তবে কি গিয়াসের শেখানো বুলি আউড়াচ্ছেন ইকবাল?

সান নারায়ণগঞ্জ

গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিরোধিতা করেছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। দলের বহিষ্কার ঠেকাতে ভোটের সপ্তাহ খানিক পূর্বে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে দৃশ্যমান হোন ইকবাল হোসেন। যদিও অনেকে মনে করেন বিএনপি থেকে বহিষ্কার ঠেকাতে নামকাওয়াস্তে ধানের শীষের পক্ষে থাকার অভিনয় করেছেন ইকবাল হোসেন। ইকবালের কেন্দ্র ও পুরো ওয়ার্ডে পরাজিত হয়েছে ধানের শীষ। বর্তমানে ইকবাল হোসেনের ভুমিকা ও তার বক্তব্যে প্রমাণ মিলছে তিনি বাস্তবিকপক্ষে ধানের শীষের পক্ষে ছিলেন না। তিনি গোপনে তার রাজনৈতিক গুরু বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের দিকনির্দেশনা মত কাজ করেছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জের বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন থেকে আজহারুল ইসলাম মান্নান এমপি নির্বাচিত হলেও সিদ্ধিরগঞ্জে ৫ হাজার ৬’শ ভোট কম পেয়েছে ধানের শীষ। সিদ্ধিরগঞ্জের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে ধানের শীষ। ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলরও ইকবাল। ৫ আগস্ট পরবর্তীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হোন ইকবাল। নির্বাচন নাগাদ সময়ে তার বহিষ্কার প্রত্যাহার হওয়ার পর বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী গিয়াসের পক্ষে মাঠে নামেন তিনি। কৌশলে পরবর্তীতে বহিষ্কার ঠেকাতে ধানের শীষের পক্ষে থাকার অভিনয় করেন ইকবাল।

তার অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানকে প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার পর তাকে একসাথে ইকবাল ও গিয়াসপুত্র জিএম সাদরিল ফুলের শুভেচ্ছা জানাতে যান। এতে অনেকে মনে করেন সাদরিল ও ইকবালের মাঝে এই গভীর সখ্যতা প্রমাণ করে ইকবাল ও গিয়াসের মধ্যেও পর্দার আড়ালে গভীর সখ্যতা রয়েছে। এমন অবস্থায় আরো প্রশ্ন ওঠেছে যে, ইকবালের সেই রাজনৈতিক গুরু গিয়াসের শেখানো বুলি আউড়াচ্ছেন ইকবাল।

জানাগেছে, সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জের ২নং ওয়ার্ডে বিএনপির আনাড়ি ধাচের কিছু কর্মীদের নিয়ে একটি বৈঠক করেছেন ইকবাল হোসেন। সেখানে তিনি বর্তমান এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের ভুমিকার বিষয়ে নানা কথা বলেছেন। ইকবাল দাবি করেছেন, আদমজী ইপিজেডে ঝুট ব্যবসা সমানভাবে নেতাকর্মীদের মাঝে বন্টন করে দিতো। সিদ্ধিরগঞ্জের ব্যবসা বানিজ্য অন্যান্যদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ইকবালের পছন্দসই বন্টন করে দিতো। ইকবাল অভিযোগ করেন যে, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে যারা এসব ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেয় তারাই ব্যবসা করে যাচ্ছেন। এখন আরো প্রশ্ন ওঠেছে যে, একজন এমপি অন্যদের বৈধ ব্যবসা বানিজ্য জোর করে কি অন্য নেতাকর্মীদের মাঝে বন্টন করে দিতে পারেন? ইকবাল তার বক্তব্যে আরো কিছু কথা বলেছেন, যে কারনে অনেকে বলছেন ইকবাল তার গুরু গিয়াসের শেখানো বুলি আউড়াচ্ছেন এবং এমপি মান্নানকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্রে নেমেছেন।