা করে আসছেন। এসব কারনে এমপি মান্নানকে কব্জা করতে হলে এসব শক্তিগুলোকে দূর্বল করার মিশনে নেমেছে কর্পোরেট মাফিয়ারা। কিছু অসাধু মিডিয়া ব্যবহার করে এদেরকে বিতর্কিত করে এমপি মান্নানের শক্তি হ্রাস করতে চাচ্ছেন। এসব অনৈতিক কাজে অসাধু মিডিয়াকে সহযোগীতা করছেন বিএনপির কিছু হিংসুটে নেতা, যারা চাননি আজহারুল ইসলাম মান্নান এমপি নির্বাচিত হোক।

গেল জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এমপি মান্নানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিস্তর ঘটনা তুলে ধরে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, গেল বছরের ৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মান্নানকে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা প্রপাগাণ্ডা অপপ্রচার ও নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জে সমানতালে প্রচারণা চালিয়ে যান মান্নান।

এর আগে মনোনিত হওয়ার পরপরই মান্নান ছুটে যান জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীনের বাসায় ও তার স্কুলে। সেখানে মান্নানের সঙ্গে দেখা দেননি গিয়াস। এর দুইদিন পর আবারো গিয়াসের বাড়িতে গিয়ে গিয়াসের সঙ্গে সাক্ষাত করে তার সহযোগীতা চান মান্নান। ওই সময় একে অপরকে খেজুর খাইয়ে দিয়ে মিষ্টিমুখ করান তারা। এ ছাড়াও মান্নান অপর মনোনয়ন প্রত্যাশি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহামুদের সাথে সাক্ষাত করেন এবং সহযোগীতা চান। ছুটে যান রাজধানীতে। সেখানে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমের বাসভবনে গিয়ে দোয়া ও সহযোগীতা প্রার্থনা করেন মান্নান।

কিন্তু এত্তকিছুর পরেও মান্নান মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের মন নরম করতে পারেননি। উল্টো মনোনয়ন প্রত্যাশিরা ৭ জন নেতা একজোট হয়ে মান্নানের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে দলটির মহাসচিবের মাধ্যমে তারেক রহমানের কাছে আবেদন করেছেন। এরি সাথে ৭ জনের গোপন বৈঠকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ছবি তারা নিজেরাই ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এর আগের দিন ১৮ নভেম্বর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ৭ জন নেতার অনুগামীরা মানববন্ধন করেন।

অন্যদিকে নেতাকর্মীরা মান্নান সম্পর্কে বলছেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছর নেতাকর্মীদের নিয়ে গণতন্ত্র মুক্তির দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেছেন মান্নান। সেই ১/১১ এর ফখরুদ্দিন মঈনউদ্দীনের আমলেও বিএনপির ঝাণ্ডা ধরেছিলেন তিনি। জেল জুলুম হামলা মামলা নির্যাতনের পরেও রাজপথের আন্দোলনে বহাল ছিলেন বিএনপির এই ত্যাগী নেতা। ২০১৪ সালে সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও চেয়ারে বসতে পারেননি এক বছরও। পুলিশের সাজানো মামলার আসামী চার্জসিটে অভিযুক্ত হয়ে বরখাস্ত থেকেছেন প্রায় ৪ বছরেরও বেশি সময়। তবুও সরকারি দল আওয়ামীলীগ কিংবা জাতীয় পার্টির এমপির সঙ্গে আতাত করে চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে থাকার চেষ্টাও করেননি।

নেতাকর্মীরা আরও বলছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার আরো দুটি উপজেলা পরিষদের বিএনপির দুই চেয়ারম্যান সরকারি দলের সঙ্গে মিশে চেয়ারম্যানশীপ উপভোগ করলেও মান্নানের কাছে চেয়ারম্যানির চেয়ারের চেয়েও বড় ছিল দল ও দেশ। গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে সেই চেয়ারকে তুচ্ছ ভেবে দলের নেতাকর্মীদের আগলে রেখে রাজপথে থেকেছেন তিনি। রাজপথে সক্রিয় থাকায় নিজে ও নিজের সন্তানদেরও জেল খাটতে হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে মান্নানের স্কুল পড়ুয়া ছোট ছেলেকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। অথচ সাকিব রাজনীতিতে ছিলো না। আওয়ামীলীগ সরকারের কঠোর অবস্থানে বিএনপির বিগত সময়ের তথাকথিত শীর্ষ নেতা পরিচয়দারী বর্তমানে মনোনয়ন বঞ্চিত দাবিদার ব্যক্তিরা নিজেদের গুটিয়ে নিলেও মান্নান ছিলেন অগ্রভাগে রাজপথে।

দলের কঠিন পরিস্থিতিতে সোনারগাঁয়ে বিএনপির হাল ধরার মত নেতা কেউ ছিল না, একমাত্র মান্নান ছাড়া। নেতাকর্মীরা হামলা মামলা জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হলেও তাদের কোনো খোঁজ খবরও রাখেননি কেউ। নেতাকর্মীদের জামিনের ব্যবস্থা করা, জেলখানায় খবর নেয়া, জেলখানার খরচ ব্যয় বহন, এমনকি জেলবন্ধি বা আহত নিহত নেতাকর্মীদের পরিবারের খোঁজখবরও রেখেছেন মান্নান। এভাবে সোনারগাঁয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠেন মান্নান। শুধু নেতাকর্মীদের পাশেই থেকেছেন তা নয়, নগরীর ডিআইটি বানিজ্যিক এলাকায় জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়টি সিটি করপোরেশন থেকে নেয়ার পেছনে মান্নানের বিপুল পরিমান অর্থের অনুদান রয়েছে। যে ভবনটি ভেঙ্গে সেখানে নতুন ভবন করেছে সিটি করপোরেশন।

এসবের মাঝে মান্নান ও তার সন্তানদের জেল খাটতে হয়েছে গ্রেপ্তার হয়ে। আন্দোলন সফল করতে বছরের পর বছর ছিলেন আত্মগোপনে। তার স্কুল পড়ুয়া ছোট সন্তান সাকিবকেও গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এ ছাড়াও মান্নান ও তার আরেক পুত্র জেলা ছাত্রদলের সাবেক সেক্রেটারি খায়রুল ইসলাম সজীবও জেল খেটেছেন। পৃথকভাবে ছাড়াও পিতা-পুত্র একসাথে জেল খেটেছেন। মান্নান ও সজীব পিতা পুত্র মিলে ৬০টির বেশি রাজনৈতিক মামলায় আসামী হয়েছেন। এক হ্যান্ডকাপে পিতা পুত্রকে কোর্ট থেকে কারাগারে আসা যাওয়া করিয়েছিল পুলিশ।

২০২৩ সালের মে মাসের ১৫ তারিখেও মান্নান কারাগারে যান। তিনি সহ ১৬ নেতাকর্মীকে হাতে হাতকড়া পড়িয়ে কারাগারে নেয়ার সময় সেদিন তার অশ্রুসিক্ত চোখে যেনো বুকফাটা আর্তনাদ ভেসে ওঠেছিল। পরে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবরেও জেলে গিয়ে জেল খেটেছেন দীর্ঘদিন। এ ছাড়াও আরো বেশকবার গ্রেপ্তার হোন এবং কারাগারে যান। ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ নগরীর ২নং রেলগেটের সামনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে গেলে পুলিশের বেদম লাঠিপেটার শিকার হোন মান্নান।

মোট কথা হাসিনার আমলে সাড়ে ১৫ বছরে মান্নান কয়েক দফায় প্রায় বছর খানিকেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা হাসিনার আমলের সাড়ে ১৫ বছর শরীরে হাওয়া লাগিয়ে বেরিয়েছেন। তাদের জেল খাটতেও হয়নি। কালেভদ্রে দু’একটি মামলা থানায় হলেও পুলিশ তাদেরকে কোনো দিন গ্রেপ্তার করেনি। ম্যানেজে মামলার চার্জসিট থেকেই বাদ পড়েছেন তারা। আরামে আয়েশে তারা যখন বাড়িতে ঘুরে বেরিয়েছেন তখন মান্নান ও তার পুত্রসহ নেতাকর্মীরা আন্দোলন কর্মসূচি সফল করতে গ্রেপ্তার এড়াতে রাতবিরাতে বনবাদারে ঘুমিয়েছেন। এখন মান্নানের বিরুদ্ধে কর্পোরেট মাফিয়াদের সঙ্গে নিজেরাও মোটা অংকের অর্থ বিনিয়োগ করে অপ্রপচারে লিপ্ত হয়েছে ওই চক্রটি। এই মান্নান হাসিনা সরকারের সাড়ে ১৫ বছর নেতাকর্মীদের আগলে রেখে অভিভাবকের ভুমিকা পালন করেছেন।