সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলে নেতা আছে, যাদের কারনে নেতৃত্ব নাই এক যুগ!

সান নারায়ণগঞ্জ

প্রায় এক যুগ পূর্বে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের কমিটি গঠিত হয়েছিল। সেই কমিটি মেয়াদ শেষেও কিছুদিন নেতৃত্ব বহাল রাখলেও কমিটি নেই গেল ৭/৮ বছর যাবত। ২০১৩ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটিতে থানা যুবদলের সভাপতি মমতাজ উদ্দীন মন্তু কমিটি গঠনের পরপরই নিস্ক্রিয় হয়ে রাজনীতি থেকে আত্মগোপনে চলে যান। যে কারনে বলা যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের নেতৃত্ব নেই এক যুগ ধরে। মহানগর যুবদলের নেতৃত্বে যারাই আসছেন, তারা সিদ্ধিরগঞ্জের নেতাদের মুখের সামনে মুলা ঝুলিয়ে নেতৃত্বের লোভ দেখিয়ে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করিয়েছেন ঠিকি, কিন্তু কমিটি দেননি।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে, মহানগর যুবদলের সর্বশেষ দুই কমিটির নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের ব্যানারে রাজনীতি করেছেন শহিদুল ইসলাম, আরমান হোসেন ও শাহজালাল কালুর মত নেতারা। যুবদলের অন্যান্য নেতারাও নিজ নিজ বলয় নিয়ে যে যার যার করে মত করে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, কখনোওবা মহানগর যুবদলের নেতৃত্বেও রাজপথে থেকেছেন।

সর্বশেষ থানা যুবদলের সভাপতি ছিলেন মমতাজ উদ্দীন মন্তু, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাগর প্রধান, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল প্রধান ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন জুয়েল রানা। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পূর্বে তুমুল আন্দোলনের মাঝে রাজনীতির বাহিরে চলে যান মন্তু। এমন পরিস্থিতিতে থানা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয়ে দায়িত্ব পালন করেন সাগর প্রধান।

পূর্বের কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে আহ্বায়ক করে ২০১২ সালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ১২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবদল। এর আগের কমিটিতে সভাপতি ছিলেন প্রয়াত জাহাঙ্গীর আলম। এই কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন সানোয়ার হোসেন। এই কমিটি মন্তু ও জুয়েল প্রধানের নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের কমিটি ঘোষণা দেন।

২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে সভাপতি, মমতাজ উদ্দীন মন্তুকে সাধারণ সম্পাদক, মনোয়ার হোসেন শোখনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাগর প্রধানকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রশিদুর রহমান রশুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবদল। এই কমিটিতে পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৩ মার্চ নিজেদের স্বপদে বহাল রেখে ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন। ২০২১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী মহানগর যুবদলের এই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবদল।

২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর মমতাজ উদ্দীন মন্তুকে সভাপতি, মনিরুল ইসলাম সজলকে সাধারণ সম্পাদক, সাগর প্রধানকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে ৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবদল। এই কমিটি ঘোষিত হওয়ার পর মহানগর যুবদলের আওতাধীন সকল ইউনিট কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে মহানগর যুবদল। সেই থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের নেতৃত্ব নেই আনুষ্ঠানিকভাবে। এর আগে কমিটি থাকলেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের নেতৃত্বস্থানীয় নেতাদের সক্রিয়তা তেমন একটা ছিলো না। এই কমিটির মন্তু ও সজলও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের নেতাদের কমিটি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে কাজ আদায় করে নিয়েছেন।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট মনিরুল ইসলাম সজলকে আহ্বায়ক, সাহেদ আহমেদকে সদস্য সচিব, সাগর প্রধানকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করে আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবদল। যা সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারী তিন সদস্যের পদ স্বপদে বহাল রেখে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবদল। মহানগর যুবদলের এই কমিটির নেতারাও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের কমিটি দেই দিচ্ছি করে ঘুরিয়েছেন।

রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও খোরশেদ ও মন্তুর আমলের অনেক নেতাদের জায়গা হয়নি সজল সাহেদের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটিতে। মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জরুল আলম মুসা, ইকবাল হোসেন, জুযেল রানার মত বহু নেতাদের জায়গায় দেয়া হয়নি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের রাজনীতিতে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেয়া শহিদুলের জায়গায় হলেও শাহজালাল কালুকে রাখা হয়নি মহানগর যুবদলের কমিটিতে। এখন প্রশ্ন ওঠেছে আর কতকাল সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদল থাকবে নেতৃত্বশূণ্য। কর্মীদের চরমভাবে হতাশ করেছেন মহানগর যুবদলের শীর্ষ দুই নেতা।

মনিরুল ইসলাম সজলকে আহবায়ক ও সাহেদ আহমেদকে সদস্য সচিব করে ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটিতে সিদ্ধিরগঞ্জের নেতাদের মধ্যে আছেন সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাগর প্রধান, যুগ্ম আহবায়ক পদে শেখ মোহাম্মদ অপু, মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ার, আহসান খলিল শ্যামল, আক্তারুজ্জামান মৃধা এবং সদস্য পদে শহিদুল ইসলাম, মো. আরমান হোসেন, আশিকুর রহমান অনি, জুয়েল রানা, এরশাদ আলী, মো. বাদশা মিয়া, মাকসুদুর রহমান শাকিল, রুবেল সরদার, রিয়াজুল আলম ইমন। তাদের সামনে আছে নেতৃত্বের মুল ঝুলানো।