সোনারগাঁয়ে জাতীয়পার্টির বহিষ্কৃত নেতাকে বিএনপির কারন দর্শানো নোটিশ!
সান নারায়ণগঞ্জ
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তি করেছেন সোনারগাঁও উপজেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি পদ থেকে বহিষ্কৃত রফিকুল ইসলাম বিডিআর। যদিও বর্তমানে তিনি বিএনপির মঞ্চে ওঠে রাজনীতি করছেন। নিজেকে সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি পরিচয় দিচ্ছেন। সেই তথাকথিত সুবিধাবাদী সুযোগসন্ধানী বিএনপির নেতা বিডিআর রফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অল্প বয়স, এখনো তার বুদ্ধি পাঁকা হয় নাই।” এই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর কঠোর সমালোচনার মুখে রফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি।
৩১ মে রবিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিটি সোমবার (১ জুন) গণমাধ্যমে প্রদান করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে প্রকাশ্যে অসংলগ্ন বক্তব্য প্রদান করায় রফিকুল ইসলাম বিডিআরের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। তার এ ধরনের মন্তব্য দলীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক নীতিমালার পরিপন্থী বলে মনে করছে জেলা বিএনপি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে প্রকাশ্যে অসংলগ্ন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তার আচরণ দলীয় শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন। কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মে পিরোজপুর ইউনিয়নে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রফিকুল ইসলাম বিডিআর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা আরো জানান, জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকাকালীন সময়ে বিএনপি ও তারেক রহমানকে নিয়ে নানা সমালোচনামুলক বক্তব্যের ধারা অব্যাহত রেখেছেন বিএনপিতে এসেও। এবার তিনি বিএনপির মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সামনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তি করলেন।
এ নিয়ে সোনারগাঁওয়ের বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোনো সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে নাজেহাল হতে পারেন জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত এই নেতা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে রফিকুল ইসলাম বিডিআরের এমন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত নেতা বিডিআর রফিককে বিএনপির রাজনীতিতে নেতাকর্মীরা দেখতে চান না। তারা দ্রুত তার বহিষ্কার দাবি তুলেছেন। স্বার্থপর সুবিধাবাদী সুযোগসন্ধানী নেতা হিসেবে দল পল্টিবাজ বিডিআর রফিকের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে জানাগেছে, ২০০৯ সালে বিএনপি ক্ষমতা হারানোর পর বিডিআর রফিক মনে করেছিলো ২০১৪ সালে পূর্বের ধারাবাহিকতায় পূনরায় বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু আবারো আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির জোট ক্ষমতায় আসায় সেই সময় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার হাত ধরে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন এবং সোনারগাঁও উপজেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহসভাপতির পদ ভাগিয়ে নেন।
কিন্তু ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল তৎকালীন জাতীয় পার্টির সোনারগাঁও উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম বিডিআর ও পিরোজপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহীদ সরকারকে বহিষ্কার করে দেয় জেলা জাতীয় পার্টি।
এর আগে ২০১৪ সালে এখানে এমপি খোকা নির্বাচিত হওয়ার বছর খানিক পর আতাউর রহমান, রফিকুল ইসলাম ও শহীদ সরকার এমপি খোকার হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন।
