হত্যার পরিকল্পনা নিয়েই আমার উপর সেদিন হামলা হয়: এটিএম কামাল
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
ইলিয়াস আলীকে গুম ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সারাদেশে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ২০১২ সালের ১৭ মে হরতাল ঘোষনা করেছিল বিএনপি। সেই হরতাল কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে সেদিন মিছিলে অতর্কিত ভাবে পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটার শিকার হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল।
সেদিনের পুলিশের সেই বর্বরোচিত হামলার দৃশ্য টেলিভিশনের পর্দায় ও পরের দিন পত্র-পত্রিকার পাতায় দেখে সারাদেশের মানুষ হতবাক হয়ে গিয়েছিল। এ ঘটনায় এটিএম কামাল গুরতর আহত হয়ে দীর্ঘ দিন নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১৭ মে ২০২৬ কামালের উপর পুলিশের সেই পৈশাচিক হামলার ১৪ বছর অতিবাহিত হবে।
সেই দিন বৃহস্পতিবার সকালে হরতাল চলাকালে শহরের ডিআইটি এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিলে তৎকালিন সদর থানার দারোগা নূর মোহাম্মদ অতর্কিত নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের ওপর বেধড়ক লাঠিপেটা করে। কামালকে পেটাতে পেটাতে একপর্যায়ে সে মিছিলের ব্যানারে পেচিয়ে কামালের পায়ের ওপর পড়ে যায়। এরপর আরো ক্রদ্ধ হয়ে কামালকে দফায় দফায় নির্মম ভাবে প্রহার করে সে।
ঘটনার পরে নির্যাতনকারী দারোগা নূর মোহাম্মদের সঙ্গে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “ যা করেছি উপরের নির্দেশেই করেছি। আমার উপর নির্দেশ ছিল যোকোন ভাবেই হোক তাকে থামিয়ে দেওয়ার।” তার এই বক্তব্য সে সময় জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে ছাপা হয়েছিল। পুলিশের এই নির্মম নির্যাতনের প্রতিবাদে ওই দিনই জেলা ও নগর বিএনপি নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এবং তারপরের দিন নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সেদিনের সেই স্মৃতি মনে করে এটিএম কামাল বলেন, হত্যার পরিকল্পনা নিয়েই পুলিশ আমাকে হামলা করেছিল। লাঠি দিয়ে মাথায় একের পর এক আঘাতের পরও আল্লাহর অশেষ রহমতে ঐ দিন আমি প্রানে বেঁচে গিয়েছিলাম। কিন্তু মাথায় ও কানে আঘাতজনিত কারনে চোখ সহ কিছু শারীরিক ক্ষতি আমার সারা জীবনের সঙ্গী হয়ে রইল।
তিনি আরো জানান, মৃত্যুকে কখনো ভয় পাই নাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগনের মৌলিক অধিকার ও গনতন্ত্র পনরুদ্ধারের আন্দোলনে নিজের জীবন বাজি রেখে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। শত নির্যাতন, জেল-জুলুম ও হামলা-মামলার পরও রাজপথ ছাড়িনি।
