সেই মামুন মাহামুদ নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক
সান নারায়ণগঞ্জ
আওয়ামীলীগ সরকারের সাড়ে ১৫টি বছর বিএনপির সকল আন্দোলন সংগ্রামে যার ভুমিকা ছিল। রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে হামলা মামলা জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। ঢাকায় তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেছিলো দূর্বত্তরা। একজন অধ্যাপককে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার করে হাতে হ্যান্ডকাপ ও কোমরে দড়ি বেধে কোর্ট থেকে কারাগারে আনা নেয়া করতো পুলিশ। সেই অধ্যাপক মামুন মাহামুদকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
অধ্যাপক মামুন মাহামুদ ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি শুরু করেন। থানা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতৃত্ব দেন। সেখান থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত জেলা যুবদলের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পূর্বে তাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য সচিব পদে রাখা হয়। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাধারণ সম্পাদক পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। এর আগের আহ্বায়ক কমিটিতে তিনি জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কও ছিলেন।
এদিকে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ১৫ মার্চ রবিবার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করা এবং জেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতেই এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসকবিহীন বা সীমিত কার্যক্রমে পরিচালিত জেলা পরিষদগুলোতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছে সরকার। নতুন প্রশাসকদের নেতৃত্বে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সেবা কার্যক্রম এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সমন্বয় আরও কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই নিয়োগে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই নানা সীমাবদ্ধতার মুখে ছিল বলে স্থানীয় মহলের অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন মহলে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জেলা পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যখাত, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে জেলা পরিষদের সক্রিয়তা বাড়লে জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।
এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও জেলা পরিষদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন প্রশাসকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রশাসকদের মাধ্যমে জেলা পরিষদগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
